প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইন্টারপোলে রেড নোটিশ, লিবিয়া চাইলেই ধরা পড়বে ছয় মানবপাচারকারী

ডেস্ক নিউজ: লিবিয়ায় মানবপাচার মামলার ছয় পলাতক আসামির সন্ধান চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। নোটিশ দেওয়ার এক মাস হয়ে গেলেও ছয় মানবপাচারকারী সম্পর্কে এখন কোনও তথ্য দিতে পারেনি পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। এমনকি আশ্রয়দানকারী দেশ লিবিয়ার পুলিশকে সরাসরি এ বিষয়ে একাধিকবার জানানো হলেও তারা কোনও জবাব দেয়নি। সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অনুরোধে ইন্টারপোলে এই রেড নোটিশ জারির সুপারিশ করে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখা। এনসিবি বলছে, রেড নোটিশ জারি হলো এক মাসেরও বেশি হয়েছে। এখনও কোনও তথ্য পাইনি। এমনকি মানবপাচারকারীদের অবস্থানও জানা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে এনসিবির সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মহিবুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘আমরা একাধিকবার লিবিয়ার পুলিশকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আমরা নিয়মিত ইন্টারপোলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি। তবে লিবিয়া সহযোগিতা করলে আমাদের জন্য কাজটা সহজ হতো।’

ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখার এই সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক আরও জানালেন, ‘মানবপাচারকারীরা লিবিয়ার কোথায় আছে, সেটা লিবিয়া শনাক্ত করছে না। তবে পাচারকারীরা যদি লিবিয়া থেকে পালাতে চায় তবে লিবিয়ার পুলিশ তাদের ধরতে পারবে। রেড নোটিশ থাকার কারণেই তা সম্ভব। আমরা এ বিষয়ে লিবিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

লিবিয়ায় পলাতক ছয় আসামি হলো, ইকবাল জাফর, তানজিরুল, স্বপন, শাহাদাত হোসেন, নজরুল ইসলাম মোল্লা ও মিন্টু মিয়া। তাদের মধ্যে নজরুলের বাড়ি মাদারীপুর। বাকি পাঁচ জনের বাড়ি কিশোরগঞ্জে বলে ইন্টারপোলের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সবার বিরুদ্ধে বিদেশে পাচার, আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়, এমনকি হত্যার অভিযোগও রয়েছে।

সিআইডি বলছে, ভাগ্য বদলাতে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাত্রায় দালালচক্রের ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়ত নিরুদ্দেশ হচ্ছে অগণিত বাংলাদেশি তরুণ। নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়েও এদের অধিকাংশ মারা যাচ্ছে। মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের পর লিবিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে ভূমধ্যসাগরে কোনোরকম একটি কাঠের নৌকায় তুলে দিয়ে দায় সারে দালালরা। এ কাজটাকে তারা বলে ‘গেমিং’।

যাদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে তারা এই ‘গেমিংয়ের’ হোতা। এমন আরও অন্তত ২০ জন ‘গেমিং’ হোতার তথ্য পাওয়া গেছে। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা গেলে তাদের বিরুদ্ধেও নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জিসানুল হক বলেন, গত বছরের ২৮ মে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরে মিজদা শহরের একটি ক্যাম্পে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়। এতে আহত হন আরও ১২ জন। এ ঘটনায় দেশে ২৬টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে ২৫টি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। এফআইআরভুক্ত আসামির সংখ্যা ২৯৯ জন। এখন পর্যন্ত গ্রেফতার আছে ১৭১ জন। ৪২ জন ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, ওই ৬ পলাতকের মধ্যে কিশোরগঞ্জের তানজিদ এখন ইতালিতে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, ‘আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামর্থ্য যে আছে, সেটা কিন্তু জঙ্গিবাদ দমনেই প্রমাণ হয়েছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছিল বলেই আমাদের পক্ষে জঙ্গিবাদ দমন সহজ হয়েছে। কিন্তু মানবপাচারের ক্ষেত্রে একই সদিচ্ছা দেখি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিমানবন্দর দিয়ে লোকজন যখন যায়, তাদের ঠিকমতো যাচাই করলেই কিন্তু বের করা সম্ভব তারা কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে আর কারাই বা তাদের পাঠাচ্ছে।’

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত