প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভিক্ষা নয় পরিশ্রমে স্বাবলম্বী প্রতিবন্ধী ফরিদ

আশরাফ আহমেদ: [২] মোঃফরিদউদ্দিন। বয়স ৩১। ২০ বছর ধরেই বাড়িবাড়ি হাঁস-মুরগি ক্রয় করে বাজারে এনে বিক্রি করেন। তার দু পা নেই। তবুও মুরগি ক্রয়ের জন্য রিকশা চালিত ভ্যানে করে প্রতিনিয়ত ছুটে চলে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। তারপর বিভিন্ন হাট-বাজারে হাঁস-মুরগি গুলো বিক্রি করেন।

[৩] ফরিদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার বিশ্বনাথ পুর গ্রামে। অভাবের সংসারের কারণে লেখাপড়া হয়ে ওঠেনি। সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে পড়ছে। সামান্য পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করছেন ফরিদ। সারাদিন মুরগি সংগ্রহ করে স্থানীয় হোসেনপুর বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। তাতে দৈনিক চারশ থেকে ৫০০ টাকা উপার্জন হয়। এ দিয়ে তিন সদস্যের সংসার ও ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে নিজে থাকার জন্য বাড়ি তৈরি করেছেন এবং কিশোরগঞ্জ সদরের পাঁচ শতাংশ জায়গা কিনেছেন। ফরিদ শত প্রতিবন্ধকতার ভেতরেও ছেলে হিমেলকে পড়াশোনা করিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে ছেলে গলাচিপা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত। ফরীদের স্বপ্ন তার ছেলে লেখাপড়া শিখে একদিন অনেক বড় হবে।

[৪] ফরিদ বলেন, ছেলেমেয়ে যখন লেখাপড়া করতে টাকা চায় তখন নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়। মনে হয় আমি যেন জগতের একমাত্র ব্যর্থ পিতা। পাঁচ বছর বয়সে অসুস্থ হয়ে পড়ি। মা বাবা চিকিৎসার টাকা না থাকায় আমাকে চিকিৎসা না দেওয়ার কারণে পা দুটি বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। সেই ছোট থেকেই খোঁড়াফরিদ নাম। অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মাঝে জীবনের ৩০ বছর পার করেছি। কিন্তু কারো দয়া অনুগ্রহের পরশপায়নি। কারো কাছে ভিক্ষা চাইতে বা হাত পাততে খুব লজ্জা লাগে। তাই ব্যবসার পথ বেছে নিয়েছি। এ ব্যবসা করতে অনেক কষ্ট হয়। তবুও অভাবের সংসারে স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে দু’বেলা আহার তুলে দিতে পারছি।

[৫] প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে বর্তমান সরকারের সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বলেন, প্রতিবন্ধী কার্ড পেয়েছি এবং তাতে যে ভাতার টাকা পায় সেটা আমার চাহিদার তুলনায় খুবই কম। আমার পুঁজি স্বল্প থাকায় বড় পরিসরে ব্যবসা চালাতে পারছি না। তবুও কারোও দয়া বা ভিক্ষাবৃত্তি নয় নিজের চেষ্টায় কিছু করতে সর্বদা সংগ্রাম করে যাচ্ছি। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত