প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গাড়ি চুরি ও দোকান লুট চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

সুজন কৈরী : [২] গাড়ি চুরি ও দোকান লুট চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মো. সিদ্দুকুর রহমান, মো. নুরু মিয়া, মো. হেমায়েত হোসেন ওরফে হিমু ও মো. আবুল বাশার।
শনিবার গাজীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ী চুরি প্রতিরোধ টিম। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১টি প্রাইভেটকার, ১টি মোটরসাইকেল, ১টি তালা কাটার কার্টার, ১টি ল্যাগেজ, ১৯টি কাটা তালা, ৬টি অ্যান্ড্রয়েড ডেমো মোবাইল ফোন, ১৬টি এয়ারটেল সিম, ২টি ডেবিট কার্ড ও ৪টি এনআইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
[৩] রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএমপির গোয়েন্দা অফিস কম্পাউন্ডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, মিরপুর এলাকায় চুরির ঘটনায় গত ৬ জানুয়ারি মিরপুর মডেল থানায় মামলা হয়। গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে। এর সূত্র ধরেই চক্রের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৪] তিনি বলেন, চক্রের মূল কাজ হল গাড়ি ছিনতাই। ছিনতাইকৃত গাড়ি দিয়ে ঢাকার আশপাশে আশুলিয়া, গাজীপুর ও ঢাকার উত্তরায় বাজার ও দোকান-পাট লুট করে। এই চক্রের আরও কিছু সদস্য আছে। তাদের কাজ হলো রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রাইভেট কার কিংবা মোটরসাইকেল ছিনতাই করা। সেই গাড়িটি তারা ছিনতাই ও চুরির কাজে ব্যবহার করত। চুরি ছিনতাইয়ের কাজ শেষ হলে নিজেরা বাঁচতে কোনো এক নির্জন স্থানে গাড়ি ফেলে রেখে চলে যেত চক্রটি।

[৫] পুলিশ কর্মকর্তা হাফি আক্তার আরও বলেন, এই চক্রটি বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চুরি ও ছিনতাই করে। গ্রেপ্তারকৃতরা ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে রাতে বিভিন্ন দোকানপাটে চুরি ও ছিনতাই করতো। চুরি-ছিনতাই করাকালে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য তারা রাতের বেলা বেছে নেয়। রাস্তার পাশে বিভিন্ন দোকানে বিশেষ করে মোবাইল দোকানগুলোতে চুরি করতো চক্রটি। কোনো দোকানে চুরি করলে সবকিছু নিয়ে নিত, কোনটা আসল আর কোনটা নকল তখনও তাদের দেখার সুযোগ থাকত না।

[৬] গাড়ি চুরি বা ছিনতাই রোধে গাড়িতে ট্র্যাকার মেশিন ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ জানান ডিবির এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ী চুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারি পুলিশ কমিশনার মধুসূদন দাস বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা অত্যন্ত কৌশলে দিনের বেলায় ফেরিওয়ালা সেজে গাড়ীর মালিকদের গাড়ী কোথায় রাখে, কোন দোকান ও বাড়িতে নিরাপত্তাকর্মী নেই এবং চুরি করার আগমন ও প্রস্থানের পথ রেকি করে। পরে চক্রটি গভীর রাতে বা সুবিধামতো সময়ে কার্টার দিয়ে বিভিন্ন বাড়ি ও দোকানের তালা কেটে টাকা, গাড়ী, মোবাইলসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে দ্রæত গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান। গ্রেপ্তারকৃতদের রোববার মিরপুর মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত