প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরে তুমি কি সবসময় আমার সাথে ডাক্তারি করবা?

ডেস্ক রিপোর্ট  : এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্নশিপ পর্বে এসে প্রথম বারের মতো বিয়ে করতে সম্মতি জানালো বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান মিলি।গত পাঁচ বছরে শত শত বিয়ের প্রস্তাব এক কথায় নাকোচ করে দিয়েছে শুধুমাত্র ডাক্তারি টা মন দিয়ে শেখার জন্য। কিন্তু এবারের প্রস্তাব টা একটু ভিন্ন ছিল।পাত্রের মা পাত্রী দেখার আগেই অদ্ভুত দুটি শর্ত জানিয়ে দিয়েছে ঘটককে।(১) মেয়েকে অবশ্যই ডাক্তার হতে হবে। (২) বিয়ের পরে বউমা কোনো চাকরি বা পড়াশোনা করতে পারবে না।গৃহিণী হয়ে কাজের মেয়ে ছাড়াই বাড়ির সব কাজ একা হাতে করতে হবে।😲

দ্বিতীয় শর্ত শুনে ঘটককে ধমক দিলেন মিলির বাবা – “আমার মেয়ের পিছনে এত ভালো ভালো পাত্র ঘুরছে আর আমি কিনা এমন ফালতু শর্তে মেয়েকে অপাত্রে দান করবো?”
ঘটনা শুনে মিলি বলল “আমি ঐ বাড়িতেই বিয়ে করতে চাই। ওনাকেই শাশুড়ি হিসেবে চাই।বাবা তুমি বিয়ে কনফার্ম করো।”
এখনো বরকে দেখেনি মিলি। দেখার দরকারও নেই।সে ঐ বাড়িতেই বিয়ে করবে এটা ফাইনাল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও মিলির জেদে রাজি হতে বাধ্য হলেন বাবা-মা। ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে গেলো।

শ্বশুর বাড়িতে পা রেখেই শাশুড়ির অদ্ভূত শর্তের কারণ বুঝে ফেললো মিলি। নতুন বউ দেখতে প্রতিবেশীরা এসেছে। মিলির শাশুড়ি গলা বাজিয়ে বলে উঠলো “এই যে জরিনা ভাবি, আপনার বউমা ডাক্তার বলে খুব তো ভাব নেন,আমার বউমাও ডাক্তার!😎”
শাশুড়ি আবার বলে উঠলো “আর এই যে মায়া ভাবি, আপনার গৃহিণী বউমা নাকি একাই বাড়ির সব কাজ করে ফেলে?দেখে নিয়েন আমার বউমাকে।”
মিলি বুঝলো শুধুমাত্র প্রতিবেশীদের সাথে টক্কর দিতেই “গৃহিণী ডাক্তার বউমা” নামক বলীর পাঁঠা খুঁজছিলেন শাশুড়ি।
কিন্তু তাতে মিলির কিছু যায়ে আসেনা!

পরের দিন মিলি ঘুম থেকে উঠলো ৮ টায়। শাশুড়ি চেঁচিয়ে বললো “বাড়ির বউ সকালে উঠে নাস্তা বানায় জানো না?”
মিলি– “ওমা, আমি যে ডাক্তার! নাস্তা কেন বানাবো? আসুন মা আপনার প্রেশার টা মেপে দেই। আপনার হাইপোথ্যালামাস উত্তেজিত হয়ে গেছে!😊”

শাশুড়ি: চুপ করো। শ্বশুর বাড়িতে পাঠানোর আগে বাপ-মা কিছু শেখায়নি?”
মিলি: (হাসতে হাসতে) জ্বী,ডাক্তারি শিখিয়েছে।আমার লেফট ভেন্ট্রিকলের কসম!😁
—“চুপ😠যাও বাসন মাজো,আর কাপড় কাচো।”
—“ওমা,আমি যে ডাক্তার!ওসব কেন করবো?এখন তো হাসপাতালে যাবো!
শাশুড়ি: শর্ত ছিল তুমি ডাক্তারি ছেড়ে দেবে।ভুলে গেলে নাকি?

মিলি: মা,আমারও তো শর্ত ছিল,যা সংবিধানে নেই তা আপনি আমাকে দিয়ে করাতে পারবেন না। সংবিধানে কোথায় আছে আমাকে ডাক্তারি ছাড়তে হবে বলুন?”
—“এই মেয়ে তুমি কখন শর্ত দিলে? মিথ্যা কথা।”
—“তাহলে আপনার শর্তও মিথ্যা কথা।কারোর কাছেই লিখিত প্রমান নেই😁।”
শাশুড়ি ঘাবড়ে গিয়ে বললো,
–“ঘর গুছিয়ে তবেই যেখানে পারো যাও।”
—“ওমা,আমি যে ডাক্তার! আমার কাজ তো ট্রিটমেন্ট করা।ঘর কেনো আমি গোছাবো??”
—“এমন ভাব করছো যেনো আর কোনো ডাক্তার সংসার করেনা?”

–“করে কিন্তু ভার্টিব্রাল কলাম থাকলে কেউ স্ক্যাপুলা দেখিয়ে ডাক্তারি ছেড়ে দেয় না! আপনার সুগার টা মেপে দেই আসুন মা!”
—“আরে চুপ করো।মায়া ভাবির বউমা বাড়ির সব কাজ করে।যাও দেখে শিখে এসো।”
—“মা, আমার বান্ধবীর শাশুড়ি ভার্সিটির শিক্ষক।যান দেখে শিখে আসেন!”
—“খোদা গো…এই বউ আমি রাখবো না। আজকে খোকা আসুক।”
—“সে কি! আমি না ডাক্তার??আমাকে বের করে দিলে পুলিশ আপনার হিউমেরাস-ফিমার ভেঙে দেবে মা!
—“ডাক্তার বলে মাথা কিনেছো?”

—“জ্বী না,স্টেথো কিনেছি! আসুন মা আপনার হার্ট বিট চেক করি!”
—“আরে তুমি কি সবসময় আমার সাথে ডাক্তারি করবা??”
—“মা,আপনার তো বয়স হয়েছে।ইন্টারভার্টিব্রাল জয়েন্টে ব্যাথা হয়না?
—“সেটা আবার কি?”
(মিলি হাসছে।ওর শাশুড়ি পাঁচ আঙুল উঁচিয়ে ওকে থাপ্পর দেখালো।)
মিলি বললো: “মা আপনার আলনার নার্ভকে বলুন হাত নামিয়ে নিতে!না হলে ফ্যালাঞ্জেস মচকে দেব!”
—“এই মেয়ে তুই বাংলায় কথা বল😠”
—“আচ্ছা! আপনার কশেরূকা,উরঃফলক আর পর্শুকার কসম, আমাকে মারবেন না!আমি যে আপনার শখের ডাক্তার বউমা!”
ঘর্মাক্ত শাশুড়ি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে বললেন:
—“তুই শর্ত মানবি না তো আমার হাড় জ্বালাতে কেন এ বাড়িতে আসলি??”
—“আমি না আসলে যে অন্যকেউ এসে বিপদে পড়ে যেতো!”
©Tanjina tasnim
Mymensingh Medical College

 

এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্নশিপ পর্বে এসে প্রথম বারের মতো বিয়ে করতে সম্মতি জানালো বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান মিলি।গত পাঁচ…

Posted by ডক্টরস ডায়েরী – Doctors’ Diary on Saturday, January 16, 2021

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত