প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: অবিশ্বাস্যভাবে বিএনপির জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে!

দীপক চৌধুরী: অবিশ্বাস্যভাবে জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে বিএনপির। এমনটা হবে তা দলের সমর্থকদের ভাবনার বাইরেও ছিল। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত যে দলটির সমর্থক অনেক বেশি ছিল, সেই দলটির এ অবস্থা কী বিশ^াসযোগ্য? মানুষের বিশ্বাস রয়েছে যে, বিএনপি একটি শক্তিশালী দল। কিন্তু এটা আস্তে আস্তে মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে। নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পদাধিকারীরা দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তাঁরা তা রক্ষা করতে পারেননি এমনটা যারা বলছেন তারা বাস্তবতার বাইরে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পূর্বশর্ত নির্বাচনী প্রচার থেকে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা মাঠ সমতল রাখা। বিএনপি বা অন্যরা যদি বুঝেই থাকেন মাঠ সমতল হয়নি তাহলে নির্বাচনে যাবেন কেন? মোদ্দা কথা, বিএনপির সেই জনবল, সেই জনশক্তি নেই। শুনেছি, বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছেন তাঁদের কারো কারো কাছে এখন বিএনপির আদর্শ নয়, অর্থকড়ির আদর্শ বড় হয়ে গেছে।

তারা নাকি বুঝতে পেরেছেন, লন্ডন থেকে নির্দেশ দেওয়া আর বাস্তবতা বোঝা এক জিনিস নয়। বিএনপির একজন নেতা নাম পরিচয় প্রকাশ না করেই জানালেন, এখন মানুষ অনুমান করতে পারছে যে, বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শের কাছে ষড়যন্ত্রগুলো ছিল ঠুনকো। ১৯৭৫-এর পর একটা সময় ছিল- এদেশে জাতির জনককে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হতো। সাধারণ মানুষ ও এ প্রজন্ম এখন ‘রিয়েলাইজ’ করতে শিখেছে বঙ্গবন্ধু কে ছিলেন! কী নীতি-ধর্ম ছিল। মানুষকে তো সারাজীবন ‘বোকা’ বানিয়ে রাখা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগসমর্থক এক কর্মী আড্ডাচ্ছলে বললেন, ‘ভাই আমাদের কথায় কিছু কী আসবে যাবে? তবে এটা বলতে পারি, এ দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু, এদেশের মহানায়ক তিনি। বর্তমান প্রজন্ম এটা বিশ্বাস করতে পেরেছে।’ মিথ্যা একটা ধাঁধা ছিল দীর্ঘদিন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কারণে এটা কেটে গেছে। আমরা কী দেখছি এখন? পৗরসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বের ফলাফল প্রথম পর্বের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এসেছে। প্রথম পর্বে ২৬টি পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছিল, যার মধ্যে ১৬টিতে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ এবং ২টিতে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হন। দ্বিতীয় পর্বে ৬০টির মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ৪৬টি এবং বিএনপির প্রার্থী ৪টিতে জয়ী হন। স্বতন্ত্র ও অন্য প্রার্থীরা জিতেছেন ৯টিতে। দেশবাসী লক্ষ করেছে যে, প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও পৌরসভা নির্বাচনে প্রচার হয়েছে, ভোটকেন্দ্রেও সকল দলের নেতা গেছেন।

একচ্ছত্র আধিপত্য কারো বজায় ছিল না। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা যদিও মাঠ থেকে সরে যাননি। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং আইন মেনে চলতে বাধ্য করা। তারা সেই দায়িত্বটা শতভাগ পালন না করতে পারলেও চেষ্টা করেছেন। দ্বিতীয় পর্বের পৌরসভা নির্বাচনেও নানা অঘটন, হানাহানি, মারামারি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক হলো সন্ত্রাসীদের হাতে সিরাজগঞ্জে একজন বিজয়ী কাউন্সিলর প্রার্থীর খুন হওয়া। কিন্তু স্থানীয় জনগণ সে রকম প্রতিবাদী হয়নি। আওয়াজ ছিল দুর্বল। অবশ্যই বলতে হবে, নির্বাচন কমিশন নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ না হলেও, ব্যর্থ হয়েছে প্রার্থীর নিরাপত্তা দিতে। সামনে আরও তিন পর্বে পৌরসভা নির্বাচন আছে। সেখানে দায়িত্বশীল হতে হবেই।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত