প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী : রেলওয়ের লুটপাটকারীরা যাতে ধরা না পড়ে সুকৌশলে এই ব্যবস্থাটি করা হয়!

দীপক চৌধুরী: বাংলাদেশ থেকে বহু আগে জমিদারি প্রথা চলে গেলেও রেলওয়ে এখনো যেন জমিদার। সারাদেশে তার জায়গা-জমি । অন্যায়ভাবে দখল করে কারখানা, দোকান, বাড়ি, গ্যারেজ, মাছ-সব্জি ব্যবসা চলছে। উদ্ধারের নামে কিছুদিন দৌড়াদৌড়ি চলে, যেনো নাটক! অর্থাৎ এ সেক্টরে ভয়ঙ্কর নৈরাজ্য চলছেই। এতোকিছু চলছে কীভাবে? অবাক হয়ে যাই। কেন, ভ্রাম্যমান আদালত নেই? প্রতিমাসে অভিযান চলে না কেন? রেলওয়ে এদেশের মানুষের পছন্দের গণপরিবহন। তবু লোকসান কেন? ট্রেন বন্ধ করে দেওয়া হবে? না, বিষয়টিই হাস্যকর। লোকসান কমানো যাবে কী? না, কোনোভাবেই না। কারণ, চুরি বন্ধ করার হিম্মত লাগবে। সেই হিম্মতের দেখা পাই না আমরা। আমরা দেখেছি, নানারকম ঝড় এসেছে বিভিন্ন সময়। কিন্তু চক্রান্তকারীরা কখনো তাদের নির্ধারিত অপকর্মের জায়গা পৌঁছুতে পারেনি। কারণ, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সাধারণ কর্মচারিরা প্রয়োজনে কঠিন হয়েছেনও। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলেও দরিদ্রবান্ধব এই সেক্টরে দুর্নীতিবাজদের যেনো সরানোই যাচ্ছে না। একটি শীর্ষ স্থানীয় দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনাগ্রহের কারণে দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় এ সময়ও অর্থাৎ এখনো ৯২টি মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চালু হয়নি। করোনা সংক্রমণের কারণে প্রায় দুই মাস যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকা, পরে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে ট্রেন পরিচালনা এবং লোকালসহ কিছু ট্রেন চালু না করায় আয়ও কমেছে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি যে, কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মচারির কারণে রেলওয়ের টিকিট নিয়ে সীমাহীন দুর্নীতি হয়ে থাকে। চাইলে টিকিট পাওয়া যায় না। অথচ টিকিট কাউন্টার থেকে খানিক দূরে দাঁড়ালেই ‘টিকিট লাগবে’ শোনা যায়! রেলওয়ের প্লাটফর্মে দাঁড়ালেই সেই অশরীরী প্রেতাত্মাদের আওয়াজ শোনা যায়।

রেলওয়ে হলো সবচেয়ে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহন। কিন্তু ১৯৭৫-এ জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর প্রতিটি সরকার গরিববান্ধব এই পরিবহনের ওপর ক্রমাগত অবহেলা দেখিয়ে আসছে। একপর্যায়ে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় তুলে দিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একীভূত করা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রেলওয়ে নামে আলাদা মন্ত্রণালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানালেন, দেশে ৩৫৯টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। ঢাকা-কলকাতা পথে চলে চারটি ট্রেন। এর মধ্যে আন্তগর ট্রেনের সংখ্যা ১০৪টি। বাকি সব কটি মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন।

লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকা উচিৎ কী না – এ প্রশ্ন উঠেছে। রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম লোকাল ট্রেন চালু না হওয়ার কারণ হিসেবে লোকবল ও ইঞ্জিন ঘাটতির কথা বলেছেন। বিভিন্ন সময় রেলওয়ের পক্ষ থেকে অবিশ^াস্য নানা যুক্তি তুলে ধরা হয়। এত বছর পরও কেন রেলওয়েতে লোকবল ও ইঞ্জিন ঘাটতি? এ প্রশ্ন এখন জোরেশোরে উঠেছে। রেলওয়ের সমস্যা লোকাল ও কমিউটার ট্রেন নয়, সমস্যা হলো ব্যবস্থাপনার। দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত না করতে পারার। অবিলম্বে মেইল ও কমিউটার ট্রেন, রেলওয়ের বন্ধ থাকা লোকাল চালু করা যে কত প্রয়োজনীয় তা বলে বোঝানো মুশকিল। এর চেয়ে জরুরি- রেলওয়ের দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করা। এটা করতে পারলে রাষ্ট্রীয় এই পরিবহনটিকে লোকসানের বোঝা বইতে হবে না।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত