প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০২০ ছিল বিটকয়েনের মূল্যস্ফীতির বছর, স্বর্ণের দর বেড়েছে ৩’শ শতাংশ

রাশিদ রিয়াজ : গত ডিসেম্বরে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের মূল্য স্ফীতি ঘটেছে ২০ হাজার ডলার। রেকর্ড দাম উঠেছে ২৮ হাজার ৫৯৯ ডলারে। যারা বিটকয়েনের সমালোচক তারা আপাতত ক্ষান্ত দিয়েছেন সমালোচনা থেকে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো পর্যন্ত এখন এই অদৃশ্য মুদ্রায় লেনদেন কিভাবে নীতিমালার ভেতরে আবদ্ধ রেখে জায়েজ করা যায় সে নিয়ে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে। বিশ্ব শেয়ারবাজার ছাড়াও মার্কিন ডলার, স্বর্ণ, তেল বা তামার মত মূল্যবান ধাতবকেও জানান দিচ্ছে মুদ্রা হিসেবে মূল্যায়িত হওয়ার শক্তি তার আছে। কোভিড মহামারীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউনের ভেতরে ইন্টারনেটে বিনিয়োগ সুবিধা ব্যবহার করে বিটকয়েনে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকে পড়াই এ ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম বেড়ে যাওয়া প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী বিপুল পরিমান মুদ্রা ছাপানোর খরচ এড়ানোর জন্যেও ডিজিটাল কয়েনের ওপর ভরসা বেড়েছে। ডেইলি মেইল

বিভিন্ন দেশের কোভিড মহামারী মোকাবেলায় বাড়তি বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। এজন্যে মুদ্রা ছাপাতে যেয়ে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা আছে। তারচেয়েও আশঙ্কা হচ্ছে এ ধরনের মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিটকয়েনের মূল্য ১ লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মত বড় অর্থনীতির দেশে মুদ্রাস্ফীতিই শুধু নয় সরকারের ঋণ এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে তা দেশ দুটির জিডিপির শত শতাংশে পৌঁছে গেলেও বিটকয়েনের মূল্যই বরং তা আরো বাড়াবে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রধান অর্থনীতিবিদ এ্যান্ডি হালডেন গত সপ্তাহে বলেন ব্রিটেনের অর্থনীতিতে প্রচুর সরকারী ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আমাকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। সেখানে বিটকয়েনকে মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিরাপদ সম্পদ বলেও বিটকয়েনকে দেখতে শুরু করেছেন অনেক বিশ্লেষক। সিটি ব্যাংকের এক নেতৃস্থানীয় আর্থিক বিশ্লেষকের ধারণ বিটকয়েনের মূল্য আগামী ক্রিসমাসে ৩ লাখ ১৮ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ চেক্স ডট আইও’এর পরিচালক কনস্টানটিন আনিসিমভ বলেন নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সরকারি বন্ডের বিকল্প উৎস হয়ে উঠতে পারে বিটকয়েন। কারণ বিনিয়োগকারীদের সরকারি বন্ডের সীমিত প্রাপ্তি মুদ্রাস্ফীতিতে হারাতে হচ্ছে। একারণেই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বিকল্প বিনিয়োগ হিসেবে বিটকয়েনের দিকে ঝুঁকতে চাচ্ছে তাদের অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের জন্যে। স্বর্ণের মতই বিটকয়েন এখন নিরাপদ সম্পদ হিসেবে এবং এর সম্ভাবনাময় প্রবৃদ্ধি তাদের আকৃষ্ট করছে সহজেই।

অথচ ২০০৮ সালে যখন ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে বিটকয়েন যাত্রা শুরু করে তখন এটি অপরাধের স্বর্গরাজ্যে লেনদেনের বাহন হিসেবে অনেকে মনে করতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটেনের স্টারবাকস বা হোল ফুডস’এর মত কোম্পানিগুলো এ্যাপের মাধ্যমে বিটকয়েনে লেনদেন করছে। বিশাল মার্কিন তহবিল ফিডেলিটি, জাপানি ব্যাংক নোমুরা, গোল্ডম্যান স্যাকস, এ্যালিয়েন্ট বার্নস্টেইন এবং নর্দান ট্রাস্ট এখন বিটকয়েনে বিনিয়োগের জন্যে উৎসাহ দিচ্ছেন গ্রাহকদের। ফিডেলিটি ডিজিটাল এ্যাসেটের প্রধান ক্রিস্টোফার টিরার বলেন ২০২০ সালটি ডিজিটাল সম্পদ হিসেবে বিটকয়েনের জন্যে এক বিশাল সুযোগ এনে দিয়েছে। প্রযুক্তি লেনদেন হিসেবে বিটকয়েনকে আমরা গ্রহণ করেছি। কোভিড মহামারীর মধ্যেও বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিনিয়োগের চাহিদা সামাল দিতে বিটকয়েন কাজে এসেছে। মহামারীর মধ্যে প্রচলিত মুদ্রার অবমূল্যায়নেও বিনিয়োগকারীরা বিটকয়েনকে বেছে নিয়েছে। বিটকয়েনের সীমিত সরবরাহ এর চাহিদায় আরো গতি সৃষ্টি করেছে। একদিকে বিটকয়েনের মূল্যস্ফীতিতে কোনো বিনিয়োগকারী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কেউ হিস্টিরিয়া রোগীর মত আতঙ্কে আছেন প্রবল মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও বিটকয়েনের মূল্যে ব্যাপক ধস নামতে পারে এ আশঙ্কায়। বিটকয়েনের লেনদেন সম্পর্কে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর এ্যান্ড্রু বেইলি বলেছেন তিনি এ বিষয়টি নিয়ে ভীষণ বিচলিত। তিনি এও বলেছেন যারা বিটকয়েনে লেনদেন বা বিনিয়োগ করেছেন তাদের সর্বস্ব খুইয়ে পড়ার জন্যে তৈরি থাকা উচিত। গত অক্টোবরে ব্রিটেনের ফিনান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি জানায় বিটকয়েন বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পণ্য ক্রয় বাতিল হতে পারে। কারণ এধরনের ডিজিটাল কয়েনের কোনো অভ্যন্তরীণ মূল্য নেই। তারপরও মার্কিন আর্থিক নীতিনির্ধারকরা বলছেন এবছরও বিটকয়েনের মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকবে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অর্থমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন যিনি সেই জ্যানেট ইয়েলেন বলেন বিটকয়েন একটি অতি অনুমান ভিত্তিক সম্পদ ও এর কোনো স্থিতিশীল মূল্য নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত