প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চীনের সঙ্গে বাইডেনপুত্র হান্টারের ব্যবসা নিয়ে এফবিআইয়ের তদন্তে শ্লথগতি!

দেবদুলাল মুন্না: [২] গতবছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অনেক আগে থেকে এ তদন্ত গোপনে শুরু হলেও এখন আর প্রকাশ্যে কিছু জানা যাচ্ছে না। আদৌ তদন্ত হচ্ছে কি না এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দুই মার্কিনি আইনবিদ। তারা হচ্ছেন, নোম স্টেনলি ও জ্যাক মার্রস।

[৩] চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করার কারণে প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত জো বাইডেনের দ্বিতীয় ছেলে রবার্ট হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করছিল যুক্তরাষ্ট্রের আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ও এফবিআই। তবে, এর সঙ্গে জো বাইডেন জড়িত নন বলে ইতোমধ্যেই সিএনএন একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

[৪] এবিসি নিউজ জানায়, মার্কিন নির্বাচনের আগে বাইডেনের ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এ তদন্তকে উৎসাহিত করেছিল। সেসময় তদন্তকারীরা হান্টার বাইডেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও অন্য দেশ মূলত চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তির সময় অর্থ পাচারসহ কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের বিষয় পরীক্ষা করে দেখেন।

[৫] সিএনএন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে বলে দেশটির বিচার বিভাগের নিয়ম মেনেই এতদিন তদন্তের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। কিন্তু দুই আইনবিদ নোম স্টেনলি ও জ্যাক মার্রস মনে করছেন, এখন তো আর কোনো কিছু গোপন রাখার বিষয় নয়। তবে এখন কেন জানা যাচ্ছে না সেই তদন্তের অগ্রগতি।

[৬] হান্টার বাইডেন অবশ্য সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন ,আমি বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমার বিশ্বাস, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হলে দেখা যাবে যে আমি আইন মেনে ও যথাযথভাবে কাজ করেছি। কোনো ধরণের অনিয়ম করিনি। করফাঁকিও দিইনি।

[৭] সিএনএন ও এবিসির প্রতিবেদন মতে, ২০১৮ সালের শুরুতে প্রথম এই তদন্ত শুরু হয়। গত অক্টোবরে সিনক্ল্যায়র ব্রডকাস্ট গ্রুপ সংবাদ প্রতিবেদনে বলেছিল, হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই। সিএনএন বিষয়টির খোঁজ নিতে গিয়ে ‘চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি’র বিষয়টি জানাতে পারে।

[৮] ছেলের বিরদ্ধে এই তদন্ত বাইডেনকে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা’র প্রতীজ্ঞাকে পরীক্ষায় ফেলবে বলেও সিএনএন প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।

[৯] এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত এটর্নি রুডি জুলিয়ানি বারবার একটি ল্যাপটপকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদের কথা বলে আসছিলেন। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, সেই ল্যাপটপটিতে হান্টার বাইডেনের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি বাণিজ্য বিষয়ক তথ্যও রয়েছে। কম্পিউটার মেরামত করেন এমন এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এফবিআই ২০১৯ সালের শেষের দিকে সেই ল্যাপটপটি জব্দ করে। অথচ, এফবিআই ও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন এরকম কোনো তদন্তের অস্তিত্বই নেই।
তবে তদন্তকারীরা চীনের সঙ্গে হান্টার বাইডেনের ব্যবসায়িক চুক্তির ওপর জোর দিচ্ছেন। এসব বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কিছু কিছু গত সেপ্টেম্বরে রিপাবলিকান সিনেট সদস্যদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে উঠে এসেছিল।

[১০] মুলত ২০১৭ সালে জো বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার পর হান্টার বাইডেন সিইএফসি চায়না এনার্জির সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করেন। রিপাবলিকানদের দেওয়া তথ্য মতে, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা ছিল। তবে তদন্তের অন্যতম বিষয় হচ্ছে, সিইএফসির প্রতিষ্ঠাতা ইয়ে জিয়ানমিংয়ের কাছ থেকে ২ দশমিক ৮ ক্যারেটের হীরা উপহার নেওয়া।

তবে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত জো বাইডেন সিএনএন’কে এক সাক্ষাৎকারে স্বাধীন বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার অনুরোধ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমি তাদেরকে (বিচার বিভাগকে) বলব না তাদের কী করতে হবে আর কী করতে হবে না।তিনি আরও বলেছিলেন, এটি আমার বিচার বিভাগ নয়, এটি জনগণের বিচার বিভাগ। রিপাবলিকাররা মনে করছেন, হান্টারের এই ঘটনা বাইডেনের চীন-নীতি তৈরিতে প্রভাব ফেলবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত