প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইমতিয়াজ মাহমুদ : আরিয়া রাজেন্দ্রন, গণিতে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, বয়স ২১ : কেরালার রাজধানী তিরুবানান্থপুরম নগরীর নির্বাচিত মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন, অভিনন্দন তাকে

ইমতিয়াজ মাহমুদ : মেয়েটার বয়স একুশ বছর, গণিতে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। নাম আরিয়া রাজেন্দ্রান। সম্প্রতি এই মেয়ে কেরালার রাজধানী তিরুবানান্থপুরম নগরীর নির্বাচিত মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তাদের মেয়র নির্বাচিত হয় ওয়ার্ড কমিশনারদের ভোটে। আরিয়া তার ওয়ার্ডে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছে, তারপর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছে নির্বাচিত কমিশনারদের ভোটে। সিপিএমএর নেতৃত্বে কেরালার বাম গণতান্ত্রিক জোটের মনোনীত প্রার্থী ছিলো আরিয়া। মেয়র হিসেবে তার প্রথম কর্মসূচী হবে বালাসংঘম এর আয়োজিত একটা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া। বালাসংঘম সংগঠনটা হচ্ছে কেরালার সিপিএমএর শিশু সগঠন, অনেকটা এখানে আমাদের খেলাঘর যেরকম ছিলো একসময় সেরকম। আরিয়া তার ছোটবেলা থেকেই এই শহসু সংগঠনটির সদস্য আর এখন সে বালাসংঘমের সভাপতি। সেই সঙ্গে আবার বেশ কম বয়স থেকেই ছাত্র ফেডারেশনের সদস্যও বটে আরিয়া, এখন সে ছাত্র ফেডারেশনের প্রাদেশিক নেতাও বটে। একুশ বছরের একটা মেয়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস আর কতো দীর্ঘ হবে! এই হচ্ছে আরিয়ার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ‘দীর্ঘ’ ইতিহাস।

আমার কাছে বেশ লেগেছে তার একটা টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দেখে। মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের একদিন কি দুইদিন আগের সাক্ষাৎকার সেটা। স্বভাবতই রিপোর্টাররা ওকে জিজ্ঞাসা করেছে, মেয়র হিসেবে নগর নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি ইত্যাদি। মেয়েটা কি চমৎকার করে বলছে, আমি মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে নিই তারপর এই বিষয়ে বিস্তারিত বলবো, নগর নিয় পরিকল্পনা আমার ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয়, যৌথভাবে আমরা ভেবেচিন্তা কর্মসূচী ঠিক করবো। তাকে জিজ্ঞাসা করেছে, তুমি তো ছোটো মানুষ, কর্পোরেশনের সকলেই তো তোমার চেয়ে কতো বড় বড়, কতো অভিজ্ঞ, তারা কি তোমার কথা শুনবে? তোমার নেতৃত্ব মানবে? এই কান থেকে আরেক কান পর্যন্ত হেসে মেয়েটা বলে কিনা, আমি বড় কি ছোট সেটা তো গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমি একজন কমরেড হিসেবেই বড় হয়েছি, সকলেই আমাকে কমরেড হিসেবেই দেখবেন নিশ্চয়ই। সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ মেয়েটি খুব গুরুগম্ভীর কোনো কথা বলছে না- তারুণ্য তার চোখেমুখে। তবুও দেখতে কি ভাল লাগে! একজন তরুণ, একজন নারী, একজন শিশু আন্দোলনের কর্মী এইসব পরিচয় ছাপিয়ে বলছে কিনা, আমি একজন কমরেড হিসেবে বড় হয়েছি, আর প্রত্যাশা করছে সকলে তাকে কমরেড হিসেবেই দেখবে। চমৎকার নয় ব্যাপারটা? তার তিনটি ছবি আমি ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের ওয়েবসাইট থেকে নিয়েছি। একটা লাল পতাকার মিছিলের ছবি, একটা তার শিশু সংগঠনের ইউনিফর্ম পরা ছবি আরেকটি এমনিই হাসিমুখের ছবি। অভিনন্দন কমরেড আরিয়া রাজেন্দ্রন। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত