প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শেরপুরে বিষমুক্ত নিরাপদ শিম উৎপাদনের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

শেরপুর প্রতিনিধি : [২] জৈব বালাইনাশক, ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ আঠালো ফাঁদ, হাত বাছাই, উপকারি জীবানু রক্ষা সমন্বয়ে আইপিএম প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিম ফসলের পোকামাকড় ও রোগবালাই সাফল্যজনকভাবে দমন করা যায়।

[৩] এতে কীটনাশকের ব্যবহার কম লাগে এবং উৎপাদন খরচ শতকরা ২৫ থেকে ৫০ ভাগ কমে যায়। কিন্তু শিমের উৎপাদন শতকরা প্রায় ২০ ভাগ বেড়ে যায়। কীটনাশক ছাড়া উৎপাদিত এসব শিম বিষমুক্ত হওয়ায় বাজারে চাহিদা থাকায় দামও ভালো পাওয়া যায়। তাই কৃষকের আয় বেশী হয়।

[৪] রোববার দুপুরে শেরপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার গাগলাজানি এলাকায় ‘সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার (আইপিএম) মাধ্যমে গুনগতমানসম্পন্ন ও নিরাপদ শিম উৎপাদন’ শীর্ষক গবেষণার এক মাঠ দিবসে এমন তথ্য উপস্থাপন করেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

[৫] ওই এলাকার ওবাইদুল ইসলাম (৬৫) নামে এক কৃষকের ৫ ডেসিমেল জমিতে আইপিএম প্রযুক্তির মাধ্যমে আবাদ করা বারি-১ শিমের প্রদর্শনী প্লটের সরেজমিন গবেষণা ফলাফলে এমন চিত্র পাওয়া যায়। এসময় ওই প্রদর্শনী প্লটের আইপিএম পদ্ধতিতে শিমের পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন পদ্ধতি দেখে কৃষকরা দারুণ উৎসাহিত হন এবং তাদের মাঠে এ প্রযুক্তি গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

[৬] কৃষকরা তাদের আইপিএম পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ দেওয়ার ও বায়োপেষ্টিসাইডগুলো বাজারে সহজলভ্য করার অনুরোধ জানান। শীঘ্রই এ প্রযুক্তি খুব দ্রুত সারাদেশে কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়বে যা বিষমুক্ত গুনগতমানসম্পন্ন ও নিরাপদ শিম চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কৃষি বিজ্ঞানীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

[৭] মাঠ দিবসে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) গাজীপুর-উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র পরিচালক ড. আবেদা খাতুন প্রধান অতিথি এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রকল্প সমন্বয়কারি ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন ও শেরপুর খামারবাড়ীর উপ-পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও কৃষকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।

[৮] বারি গাজীপুর-উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প সমন্বয়কারি ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, শিম বাংলাদেশের জনপ্রিয় প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি সবজি। কিন্তু পোকা-মাকড়, রোগবালাই’র আক্রমনে শতকরা প্রায় ২০-৪১ ভাগ ফলন কমে যায়। কৃষকরা পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনের জন্য নির্বিচারে রাসায়নিক কীটনাশক/ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করে যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্নক হুমকিস্বরূপ।

[৯] তাই শিম ফসলকে রক্ষা করার জন্য ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ আঠালো ফাঁদ, হাত বাছাই, বোটানিক্যালস/উপকারি জীবানুর সমন্বয়ে জৈব বালাইনাশক ভিত্তিক আইপিএম প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে যার মাধ্যমে সাফল্যজনকভাবে পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন করা যায়। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় বারি উদ্যানতত্ব বিভাগের মাধ্যমে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলেন শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলার ৬টি উপজেলায় ৬০ জন কৃষকের মাধ্যমে সরেজমিনে শিম চাষে আইপিএম পদ্ধতির উপর গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আইপিএম প্রযুক্তি ব্যবহারে শিম চাষে পোকামাকড় ও রোগবালাইর আক্রমন শতকরা ৮০ ভাগ রোধ করা যায় এবং ফলনও শতকরা ২০ ভাগ বেশী পাওয়া যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত