প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঈশ্বরদীতে পৌরসভা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে

রিয়াদ ইসলাম: [২] প্রার্থীদের গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠছে আসন্ন ঈশ্বরদী পৌরসভার নির্বাচন। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন পরিছন্ন আধুনিক পৌরসভা গড়ার। প্রত্যেকেই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি। আর ভোটাররা বলছেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন তারা। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোনের মনোনীত প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।

[৩] শহরের রাস্তাঘাট, অলিগলি ও পাড়া-মহল্লা এখন মিছিল আর স্লোগানমুখর। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাড়িগুলোতেও এখন আলোচনার বিষয় শুধু নির্বাচন। প্রার্থীরা ভোট চেয়ে চষে বেড়াচ্ছেন তাদের নির্বাচনী এলাকা।

[৪] রোববার (৩ জানুয়ারি) সরেজমিনে শৈলপাড়া, রহিমপুর, স্কুলপাড়া, পশ্চিমটেংরী কাচারী পাড়া, পিয়ারখালি, ফতেমোহম্মদপুর, মশুড়িয়া পাড়া, অরণকোলা, পূর্বটেংরী, ইস্তা, উমিরপুর ও ভেলুপাড়া পৌর এলাকায় ঘুরে শুধু আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পোস্টার চোখে পড়ে। অন্য দুই প্রার্থীর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। অনেক ভোটার অন্য দুই প্রার্থীর নামই শোনেননি বলে জানান।

[৫] শেরশাহ্ রোড এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘ভোট নিয়া কারও কোনো আগ্রহ নাই। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া অন্য দুই প্রার্থী এলাকায় নাই।’

[৬] আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইছাহক আলী মালিথা ব্যাপক গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। তিনি জানান, “মেয়র নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঈশ্বরদী পৌরসভার সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি ঈশ্বরদী পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং যানজট নিরসনসহ মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে আধুনিক পৌরসভা গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন।”

[৭] অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নয়নের কোনো তৎপরতা নেই। যদিও তিনি অভিযোগ করে বলেন, নৌকা মার্কার প্রার্থীর তাণ্ডবে তিনি প্রচারণায় নামতে পারছেন না। আওয়ামী লীগকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় তার ব্যানার ও পোস্টার ছিড়ে ফেলেছে। তারপরেও প্রত্যেক ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রধানের আহ্বান জানান তিনি।

[৮] এছাড়াও ভোটের মাঠে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত আছেন ইসলামী আন্দোলন মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাসুম বিল্লাহ। সেই সঙ্গে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। সবাই নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের কাছে অনুরোধ জানান।

[৯] পিছিয়ে নেই মহিলা প্রার্থীরা। তারাও মা-বোনদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “আমি মানুষের জন্য সবসময় কাজ করি। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াই। আশা করছি, ভোটাররা আমাকে বঞ্চিত করবেন না।”

[১০] সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ রায়হান কুদ্দুস বলেন, ঈশ্বরদী পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫৫ হাজার ৫৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ২৭ হাজার ২৪১ জন। আর নারীর সংখ্যা ২৮ হাজার ৩২৭ জন। প্রস্তাবিত ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯টি এবং বুথ সংখ্যা ১৫২টি।

[১১] ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা পিএম ইমরুল কায়েস জানান, আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ঈশ্বরদী পৌরসভার নির্বাচন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন, কাউন্সিলর পদে ৩৭ জন এবং মহিলা কাউন্সিলর পদে ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত