প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বঘোষিত নেতা আর যত কিংস পার্টি!! কে আছে কোথায়?

ডেস্ক রিপোর্ট : ওয়ান-ইলেভেনর সময় গড়ে ওঠা ‘প্রতাপশালী’ কিংস পার্টির খোঁজ নেই। দলগুলোর নেতাকর্মীরা কে, কোথায়, কীভাবে আছেন তারও কোনো হদিস মিলছে না। বলতে গেলে ওই সময়ে ক্ষমতার স্বাদ নিতে বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা কিংস পার্টি বর্তমানে লাপাত্তা।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর দেশে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। তবে তাদের কোনো কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি বা আদর্শ ছিল না। তৎকালীন সেনাশাসক গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় দলগুলোর আত্মপ্রকাশ। তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ শক্তির ওপর ভর করে ক্ষমতার যাওয়ার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। শাসক গোষ্ঠী ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পর পরই রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দলগুলোর অস্থিত্ব বিলীন হয়ে গেছে।

অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেনর সময় গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো দফতরই নেই। যেসব দল টিকে আছে সেগুলোরও রাজধানী বা রাজধানীর বাইরে কোনো সাংগঠনিক কাঠামোও নেই। অথচ ওইসব দল ওয়ান-ইলেভেনের সময় তৎকালীন শাসক গোষ্ঠীর সমর্থনপুষ্ট হয়ে খুবই সরব ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ান-ইলেভেনর সময় গড়ে ওঠা নীতি-আদর্শহীন রাজনৈতিক দলগুলো ওঁৎ পেতে আছে। সুযোগ পেলে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় যেসব দলের সমন্বয়ে কিংস পার্টি গড়ে ওঠে সেগুলো হলো- প্রায়ত ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর নেতৃত্বাধীন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি), বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকার তৎকালীন চেয়ারম্যান কাজী ফারুক আহম্মদের ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, শেখ শওকত হোসেন নীলুর নেতৃত্বে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের কল্যাণ পার্টি। এছাড়াও ছিল নাগরিক শক্তি। এই দলটি ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠন করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি দল গঠনে ব্যর্থ হন। ওই সময় মূলত জাগপার প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের নেতৃত্বে কিংস পার্টি পরিচিতি লাভ করে।

কিংস পার্টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক শক্তি যখন ব্যর্থতার পরিচয় দেয় ঠিক তখনই সামরিক শক্তি দেশরক্ষার জন্য হাতিয়ার হিসেবে সামনে চলে আসে। ওই সময় তাদের রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন হয়। তখনই জন্ম নেয় কিংস পার্টি। ওয়ান-এলেভেনের সময় গড়ে ওঠা কিংস পার্টির কোনো সুনির্দিষ্ট আদর্শ বা নীতি নিয়ে জন্ম হয়নি। তাদের জন্ম হয়েছে একটি শক্তিকে সমর্থন দিতে। যারা তাদের স্বার্থ রক্ষা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে। ওই সময় জন্ম নেওয়া কিংস পার্টির দলগুলো কীভাবে আছে সেটি বড় কথা নয়।’

তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে বুর্জোয়া রাজনীতি চলছে। এই রাজনীতি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দেশে চলছে ভোটতন্ত্রের রাজনীতি। এই রাজনীতিতে বড়ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন। তা না হলে অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা সামনে চলে আসবে। আর তখনই কিংস পার্টি মাথা চড়া দিয়ে উঠবে।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যখন নতুন ধরনের শাসক গোষ্ঠীর আর্বিভাব হয় তখন কিছু নতুন রাজনৈতিক দল জন্ম নেয়। দলগুলো আসলে কোনো নির্দিষ্ট নীতি বা আদর্শ নিয়ে গঠিত হয় না। শাসকগোষ্ঠী তাদের সুবিধা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দল গঠন করে। ওরা প্রকৃতপক্ষে সুবিধাবাদী। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকেই ওইসব রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে। দলগুলোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে ক্ষমতার স্বাদ নেওয়া।’

তিনি বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনর সময় শাসকগোষ্ঠীর অনেক কাজের মধ্যে বিশেষ একটি কাজ ছিল প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রধান দুজনকে মাইনাস করা। এজন্য শাসকগোষ্ঠীর প্রয়োজন ছিল বিকল্প নেতা ও রাজনৈতিক দলের। যার কারণে তাদের ছত্রছায়ায় দলগুলো গড়ে উঠেছিল। তাদের কোনো নীতি ও আদর্শও ছিল না। ফলে সুবিধাবাদী শাসকগোষ্ঠী যখন বিদায় নিয়েছে তখন তাদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা দলগুলোকেও বিদায় নিতে হয়েছে। এখন তারা রাজনৈতিক মাঠে নেই। তবে এই অপশক্তিগুলোর দিকে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সজাগ দৃষ্টি রাখা উচিত। কারণ তারা সুযোগ পেলে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। ওরা এখন সুবিধাজনক সময়ে অপেক্ষায় রয়েছে। অপশক্তি শাসকের ভূমিকায় এলেই তাদের আবার দেখা যাবে।’

সারাবাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত