প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লক্ষ্মীপুরে শিমের ভালো ফলন, ৩০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা

জাহাঙ্গীর লিটন: [২] দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে শীতকালীন রকমারি সবজি চাষ। উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় প্রতিনিয়তই সবজি চাষাবাদে ঝুঁকছেন লক্ষ্মীপুরের চাষীরা। চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ৯শ’ ৫৫ হেক্টর জমিতে রকমারি সবজির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৭শ’ হেক্টর জমিতে শিম চাষাবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল ও সময় মত বীজ বোপন করতে পারায় লক্ষ্মীপুরে এবার শিমের ভালো ফলন হবে বলেই আশাবাদী কৃষকরা।

[৩] এবার উৎপাদিত শিম থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা আয় হবে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

[৪] জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ জেলায় ৭শ’ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৯০, রায়পুরে ১৪০, রামগঞ্জে ৯০, রামগতিতে ১১০ ও কমলনগরে ৭০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৩০ থেকে ৩৫ মণ শিম উৎপাদন হয়। পাইকারী বাজারে যা বিক্রি হবে প্রতি মন প্রায় ১৪শ’ টাকা ধরে।

[৫] সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের চাষী মো. খোকন শিম চাষ করে আশার আলোয় স্বপ্ন বুনছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় একটি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে দেশী জাতের শিম চাষ শুরু করেন। এবার ৩৩ শতাংশ জমি জুড়ে মাচা পেতে শিম চাষ করছেন। এ শিম চাষে তার ব্যায় হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। উৎপাদিত শিমে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। তাই এখন শিম গাছের পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ চাষী।

[৬] শিম চাষী খোকনের মত জেলার অধিকাংশ কৃষক অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি শিম চাষে বেশি ঝুঁকছেন। অল্প সময়ে খরচের তুলায় অধিক লাভবান হওয়ায় এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে তারা।

[৭] জানা গেছে, শিম চাষ করতে সময় লাগে কার্তিক, অগ্রহায়ন, পৌষ এ তিন মাস। শীতের শুরুতে মাটি উর্ভর করে শিমের বীজ বোপন করা হয়। নিয়মানুযায়ী ইউরিয়া, প্রসপেক্ট, প্রটাস ও জীব সার প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এক মাসের পর মাচা তৈরি করা হলে লতা-পাতায় একাকার হয়ে যায় পুরো শিম ক্ষেত। বেগুনি রঙের ফুল আসতে শুরু করে গাছে। ফুল থেকে শিম হয়। এরপর থেকেই বিক্রি শুরু হয় উন্নত জাতের দেশী শিম।

[৮] সদর উপজেলার লাহারকান্দি, আবিরনগর, তালহাটি, ভবানীগঞ্জ, টুমচর, শাকচর, চরমনসা, চরউভূতা, কালির চর, পিয়ারাপুর, দালাল বাজার ও নন্দনপুর ইউনিয়নসহ লক্ষ্মীপুর জেলার ৫ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠে প্রচুর পরিমানে শিম চাষ হয়।

[৯] সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরভুতি গ্রামের মাঠের পর মাঠ শিম গাছ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। চাষী শিমের সেচ ও বীজ দিচ্ছে। করছে শিম গাছের পরিচর্যা। তাছাড়া কেউ আবার বাড়ির আঙ্গিনায় ঝোপ দিয়ে ও গ্রামের রাস্তার দু’পাশে বীজ বোপন করে শিম উৎপাদন করছে।

[১০] ভবানীগঞ্জ গ্রামের চাষী জামাল উদ্দিন বলেন, অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি শিম চাষে বেশি লাভবান হওয়া যায়। বীজ রোপনের এক মাস পর মাচা তৈরি করে দিয়েছি শিম ক্ষেতে। সার ও কিটনাশক ঔষধ ব্যবহার করার পর গাছে এসেছে ফুল। কিছুকিছু অংশে শিম আসতেও শুরু করেছে। এ শিম পৌষ ও মাঘ দুই মাস ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

[১১] জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন গণমাধ্য কর্মীদেরকে জানান, লক্ষ্মীপুর জেলায় শীতকালীন সবজির মধ্যে এবার শিম চাষ বেশি হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সময় মত বীজ রোপন করে একটু পরিচর্যা করলে চলতি মৌসুমে শিমের উৎপাদন বেশী হবে। এতে কৃষকরা প্রচুর লাভবান হবে বলে জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত