প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় পাঁচ শতাধিক কিশোর * রেললাইন ও বস্তি এলাকায় দৌরাত্ম্য বেশি
বেপরোয়া ভাসমান কিশোর অপরাধীও

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকার বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে রেললাইন ও বস্তি এলাকায় মাদক, ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে ভাসমান কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে।

কখনও কখনও তারা খুনের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। তারা ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে।

অপরাধ করেই তারা দ্রুত স্থান বদল ও আত্মগোপন করে। ঢাকায় এমন পাঁচ শতাধিক কিশোর ও তরুণ ভাসমান অপরাধী রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন গিয়ে এবং আইন-প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন সব তথ্য পাওয়া গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়- ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান কিশোররা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের অধিকাংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে। মাদকাসক্ত হওয়ায় মাদক কেনার টাকা জোগার করতে তারা ছিনতাই-ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ মাদকের কারবারেও জড়িয়ে পড়ে। এভাবে এক সময় তারা পেশাদার অপরাধী হয়ে উঠে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, কোনো কিশোর ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের কেউ অরাজকতা, মাদক সেবন ও ব্যবসা করলে অথবা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়।

এ বিষয়ে আমাদের নজরদারি ও অভিযান চলছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, যেসব কিশোর অপরাধী নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় থাকে না তাদের ভাসমান কিশোর অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বস্তি এলাকা, ফুটপাত, ফ্লাইওভার, রেল ও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় তারা অপরাধ করে। ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধে তারা জড়িত।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর বিভিন্ন সময় কাওরানবাজার, ফার্মগেট, রেললাইন বস্তি, শেরেবাংলা নগর কলেজ গেট, শ্যামলী ও মিরপুর থেকে দেড় শতাধিক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া রায়েরবাজার বধ্যভূমি এলাকা থেকে ১৭ জন কিশোরকে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার করা হয়। এসব কিশোরও ভাসমান অপরাধী হিসেবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

পুরান ঢাকার শ্যামপুরে ফইন্নি গ্রুপ নামে একটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। শ্যামপুর ছাড়াও তারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। এর আগে এ গ্রুপের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।

এ গ্রুপের দৌরাত্ম্য থেমে নেই। মুগদার মান্ডায় চারটি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। বিভিন্ন সময় এসব গ্যাংয়ের ২৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। চারটি গ্যাং হল- চাঁন-জাদু গ্রুপ, ডেভিল কিং ফুল পার্টি, ভলিয়ম টু এবং ভান্ডারি গ্যাং।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুগদার কিশোর গ্রুপের সদস্যদের অধিকাংশ নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য। তারা মাদক ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করছে। চার গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে চাঁন-জাদু গ্রুপের সদস্যদের বয়স ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।

বস্তির স্কুল থেকে ঝরেপড়া কিশোররা এ গ্রুপের সদস্য। ভাসমান অবস্থায় তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। ‘ডেভিল কিং ফুল পার্টি’ সদস্যদের বয়স ১৮ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। আধিপত্য বিস্তারে এলাকায় শো-ডাউন, যৌন হয়রানি, মাদক সেবন ও ছিনতাইয়ে তারা জড়িত। ‘ভলিয়ম টু’ ও ‘ভান্ডারি গ্রুপের’ সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত।

পুলিশের সবুজবাগ জোনের এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধে নজরদারির পাশাপাশি পুলিশের মোবাইল টিমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক টহল চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে গ্যাংয়ের সদস্যরা যুক্ত হলেই তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ভাসমান কিশোর অপরাধীরা খুবই ভয়ঙ্কর। তাদের অধিকাংশ মাদকাসক্ত হওয়ায় মাদক সেবনের জন্য সামান্য টাকা দিয়ে বড় ধরনের অপরাধ করানো যায়।

খুনোখুনির ঘটনায় ভাসমান কিশোররা : ভাসমান কিশোর-তরুণ অপরাধীরা খুনোখুনির মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ শুক্রবার মহাখালীতে ড্যান্ডি (জুতার আঠা দিয়ে নেশা) খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে কিশোর আরিফ হোসেনকে খুন করা হয়। ৭ এপ্রিল মগবাজার আউটার সার্কুলার রোডে নেশার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ভাসমান কিশোর রানা খুন হয়। -যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত