প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মৌলভীবাজারের শেরপুরে এবার হচ্ছে না ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

স্বপন দেব: [২] সদর উপজেলার মনুর মুখ এলাকায় প্রায় ১৫০ বছর আগে পৌষ সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে মাছের মেলার আয়োজন করেন প্রয়াত মথুর বাবু নামে এক জমিদার। সেই থেকে প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তিতে এখানে মেলা আয়োজিত হয়ে আসছে। পরবর্তীতে মেলাটি স্থানান্তর হয় উপজেলার শেরপুরে।

[৩] ১৫০ বছরের চলমান এই পরিক্রমায় এ বছরে ছন্দপতন ঘটবে। এবার পৌষ সংক্রান্তিতে (১৪ জানুয়ারি) বসবে না মাছের মেলা। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় এ বছর বসছে না ঐতিহ্যবাহী এ মাছের মেলা।

[৪] জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

[৫] তিনি জানান, মৌলভীবাজারবাসীকে করোনামুক্ত রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনার প্রভাব কেটে যাওয়ার পর আমরা যখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরব তখন যদি এলাকাবাসী অন্য কোন তারিখে এই মেলা আয়োজন করতে চায় আমরা সার্বিক সহযোগিতা করবো।

[৬] মেলা সম্পর্কে এলাকাবাসী জানান, এই মেলার পাশপাশি জেলার শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া,বড়লেখা ও কমলগঞ্জের একাধিক স্থানেও বসে মাছের মেলা। এসব মেলায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাওড়-নদী থেকে তুলে আনা দেশীয় প্রজাতির বড় বড় মাছ তোলা হয়। বিক্রেতারা ৫/৬ মাস আগে থেকে মেলায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। সিলেটের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য স্থান থেকে মাছ নিয়ে আসা হয় এই মেলায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন মেলায়। মেলা উপলক্ষে কয়েক কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয়।

[৭] গত বছরের মেলার ইজারাদার মো: আশরাফ আলী জানান, গত বছর প্রায় ১০ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়েছিল। এ বছর মেলা হবে কি না তা নিয়ে আমরা দ্বিধায় ছিলাম। করোনার কারণে গত বছরের মার্চ থেকেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।

[৮] সদর উপজেলার শেরপুরের বাসিন্দা বিশিষ্ট সাংবাদিক নুরুল ইসলাম জানান, শেরপুরের মাছের মেলা বন্ধ ঘোষণা হওয়ায় ঐতিহ্যের ছন্দপতন ঘটেছে কিন্তু মহামারী করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশাল গণজমায়েত প্রতিহত করতে জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত একটি সময়পোযোগী পদক্ষেপ।

[৯] আমরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত