প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এরা কি মানুষের বাচ্চা!

রাশিদ রিয়াজ : ইয়েমেনের সাত বছরের বালক ফাইদ শামিমের ওজন খাবারের অভাব ও অপুষ্টিতে কমে ১৫ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালের বেডে সে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে থাকে। ক্ষুধায় কাতরতা প্রকাশে তার অভিব্যক্তি যথেষ্ট। ইয়েমেনে এমন শিশুর সংখ্যা হাজার হাজার। ইয়েমেনে যুদ্ধের জন্যে বিলিয়ন বিলিয়ন অস্ত্র কেনা হচ্ছে। ব্রিটেনের মিরর পত্রিকা ইয়েমেনকে ভুলে যাওয়া যুদ্ধ বলে নিষ্ঠুর চিত্র তুলে ধরেছে এক প্রতিবেদনে। ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি হাসপাতাল থেকে তোলা হয় ফাইদের ছবিটি।

ক্ষীণ এই শিশুটিকে কম্বলের একাংশ দিয়ে জড়িয়ে রাখা যায়। আল-শাবিন হাসপাতালের অপুষ্টি বিভাগের চিকিৎসক রাগেহ মোহাম্মদ জানান শিশুটি প্রায় মারাই যাচ্ছিল। সেরেব্রাল প্যালসি ও চরম অপুষ্টিতে ভুগছে শিশুটি। এই কন্যা শিশুটিকে তার বাবা-মা যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের ১০৫ মাইল ভগ্নস্তুপ আর বোমার আঘাতে খানাখন্দে ভরা সড়ক পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে আনতে হয়েছে। ইসরায়েলের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে গত বছর ইয়েমেনে ৮৮৮৮ বার ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। দানের ওপর চলছে ফাইদের চিকিৎসা।

চিকিৎসক মোহাম্মদ জানান দুর্ভিক্ষপীড়িত ইয়েমেনে এধরনের অপুষ্টিজনিত রোগ ও শিশুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এদের অভিভাবকরা আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর তাদের সন্তানদের চিকিৎকার জন্যে নির্ভরশীল। দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা না হলেও গত ৬ বছরের ইয়েমেন যুদ্ধে দেশটির ৮০ শতাংশ মানুষ ত্রাণের ওপর তাদের বেঁচে থাকার জন্যে নির্ভর করছেন।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ইয়েমেনের অবস্থাকে আরো সংকটজনক করে তুলেছে। এর ওপর রেমিটেন্স কমেছে, পঙ্গপালের আক্রমণ, বন্যা এবং ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি ইয়েমেনকে এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে। ইতিমধ্যে এক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০১১ সালে আরব বসন্তে ইয়েমেনের সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে রুপ নেয়। ইয়েমেনে কোনো পক্ষই আলোচনায় স্থির কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না। পশ্চিমা দেশগুলো বিশাল মুনাফা লুটছে ইয়েমেনে যে সব দেশ যুদ্ধে লিপ্ত তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত