প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ট্রাম্প নয়, ট্রাম্পোইজম নিয়ে আলোচনাই বেশি জরুরি, ওয়েবিনারে বললেন বিশ্লেষকরা

সালেহ্ বিপ্লব: [২] আলোচকরা বলেন, ট্রাম্পের চেয়ে আমেরিকায় ট্রাম্পোইজম অধিক শক্তিশালী। আমেরিকার রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় ব্যক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেন্দ্রবিদুতে রাখলে মূল পরিস্থিতি আড়া লেই থেকে যাবে। ট্রাম্পের রাজনীতির উপাদানগুলোর দিকে মনোযোগ না দিলে ঘুরে ফিরে ট্রাম্পের রাজনীতিই আমেরিকায় প্রধান হয়ে উঠবে।

[৩] বুধবার স্থানীয় সময় রাতে টরন্টো থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত ‘শওগাত আলী সাগর লাইভ’ অনুষ্ঠানে ‘ট্রাম্পের রাজনীতির শেষ নাকি শুরু’ শীর্ষক  এ আলোচনায় উত্তর আমেরিকার রাজনীতি বিজ্ঞানী ও বিশ্লেষকরা অংশ নেন।

[৪] তারা বলেন, আমেরিকার শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা কিংবা ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনা আমেরিকার গণতন্ত্রকে কোনো সংকটে ফেলবে না। কিন্তু সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে বৈষম্য আছে সেগুলোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

[৫] কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আহমেদ শফিকুল হক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায়ের মধ্য দিয়ে আমেরিকার রাজনীতিতে ভদ্রতা এবং সৌজন্যতা তৈরি হবে। রাজনৈতিক দলগুলো ্ও তাদের প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে আরো যত্নশীল হবেন। তিনি প্রশ্ন করেন, আমেরিকা সারা দুনিয়ায় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে, কোথায় কী হচ্ছে- সেই তথ্য তারা সবার আগে জেনে যায়, অথচ নিজ দেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে এমন একটি সহিংস ঘটনার খবর তারা আগেভাগে জানতে পারলো না কেনো?

[৬] তিনি বলেন, যে কোনো সমাজেই অনেক রকম বৈষম্য থাকে। কিছু কিছু গোষ্ঠী বৈষম্যগুলো ব্যবহার করে জনগণকে উসকে দেয়। এই বৈষম্য এবং মৌলিক সমস্যাগুলো নিয়ে অবশ্যই আমেরিকার নতুন সরকারকে আরো মনোযোগি হতে হবে।

[৭]টেক্সাসের এ অ্যান্ড এম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মেহনাজ মোমেন বলেন, আমেরিকার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় মিডিয়া থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবীরা খালি চোখে যা দেখা যায় তা নিয়েই কথা বলছেন। কিন্তু এর বাইরে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যা আমেরিকা বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

[৮] তিনি বলেন, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিকটাকে আলোচনায় আনতে হবে। গত ১৫/ ১৬ বছরে আমেরিকায় ডান এবং বামপন্থী – দুটি জনপ্রিয় গণজাগরণ তৈরি হয়েছে। বার্নি স্যান্ডার্সে নেতৃত্বে তৈরি হ্ওয়া বাম জাগরণে সমাজের এলিট সম্প্রদায়ের সমর্থন এবং সম্পৃক্ততা ছিলো। কিন্তু ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জাগরণে এলিট শ্রেণীর সাথে সাধারণ নাগরিকরাও যোগ দিয়েছে। তার ফলশ্রুতিই আজকের আমেরিকা এবং ট্রাম্পের রাজনীতি।

[৯] কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন সম্পাদক, গণমাধ্যম বিশ্লেষক ও সাংবাদিক সৈকত রুশদী বলেন, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডসহ হাতে গোনা কয়েকটি দেশ বাদ দিলেই বিশ্বব্যাপী এখন ডানপন্থী রক্ষণশীলদের উত্থান পর্ব চলছে। ট্রাম্পের বিদায়ের মধ্য দিয়ে আমেরিকার রাজনীতি থেকে ডানপন্থীদের প্রভাব কমে যাবে-তেমনটা ভাবার সুযোগ কম।

[১০] ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেসবুক এবং টুইটার একাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সৈকত রুশদী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টুইটার, ফেসবুকে একাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা একটি কর্পারেশনের হাতে ছেড়ে দেয়া ভালো কথা না। তিনি এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা- বিতর্কের প্রস্তাব করেন।

[১১] নতুনদেশ-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে কাজে লাগিয়ে অভিবাসীপ্রধান দেশগুলোয় রক্ষণশীল রাজনীতির বিকাশ ঘটানো হচ্ছে। উদারপন্থী রাজনৈতিক দল এবং সরকারগুলো এই বৈষ্যম দূর করার উদ্যোগ না নিলে ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে চরমপন্থার বিকাশের মাধ্যমে অভিবাসীবিরোধী মনোভাব প্রকট হয়ে উঠবে।

সর্বাধিক পঠিত