প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আদমদীঘিতে শীত উপেক্ষা করে চলছে বীজতলা প্রস্তুতির কাজ

আমিনুল জুয়েল: [২] গেল রোপা-আমন মৌসুমে ধানের ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। আসন্ন বোরো মৌসুমে ধান রোপণের জন্য বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। পৌষের কনকনে শীত উপেক্ষা করে বগুড়ার আদমদীঘিতে চলছে বোরো মৌসুমের বীজতলা প্রস্তুতির কাজ। তাই বীজতলা তৈরির কাজ চলছে জোরেশোরে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আসন্ন বোরো মৌসুমে বীজতলার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬শ’ হেক্টর জমি।

[৩] এরমধ্যে-হাইব্রিড জাতের বীজ বোপণ করা হবে ২০ হেক্টর জমিতে। এদিকে, ইরি-বোরো মৌসুমে এই উপজেলায় ১২ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হবে। এরমধ্যে- ১২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে উফশি (উচ্চ ফলনশীল) আর ৫০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ১৪১ মেট্রিক টন।

[৪] আদমদীঘি উপজেলার কুন্দুগ্রাম, ছাতিয়ানগ্রাম, সান্তাহার, নশরতপুর ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামেই এখন কৃষকরা বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্তু। নেই দম ফেলার ফুসরত। অনেক কৃষক আগেই বীজ বোপণ করেছেন। সবমিলিয়ে এই অঞ্চলে বোরো ধান চাষের প্রস্তুতি চলছে খুব জোরোশোরে। উপজেলার ডালম্বা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন আগে বীজতলার জন্য নির্ধারিত জায়গার আগাছা পরিস্কার করেছি। বীজতলায় পানি সেচ ও চাষের একদিন পর আজ বীজ বোপন করছি। আবহাওয়া ভাল থাকলে ধানের চারা ভালো হয়। আর ভালো চারায় বেশি ধান উৎপাদন হয়। পৌষের প্রথমদিকে বীজতলা তৈরি করে ধান বীজ বোপণের উপযুক্ত সময়।

[৫] ওই গ্রামের আরেক কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ধানের দাম ভাল পেয়েছি। আসন্ন মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করবেন এই কৃষক। সেজন্য, বীজতলায় ধান বীজ ছিটানো হচ্ছে। ধানের দাম থাকায় বেশি লাভের আশায় অতিরিক্ত ৩ বিঘা জমিতে আবাদ করছেন তিনি। ওই গ্রামের অন্য কৃষক হান্নান মিয়া বলেন, ফলন ভালো পেতে হলে বীজ সঠিক সময়ে বোপণ করতে হয়। তা না হলে ফলন ভালো হয় না। আমন ধানের ভালো দাম পেয়ে খুশি জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি ধানের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে ধান ১১৫০-১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষক ধানচাষে লাভবান হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত মৌসুমে বীজতলা থেকে চারা উঠিয়ে জমিতে রোপণ, পানি সেচ, সার-কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি দেওয়ার পর লাভতো দূরের কথা-আসলই উঠেনি। হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু চলতি মৌসুমে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে।

[৬] ভালো দাম পেয়ে ২২ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করবেন সান্তাহার পশ্চিম সিংড়া গ্রামের কৃষক মুনছুর আলী মন্ডল। তিনি জানান, এবছর ধানের দামে আমরা খুশি। ধানের দাম এমন থাকলে কৃষকরা লাভবান হবে। আত্মতৃপ্তি নিয়ে তিনি বলেন, এবছর শুধু ধান কেন- খড়ের দামও চড়া। এক হাজার খড়ের আটিঁ ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। অনেকেই পরে জ্বালানোর জন্য ল্যাড়াও (খড়ের পর অবশিষ্ট অংশ) কিনে মজুত রেখেছেন বলে জানান এই কৃষক।

[৭] আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মিঠু চন্দ্র অধিকারী জানান, কৃষকরা এবার আমন ধানের ন্যায্য দাম পেয়েছে। ধানের ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা খুশি। আগের বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ করা হবে। বোরো ধান চাষের জন্য উপজেলায় সব ইউনিয়নে বীজতলা প্রস্তুতির কাজ শেষের দিকে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিনামূল্যে (হাইব্রিড) বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। ধান বোপণের পর ভাল আবহাওয়া থাকলে চারা ভালো হবে। এতে ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদী এই কৃষি কর্মকর্তা। সম্পাদনা: সাদেক আলী

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত