প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ড. এম শাহ্ নওয়াজ আলী: পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আবারও প্রমাণ করলেন বাঙালি বীরের জাতি

অধ্যাপক ড. এম শাহ্ নওয়াজ আলী : পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতু। এই সেতু বাংলাদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার জন্য নতুন একটি দিগন্ত সূচনা করলো। অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে। এ সেতুটি সত্যিই নির্মাণ হবে দেশের অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস করতো না। একসময় তা দূরের স্বপ্নই মনে হয়েছিলো তাদের কাছে। পদ্মা সেতু আসলে এখন আর স্বপ্ন নয়, তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক এবং এডিপিসহ অনেক ব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে সহযোগিতা না করে চলে গিয়েছিল। এটা বাংলাদেশের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো। একসময় বিশ^ব্যাংক বাংলাদেশকে আর্থিক সহযোগিতা করতে রাজি ছিলো না। সেই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য এখন রাজি। বাঙালিরা সবকিছু পারে এবং বাংলাদেশ বীরের জাতি; সেটি আবারও প্রমাণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার অবদানে দেশের অধিকাংশ স্থানে মেগা প্রকল্প গড়ে উঠতে শুরু করেছে এবং অধিকাংশ মেগা প্রকল্প সফলভাবে শেষ হয়েছে। একসময় বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে ভাবতো। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্ব দরবারে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।

পদ্মা সেতু দ্বারা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষকে একত্র করা যাবে। এ অঞ্চলের মানুষের সুযোগ-সুবিধা অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে। শুধু তারাই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে তেমনটা নয়, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ পদ্মা সেতুর সুবিধা ভোগ করবে। এই সেতু বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শুভ পদক্ষেপ। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, পদ্মা সেতু চালু হয়ে গেলে দেশের জিডিপির হার ১.২ কিংবা তারও বেশি পর্যন্ত বাড়তে পারে। শিক্ষা, শিল্প-কারখানা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিকশিত হবে। পদ্মা সেতু আগামীতে বাংলাদেশকে নতুন মাত্রায় যুক্ত করবে।

আমরা আশা করছি আগামী এক বছরের মধ্যেই সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচল শুরু করবে। এই নির্মাণের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক বেশি ধন্যবাদ। কারণ এ মানুষটির দুঃসাহসিক সিদ্ধান্তেই আজকে পদ্মা সেতু মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আমরা বলতে পারছি, পদ্মা সেতু নিজেরাই করছি। আমাদেরও সক্ষমতা আছে বড় কিছু করার। বড় স্বপ্ন দেখার। বড় বড় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করার।

পদ্মা সেতু আমাদের গর্বের, অনেক বড় অহংকারের সেতু। আমরা পারি, বাঙালি, বাংলাদেশের মানুষ পারে কালে কালে তা দেখিয়ে এসেছে। আবারও আমরা দেখালাম বিশ্বকে তোমাদের অবহেলা, এড়িয়ে চলতে চাইলেও আর পারবে না। আমরা আসছি আগামীর পৃথিবীর আলোকবর্তিকা হয়ে। বাংলাদেশ অনেক দেশের আইডল এখন। এমন একদিন আসবে যখন বাংলাদেশ মধ্যমণি হবে সকলের।
পরিচিতি : সাবেক সদস্য, ইউজিসি। অনুলিখন : মোহাম্মদ হাসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত