প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন : করোনা বাংলাদেশের প্রতারকদের বাম্পার ফলন ঘটিয়েছে এবং একাডেমিয়াতেও এর আছর লেগেছে!

কামরুল হাসান মামুন : করোনা বাংলাদেশের প্রতারকদের বাম্পার ফলন ঘটিয়েছে এবং একাডেমিয়াতেও এর আছর লেগেছে। এক ব্লগপোস্টের মাধ্যমে জানলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্রাজুয়েটের এক ছাত্র এই কোভিডকালে ইতোমধ্যেই গবেষণা আর্টিকেল প্রকাশনা, সাইটেশন সংখ্যা, জএ সংখ্যা, য-ইনডেক্স ও র-ইনডেক্স অর্জনে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে। গুগল স্কলারে তার সাইটেশন সংখ্যা ১১৫৫! এছাড়া য-ইনডেক্স ও র-ইনডেক্স যথাক্রমে ১৯ এবং ৩১! এতো রীতিমত গ্রীনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখানোর মত অবস্থা।

ছাত্রটির নাম মোহাম্মদ এ মামুন! সে ধরে ফেলেছে এসব কীভাবে কামাতে হয়। এইটা করার জন্য সে গধৎশ এৎরভভরঃযং নামে এক মানিক ধরতে পেরেছে। মামুনের মোট ৩৩টি আর্টিকেলের মধ্যে ৩১টির কো-অথর হলো মার্ক গ্রিফিথস। অধিকাংশ আর্টিকেলেরই সাবমিশন বা একসেপ্টেড তারিখ নেই যার অধিকাংশই চিঠি স্বরূপ। এছাড়া তার আর্টিকেলগুলোর বেশির ভাগই করোনা নিয়ে। অর্থাৎ করোনা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে এই বাম্পার ফলন।

শুধু এই মামুন না। আমি ইদানিং লক্ষ করছি আমাদের একাডেমিয়ার অনেকেই করোনার উপর নানা আর্টিকেল প্রকাশ করছেন যাদের আসলে এই বিষয়ে গবেষণা করার কথা না। আমি আরো লক্ষ করছি ইংরেজি নতুন বর্ষকে সামনে রেখে অনেকেই গেল বছরের গবেষণার বিশাল ঈর্ষণীয় লম্বা লিস্ট দিচ্ছেন। এক বছরে কারো কারো ২০ থেকে ২৫ টা আর্টিকেল পর্যন্ত প্রকাশ করেছে। এতো রীতিমত সাংঘাতিক ব্যাপার। আমি যার সাথে পোস্ট-ডক করেছি তার অধীনে সব সময় ৬-১০ জন পোস্ট-ডক এবং ততোধিক পিএইচডি ছাত্র কাজ করে। সেও বছরে বড়জোর ২০-২৫ টা আর্টিকেল প্রকাশ করতে পারে। আর আমাদের এরা তাদের অধীনে কোন পোস্ট-ডক ছাড়া এমনকি পিএইচডি ছাত্রও প্রায় না থাকার মত হওয়া সত্বেও কিভাবে ২০ থেকে ২৫টা আর্টিকেল পর্যন্ত প্রকাশ করে? তাহলে কি আমরা আর্টিকেল প্রকাশের কোন বিশেষ তরিকা ধরে ফেলেছি? শিক্ষক গবেষকদের হওয়া উচিত সহজ সরল গো বেচারা টাইপের। তারা যদি ছন্দাই নন্দাই করে আর্টিকেল সংখ্যা আর সাইটেশন সংখ্যা বাড়াতে এক্সট্রা কিছু করে সেইটা হবে খুবই দুঃখজনক। কেউ কেউ হয়ত সত্যি সত্যি ভালো কাজ করছেন কিন্তু হঠাৎ করে প্রকাশনার সংখ্যা বেড়ে যেতে দেখলে সন্দেহ জাগে।

২০২০ সালে আমার একটি আর্টিকেলও প্রকাশিত হয়নি। তবে দুটি আর্টিকেল প্রায় একসেপ্টেড হওয়ার পর্যায়ে। আরও তিনটা আর্টিকেল লিখে শেষ করেছি কিন্তু এখনো সাবমিশনের পর্যায়ে আসেনি। তবে এর মধ্যে দুটো কাজ খুবই এক্সসাইটিং এবং এই দুটি আমার সাবজেক্টের বিখ্যাত একজনের সাথে কোলাবোরেশনে কাজ করছি। একেকটি আর্টিকেল লিখতে আমার ৬ থেকে ৮ মাস এমনকি ১ বছরও লাগে। তাছাড়া পদার্থবিজ্ঞানের খ্যাতিমান বনেদি জার্নাল ব্যতীত আজেবাজে কোথাও আমি আর্টিকেল পাবলিশ করিনা। গবেষণা কাজ একটা আত্মিক আনন্দের কাজ। এই কাজে সততা থাকাটা হলো প্রাথমিক শর্ত। এই কাজে কোনরকম ধূর্তামি করে সংখ্যা বাড়ানো, সাইটেশন বাড়ানো ইত্যাদির চেষ্টা ঠিক না। একদম না। এগুলো হলো গবেষণার ন্যাচারাল কংসেকোয়েন্স।

সর্বাধিক পঠিত