প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৬

সুজন কৈরী : [২] ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রæপের সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি টিম। চক্রটি বিভিন্ন নিরীহ ব্যবসায়ীদের টেলিফোন নম্বর সংগ্রহ করে চাঁদাবাজি করছিলো। তারা তিনগ্রæপে বিভক্ত হয়ে চাঁদাবাজি করতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।

[৩] বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, তুরাগ ও পল্টন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বেল্লাল খান, রাকিব খান টিটুল, মো. আবদুল হান্নান, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. সোহাগ এবং খোরশেদ আলম। তাদের কাছ থেকে মোবাইল, সিমকার্ড ও নথিপত্র উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে চক্রের প্রধান বেল্লাল খান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

[৪] শনিবার বেলা ১২ টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস্ বিভাগের ডিসি (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. ওয়ালিদ হোসেন বলেন, বেশকিছুদিন আগে কক্সবাজারের এক ব্যবসায়ীর কাছে মোবাইল ফোনে টাকা চওয়া হয়। টাকা না দিলে তাকে ও তার ছেলেকে হত্যা-গুম করবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। ওই ব্যবসায়ী ভয় পেয়ে প্রতিমাসে তাদের পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে থাকেন। এভাবে তাদেরকে ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী। এরপর ওই চক্রটি তার কাছে আরও বড় অঙ্কের টাকা দাবি করলে তিনি ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ করেন।

[৫] ওই ব্যবসায়ী খুলনা, নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যবসা করতেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এডিসি মনিরের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু করে। চক্রটি ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রæপ। চক্রের প্রথম গ্রæপের সদস্যরা ঢাকার নীলক্ষেতের পুরাতন বইয়ের দোকান থেকে, বিভিন্ন বই ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির বার্ষিক সদস্যদের (ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরের তালিকা) টেলিফোন গাইড সংগ্রহ করে দ্বিতীয় গ্রæপকে দেয়। দ্বিতীয় গ্রæপ ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রæপের জিসানের নাম করে সেভেন স্টার গ্রæপের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ফোনে টাকা চেয়ে থাকে। তাদের ফোনে অনেকে ভয় পেয়ে টাকা দিয়ে দেন। তারা ভিকটিমদের বিকাশ বা নগদের বিভিন্ন হিসাবে টাকা দিতে বলে। তৃতীয় গ্রæপটি ওই হিসাব থেকে টাকা সংগ্রহ করে।

[৬] পুলিশ কর্মকর্তা ওয়ালিদ হোসেন জানান, প্রথমে গ্রæপের প্রধান বেল্লাল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার টুআইসি টুটুল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পর্যায়ক্রমে গ্রæপের আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি ডাইরি উদ্ধার করা হলে তার মধ্যে ভিকটিমদের তালিকা পাওয়া যায়। এই গ্রæপটি মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশাল কেন্দ্রীক কাজ করে। তাদের একটি গ্রæপ ঢাকায় রয়েছে। গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজি আইনে ছয়টি মামলা রয়েছে। এরা কিভাবে বিকাশ কিংবা নগদের হিসাব নম্বর খোলে এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়ালিদ হোসেন বলেন, এরা বিভিন্ন নিরীহ লোক ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে হিসাব খোলে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত