প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুলতান মির্জা : আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতলে ভোট চুরি, বিএনপি-জামাতি প্রার্থী জিতলে ভোট সুষ্ঠু- এটা কেমন বিচার?

সুলতান মির্জা : নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিএনপি-জামাতিদের হতাশার কারণ কী? ফেসবুকে ইউটিউবে বিএনপি-জামাতি হেফাজতিদের এতো সংখ্যা, এতো দাপট, অথচ নির্বাচনে গেলেই বিএনপি-জামাতিদের প্রার্থীরা লাড্ডু মারে, ফেল করে, কোনো কোনো জায়গায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তো এমন অবস্থায় ফেসবুক ইউটিউবে নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপি-জামাতি প্রার্থীরা জয়লাভ করতো,নির্বাচনে বিএনপি জামাতিরা ভোট দিতে পারেনি ইত্যাদি উল্লেখ করে বিএনপি-জামাতিদের প্রশ্ন তোলা খুব স্বাভাবিক বিষয় বলেই মনে করি। প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপি-জামাতি প্রার্থীদের মানুষ ভোট দিবে কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে যদি বিএনপি জামাতিদের পক্ষে ভোট দেওয়ার যুক্তি হিসেবে কারণ দেখানো হয় একটা বা দুইটা তাহলে বিএনপি। জামাতি প্রার্থীদের ভোট না দেওয়ার পক্ষে ‘শ খানেক যুক্তি আছে। প্রথমত বিএনপি-জামাতিদের পক্ষ থেকে ভোটের যুক্তি হিসেবে যদি উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ভোট পেতে পারে না, তারা দুর্নীতিগ্রস্ত, এটা-ওটা ইত্যাদি। তাহলে পাল্টা যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, ভোটারেরা যেসব বিএনপি-জামাতি প্রার্থীদের ভোট দিবে, তারা কোন দুধে ধোয়া তুলশি? বয়সে নবীণ হলে পেট্রোল বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে মামলার আসামী,বয়সে প্রবীণ হলে ২০০১-২০০৬ সময়ের দুর্নীতিগ্রস্থ বা র্পূবে জনপ্রতিনিধি থাকা অবস্থায় ভোটারদের উন্নয়ন দিতে ব্যার্থ হয়েছে। দ্বিতীয়তো ভোটের যুক্তি হিসেবে বিএনপি জামাতিদের পক্ষ থেকে বলা হয় যদি পরিবর্তন দরকার এক জনপ্রতিনিধি আর কতো? তাহলে পাল্টা যুক্তি, কেবল মাত্র বিএনপি জামাতি কর্মী সমর্থক নানান সময়ে পেট্রোল বোমা হামলার আসামী বা সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে হামলা মামলার আসামী ছাড়া সারাদেশে কোন মানুষ টা খারাপ আছে? এখন আওয়ামীলীগের প্রার্থীর বদলে বিএনপি জামাতি যিনি আসবে, সে জয়লাভ করলে সামগ্রিক জনগণের উপকার টা কী হবে? কীভাবে ভালো রাখবে?

তৃতীয়তো, বিএনপি জামাতিদের পক্ষ থেকে মিডনাইট আগের রাতে ভোট দেওয়া হয়ে যায় অভিযোগ তোলা হয়, যুক্তি হিসেবে কেউ কেউ বলে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখে তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। যদিও এই টার্মের সকল পৌর নির্বাচনে ইভিএমে ভোট আদায় হয়েছে, আগের রাতে ভোট দেওয়া দূরের কথা, ইভিএম মেশিনে হাতের আঙুলের ছাপ ছাড়া ব্যালট কেউ ভোট দিতে পারবে না, কোনোভাবেই সম্ভব না। সেখানে আগের রাতে কেমনে ভোট হয়? চতুর্থ বিএনপি জামাতিদের পক্ষ থেকে বলা হয় ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধাদানের বিষয়ে কথা হলো জনগণের চাপ কেউ বাঁধা দিয়ে রাখতে পারে? এমন অবস্থায় বিএনপি জামাতিরা যদি সঠিক ভোট দিতে যায়, তাহলে কে তাদের বাঁধা দিবে? যেখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনীত শুধু মাত্র মেয়র প্রার্থীকে ভোট দিতে কেউ কেন্দ্রে যায় না,সঙ্গে দলের মনোনয়ের বাইরে কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ভোটের হিসেবে থাকে এমন অবস্থায় মেয়র প্রার্থীর লোকজনেরা ইচ্ছা করলেও তো ভোটারদের বাধা দিয়ে রাখতে পারবে না যেহেতু স্থানীয় কাউন্সিলর সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ভোটের হিসেবে সংযুক্ত। পঞ্চমতো যেটা সবচেয়ে বড় বিএনপি-জামাতিরা ফেসবুক ইউটিউবের লাইক কমেন্ট গণনা করে মাঠের ভোট নিজেদের পক্ষে হিসেবে করে। কথা হলো বিএনপি জামাতিরা গত ৮-৯ বছর ধরে ফেসবুক ইউটিউবের এসব ফেক লাইক কমেন্টধারী নিজেদের ভোটার। হিসেব করে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ পুডু মারা খেয়ে এসেছে, এখনো খাচ্ছে আগামী দিনেও খাবে। অতঃএব, বিএনপি জামাতিদের মুখপাত্র বা ফেসবুকারেরা যদি ভোটের রেজাল্ট মেনে নিতে না চায়, ভালো কথা। বিএনপি জামাতিদের মনে রাখা উচিত ভোট ইতোমধ্যে যা হয়েছে তা সুষ্ঠ হয়েছে, আগামী দিনেও সুষ্ঠই হবে। নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা নেই বিএনপি জামাতিদের বিজয় নিশ্চিত করার দায়িত্ত্ব পালনের। আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতলে ভোট চুরি, বিএনপি জামাতি প্রার্থী জিতলে ভোট সুষ্ঠ এসব বখাইট্টা যুক্তি থেকে বের হয়ে এসে সামনের নির্বাচন গুলোতে ফেসবুকে বাল পাকনা লেখা না লিখে মাঠে যাও, ভোট থাকলে ভোট দেও, প্রার্থীর জন্য ভোট ভিক্ষা করো। ফেসবুকের লাইক কমেন্টে ভোটের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত