প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নড়াইলে এক অন্য মাশরাফী

স্পোর্টস ডেস্ক: চিত্রায় দাপিয়ে বেড়ানো সেই কৌশিক থেকে আজকের সাংসদ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এই আজকের মাশরাফী হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে ২০ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার। মাশরাফী নড়াইলে গেলে সেখানে প্রতিটা দিনই উৎসব।

এর সঙ্গে যদি একটা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট যোগ হয়ে যায় তাহলে তো জমে ক্ষীর। ঠিক তেমনটাই হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়া বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের আদলে ৫টি দল নিয়ে গত ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে শুরু হয় ‘বঙ্গবন্ধু বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টি কাপ’। লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে গত (মঙ্গলবার) ১২ জানুয়ারি ।

টুর্নামেন্টের ফাইনালে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার উপস্থিতি থাকা নিয়ে ছিল ঘোর। খুব মানুষই জানতেন মাশরাফীর উপস্থিত থাকার কথা। বলা যায় চমকে দেয়ার জন্যই জানানো হয়নি তিনি যাবেন।

রাতে রওয়ানা দিয়ে ভোরে পৌঁছে সকালে একটু বিশ্রাম নিয়েই ছুটে যান মাঠে। সেটিও আবার কোনো গাড়ি বা প্রোটোকলের মধ্য দিয়ে নয়, তিন চাকার ভ্যানে করে চলে যান মাঠে। সবাইকে চমকে দিয়ে দিন শুরু ফাইনালের দিনের। টুর্নামেন্টের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় থাকা মাশরাফী ম্যাচের অর্ধেকটা সময় কাজ করেছেন আয়োজক কমিটির একজন সদস্যের মতো।

আমার তিনটা পার্ট। খেলোয়াড়, পরিবার আর সাংসদ। যখন পরিবারের সঙ্গে থাকি তখন অন্যসব ‘সুইচ অফ’। ঠিক তেমনটা খেলার মাঠে সাংসদ আর পরিবার সুইচ অফ আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাকি দুইটা বন্ধ। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ম্যাচের বাকি অর্ধেক সময় দিয়েছেন মাঠে উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে। গোটা মাঠ হেটে হেটে ছবি তুলেছেন গ্যালারীতে থাকা দর্শকদের সঙ্গে। গ্যালারীর লোহার বন্ধনীটা যেন নিমেষেই মিলে গেছে ভালোবাসার কাছে।

যে যেভাবে বলেছে, মাশরাফী সেভাবে শুনেছে। মাঠে মাঠের বাইরে কাউকেই ‘না’ শুনতে হয়নি। মাশরাফী অবশ্য কখনোই না করেননি ভক্তদের ছবি তোলার ব্যপারে। এদিন যেন রোদ না চাইতে বৃষ্টি। ফাইনাল ছাপিয়ে দিনটা হয়ে ওঠে মাশরাফীময় একটা দিন।
ম্যাচ শেষে মাশরাফী হয়ে ওঠেন একজন বিচারক। তার গড়া ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন’ এর নামেও একটা দল অংশ নিয়েছিল টুর্নামেন্টে। প্রাণপণ চেষ্টা করেছে, বাহবা পেয়েছে ঠিকই তবে জিততে পারেনি একটা ম্যাচও। তাদের ডেকে প্রথমে কড়া কথা শোনালেও শেষে ঠিকই সাহস দিয়ে বলেন, এটাই তো শেষ না। অনেকটা পথ বাকি।

এরপর একটু রাজনীতির সুইচটা অন না করলে কেমন হয়। সত্তোরউর্ধ্ব এক মুক্তিযোদ্ধা একটা বিচার নিয়ে এসেছেন, সেটারও তাৎক্ষণিক একটা ব্যবস্থা করে দেন পুলিশ সুপারকে ডেকে। এর বাকি থাকা পরিবারকে একটু সময় দেয়া। যাবার বেলা ঘনিয়ে এসেছে। নিতে হবে বিদায়। ‘আম্মা আমি গেলাম’ বলে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মামা-মামির সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় দেয়া। এরপর ছুটতে হয়েছে যশোর বিমানবন্দরের উদ্দেশে। তার আগে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা জানালেন সন্তুষ্টির কথা।
এই তো শুরু। এবার হয়তো কিছু কিছু জায়গায় ঘাটতি ছিল, সেসব আগামী বার ইনশা আল্লাহ্ আর থাকে না। এই টুর্নামেন্টটা নিয়মিত হবে। শুধু ক্রিকেটই নয়, ফুটবল ভলিবলসহ সব খেলাধুলা সচল রাখার চেষ্টা করা হবে। – আরটিভি নিউজ

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত