প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লাকিংমে’কে অপহরণের ১১ মাস পর তাকে খুঁজে পেলেন বাবা, তবে মর্গে (ভিডিও)

রাজিব নূর : ভদ্রলোক বাংলা ভাষাটা বলা তো দূরের কথা, বুঝতেও পারেন না ঠিকঠাক। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শিলখালি গ্রামটাই তাঁর পৃথিবী। তবে জীবিকা নির্বাহের জন্য সমুদ্রে যান ছোটবেলা থেকেই। এ বছর জানুয়ারির ৫ তারিখ সন্ধ্যেবেলায় যখন তাঁর মেয়ে লাকিংমে চাকমাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনো সমুদ্রেই ছিলেন। এই একটি ঘটনা বদলে দিয়েছে লাকিংমে চাকমার বাবা লালা অং চাকমাকে।

টেকনাফেরই বাহারছড়া মাথাভাঙ্গা এলাকার ইয়াসিন, ইসা, আবুইয়াসহ আরও চার-পাঁচজন লাকিংমেকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। জন্মসনদ অনুযায়ী, অপহৃত হওয়ার দিনটিতে ওর বয়স ছিল ১৪ বছর ১০ মাস।

লালাঅং তার মেয়ে অপহরণের পর মামলা করতে গিয়েছিলেন টেকনাফ থানায়। পুলিশ মামলা নিতে রাজি হয়নি। তখন কক্সবাজারের টেকনাফ থানাটিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় বরখাস্ত এবং বর্তমানে জেলবন্দি প্রদীপ কুমার দাশ। থানায় মামলা করতে না পেরে ২৭ জানুয়ারি লালা অং কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত থেকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের নামে যে অবহেলা তারা করেছেন তা পিবিআই কক্সবাজার ইউনিটের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ক্যশৈনু মারমার দেওয়া দু পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনটি পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবেন।

অপহরণের পর কেটে যায় ১১ মাস। এ সময় মেয়েকে হন্যে হয়ে খুঁজেছেন বাবা। অবশেষে গত ৯ ডিসেম্বর লালাঅং তাঁর মেয়ে লাকিংমের খোঁজ পান। তবে জীবিত নয়, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে তাঁর প্রিয় কন্যার মরদেহ।
‘লাকিংমে আতাউল্লাহর সঙ্গে পালিয়ে যায়নি— (পিবিআই) তদন্তে অবহেলা না করলে এটা প্রমাণ হতোই এবং মেয়েটিকে এমন অকালে আত্মহননের পথ বেছে নিতে হতো না। তর্কের খাতিরে পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত রিপোর্ট মেনে যদি ধরে নিই লাকিংমে পালিয়ে গিয়েছিল, তাহলেও তো একটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া অপহরণের মতো অপরাধ বলেই গণ্য হবে। তদন্ত প্রতিবেদনটিতে লাকিংমের বয়সটা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি। আতাউল্লাহ এবং তাঁর সহযোগীরা মারাত্মক পাঁচটি অপরাধ করেছেন— ১. অপহরণ, ২. ধর্মান্তরে বাধ্য করা, ৩. অপ্রাপ্ত বয়স্ককে বিয়ে করা, ৪. ধর্ষণ এবং ৫. হত্যা অথবা আত্মহত্যার প্ররোচনা। এ পাঁচটি অপরাধের যে কোনো একটিই আতাউল্লাহকে জেলখানায় পোরার জন্য যথেষ্ট। তা করা হয়নি বলেই আতাউল্লাহ লাশের দাবি নিয়ে মাঠে নামার সাহস পেয়েছেন।’

লাকিংমের লাশ পড়ে আছে কক্সবাজার হাসপাতালের মর্গে। এখন মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব হয়েছে র‌্যাবকে। দুদিন আগে গত ২৮ ডিসেম্বর আমরা কয়েকজন গিয়েছিলাম শিলখালি গ্রামে। পরের দিন ২৯ ডিসেম্বর কক্সবাজারে র‌্যাব কমান্ডারসহ আরো অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদের সঙ্গে আলাপে মনে হয়েছে, এবার মামলাটি সঠিক পথে পরিচালিত হবে। আমরা তাঁর হাতে লাকিংমের পিএসসি সনদ, প্রকৃত জন্মনিবন্ধন সনদ এবং আতাউল্লাহর বানানো সনদসহ আরো অনেক কাগজপত্র দিয়ে এসেছি।

র‌্যাব অফিসে ২৯ ডিসেম্বরই ডেকে আনা হয়েছিল লাকিংমে চাকমার বাবাকেও। সঙ্গে এসেছিল তাঁর বড় মেয়ে এবং ভাতিজা। আশা করছি, বিচার পাওয়ার জন্য হতদরিদ্র এই পরিবারটির ছোটাছুটির অবসান হবে এবার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত