প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] এনজিওদের মাধ্যমে সিএসএমই খাতে দ্রুত প্রণোদনা ঋণ প্রদানে নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত

সোহেল রহমান:  [২] করোনার প্রভাব মোকাবেলায় দেশের কুটির, ক্ষুদ্র ও ছোটো উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) দ্রæত প্রণোদনা ঋণ প্রদানে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান (এমএফআই) তথা এনজিওদের দারস্থ হচ্ছে সরকার।

[৩] এ তহবিলের আকার হচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং মেয়াদ ৫ বছর।

[৪] শুধুমাত্র চলতি মূলধন খাতে এ প্রণোদনা ঋণ দেয়া হবে। প্রান্তিক গ্রাহক পর্যায়ে ঋণসীমা হচ্ছে কুটির শিল্পের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা, ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে ৩০ লাখ টাকা ও ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা।

[৫] ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার হচ্ছে বছরে ১৪ শতাংশ। তবে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণগ্রহীতাদের জন্য ৯ শতাংশ সুদ প্রযোজ্য হবে। অবশিষ্ট ৫ শতাংশ সুদ ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে সরকার।

[৬] গ্রাহকরা সরকার থেকে সর্বোচ্চ ১ বছর সুদ ভর্তুকি সুবিধা পাবেন।

[৭] ঋণ প্রাপ্তির জন্য গ্রাহকদেরকে আবেদনপত্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম নিবন্ধন সনদ/পাসপোর্টের কপি; ট্রেড লাইসেন্স/সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন/ পৌরসভার কাউন্সিলর/ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র এবং যে কোনো দুই জনের গ্যারান্টি দাখিল করতে হবে।

[৮] সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালার খসড়া চ‚ড়ান্ত করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত চেয়েছে।

[৯] ‘নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর প্রভাব মোকাবেলায় কটেজ, মাইক্রো এবং স্মল উদ্যোক্তাদের দ্রæত ঋণ প্রদানে সহায়ক নীতিমালা ২০২০’ শীর্ষক এ নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, করোনার প্রভাব মোকাবেলায় প্রান্তিক পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সর্বোপরি অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দ্রæত দারিদ্র নিরসনে সিএমএসএমই খাত মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কিন্তু শুধু ব্যাংকিং চ্যানেলে এসব খাতের উদ্যোক্তাদের কাক্সিক্ষত মাত্রায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব খাতের একটি বড় অংশ ‘মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউশন’ (এমএফআই)-এর মাধ্যমে ঋণ নিয়ে থাকে। এ প্রেক্ষিতে ‘মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি’ (এমআরএ) কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত এমএফআই তথা ক্ষুদ্রঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সিএমএসএমই খাতে প্রণোদনা ঋণ প্রদানে পৃথক একটি নীতিমালা দরকার।

[১০] খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন করবে এবং অন্যদিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২ শতাংশ সুদে এমএফআই-গুলোকে অর্থায়ন করবে। [১১] এমএফআই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিদ্যমান ঋণ স্থিতির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রণোদনা ঋণ তহবিলের আওতায় ঋণ নিতে পারবে। একটি ক্ষুদ্রঋণ দাতা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ তিনটি ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে পারবে, তবে মোট গৃহীত ঋণ নির্ধারিত ঋণসীমার মধ্যে থাকতে হবে। গৃহীত ঋণের ন্যূনতম মেয়াদ হবে ২ বছর।

[১২] ক্ষুদ্রঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহক পর্যায়ে তাদের মোট প্রদেয় ঋণের ৬০ শতাংশ উৎপাদন ও সেবা খাতে এবং ৪০ শতাংশ ট্রেডিং খাতে বিতরণ করতে পারবে। বিতরণকৃত ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্রঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে গ্রাহক পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রাখতে হবে। [১৩] তবে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহক নির্বাচন, ঋণ বিতরণ সংশ্লিষ্ট ব্যয়, গ্রেস পিরিয়ড, ঋণের কিস্তি, ঋণ আদায়, ঋণ শ্রেণিকরণ ও মনিটরিং ইত্যাদি বিষয় ‘এমআরএ’ ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

[১৪] প্রণোদনা ঋণ তহবিল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবিত নীতিমালায় বেশকিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছেÑঋণ তহবিলের জন্য আবেদনকারী ক্ষুদ্রঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘এমআরএ’ থেকে ঋণ প্রাপ্তির সক্ষমতা বিষয়ক প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে; অর্থায়নকারী ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যয়নপত্র চাইবার তিন কার্যদিবসের মধ্যে এমআরএ এ-সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র সরবরাহ করবে; প্রত্যয়ন পত্র প্রাপ্তির সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে; অর্থায়নের ক্ষেত্রে এমএফআই’র পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক শুধুমাত্র ঋণ পরিশোধের ঘোষণাপত্র ও বিদ্যমান ঋণ স্থিতি জামানত হিসেবে রাখা যাবে; অর্থ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করবে এবং এ নীতিমালার আওতায় গৃহীত ঋণ দ্বারা বিদ্যমান কোনো ঋণ সমন্বয়/পরিশোধ করা যাবে না। ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্রঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক/এমআরএ বরাবর চাহিদা মোতাবেক সময়ে সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত