প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের মাত্র ২ শতাংশ বাকি

ডেস্ক রিপোর্ট: ‘মুজিববর্ষে ঘরে ঘরে জ্বলবে বিদ্যুতের আলো’- প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কথা রেখেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। শতভাগ বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে সারাদেশের ঘরে ঘরে আলো জ্বালাতে আর মাত্র দুই শতাংশ দূরে আছে সরকার। চলতি বছরের জুনের মধ্যে অবশিষ্ট দুই শতাংশও বিদ্যুতের আওতায় চলে আসবে। দুর্গমাঞ্চলের এই দুই শতাংশ এলাকায় সাবমেরিন ক্যাবল এবং সোলার মিনিগ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে কেউ অন্ধকারে থাকবে না, সব ঘরেই আলো জ্বলবে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকার ২০১৯ সালে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেয়। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে তা ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্প্রতি বলেছেন, ‘দেশের শতভাগ এলাকা আগামী জুনের মধ্যে বিদ্যুতায়নের আওতায় চলে আসবে। গ্রিড এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। এটি মোট জনগণের ৯৮ শতাংশ। বাকি ২ শতাংশ পাহাড় বা চর এলাকা। অফগ্রিডের এসব এলাকারও আগামী জুনের মধ্যে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে। একই সঙ্গে দেশ শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসবে। বিদ্যুতায়িত গ্রাম-শহর-উপজেলার সমাজ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে। যা আমাদের উন্নত বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে সহায়ক হচ্ছে।’

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের নভেম্বরই ৯৮ হাজার ৩১৯টি গ্রামের মধ্যে ৯৫ হাজার ২৪০টি গ্রামে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা-কোম্পানিগুলো। এর মাধ্যমে দেশের ৯৮ শতাংশ গ্রামের পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে। এখন বাকি রয়েছে ৩ হাজার ৭৯টি গ্রাম। এসব গ্রামের মোট পরিবারের সংখ্যা ৩ লাখ ৭ হাজার ২৪৬। তাদের বসবাস পার্বত্য, দ্বীপ এবং চরাঞ্চলে। এগুলোতে গ্রিড বিদ্যুৎ সরাসরি পৌঁছানো যাবে না। তাই বিকল্প উপায়ে সাবমেরিন ক্যাবল এবং সোলার মিনিগ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে। এ কাজও অতি দ্রম্নততার সঙ্গে করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

পাওয়ার সেলের তথ্যমতে, বিতরণ সংস্থাগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সবচেয়ে বেশি গ্রাম বাকি রয়েছে। এ সংস্থার অধীন ২ হাজার ৫২ গ্রামে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপরই রয়েছে পলস্নী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় ১ হাজার ১৪টি গ্রাম। এ ছাড়া উত্তর অঞ্চলের কোম্পানি নেসকোর আওতায় ১৭টি গ্রাম এবং রাজশাহী অঞ্চলের ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আওতায় ৯টি গ্রাম। ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণে দায়িত্বরত দুই সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এবং ঢাকা ইলেক্ট্রিসিটি সাপস্নাই কোম্পানির (ডেসকো) আওতায় কোনো গ্রাম বা পরিবার বিদ্যুতের আওতার বাইরে নেই।

জানা গেছে, পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্লান-২০১৫ অনুযায়ী ২০২১ সাল নাগাদ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সাল নাগাদ ৪০ হাজার এবং ২০৪১ সাল নাগাদ ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুৎ উপাদন সক্ষমতা (ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ) বর্তমানে ২৩ হাজার ৫৪৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। আর বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ৮৭ লাখ।

তথ্য বলছে, ২০০৯ সালে দেশের ৪৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় ছিল। বাকি ৫৭ শতাংশ মানুষ এর বাইরে ছিল। তখন উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। বর্তমানে ২৩ হাজার ৫৪৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হওয়ায় মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২০ থেকে ৫১২ কিলোওয়াট ঘণ্টায় উন্নীত হয়েছে। ২০০৯ সালে দেশে সেচ সংযোগ ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার। এখন তা ৩ লাখ ৬২ হাজার।

এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ পরিস্থিতি বদলে গেছে। আগে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করে দীর্ঘসময় অপেক্ষায় থাকতে হতো। আর এখন মাইকিং করে খোঁজা হচ্ছে সম্ভাব্য গ্রাহককে। বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়া পরিবারগুলোকে যত দ্রম্নত সম্ভব স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করতে বলা হয়েছে। সংযোগ না পাওয়া পরিবারের খোঁজ পাওয়া গেলে দ্রম্নততর সময়ে তাদের বিদ্যুৎ সেবার আওতায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রম্নতি দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে যে অর্জন, তাতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির বড় ভূমিকা রয়েছে। শিল্প উৎপাদনে গতি সৃষ্টির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও নতুন প্রাণ পেয়েছে। এখনো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে এই গতি আরও অনেক বেড়ে যাবে বলে তাদের অভিমত।

বাংলাদেশের সংবিধানে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কথা বলা হয়েছে। যা পূরণ করতে সময় লাগল ৫০ বছর। ১৯৯৫ সালে ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ ছিল ৯০ ভাগ। তখন বাংলাদেশে শহরকেন্দ্রিক বিদ্যুৎ সুবিধা ছিল। ভারত এখনো শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিতে পারেনি।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য জহিরুল ইসলাম বলেন, তারা শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে। যেসব গ্রামে একেবারেই গ্রিড পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, সেসব গ্রামের জন্য সোলার হোম সিস্টেম লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যায় যায় দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত