প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে সতর্ক বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট : দলে ভাঙন ধরাতে ভেতরে ভেতরে নানামুখী তৎপরতা ও কিছু আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। মূলত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে মাইনাস করে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সরকারের পতনের জন্য একটি গোষ্ঠী কাজ করছে। দলের কাছে থাকা এমন তথ্যে এর অভ্যন্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সঙ্গত কারণে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের বিষয়টি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার চেষ্টা করছে দলটি।

জানা গেছে, বিএনপির কাছে তথ্য আছে, ১/১১ প্রেক্ষাপটে প্রভাবশালী সুশীল সমাজের কিছু প্রতিনিধি ও ২০-দল, ঐক্যফ্রন্ট এবং বাম কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বেশকিছু নেতা ঐকবদ্ধ হয়ে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির ব্যানারে সরকারবিরোধী একটি পস্ন্যাটফর্ম গঠনের চেষ্টা করছে। বিএনপির মতো বড় দলের অংশগ্রহণ ছাড়া এ উদ্যোগ সফল হওয়া সম্ভব নয় বিবেচনায় দলের বেশকিছু নেতাকে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে। নতুন এই রাজনৈতিক মেরুকরেণর বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে গুটি কয়েক বিএনপি নেতারা জড়িত সন্দেহ হলেও পরে এর সঙ্গে পরোক্ষভাবে অনেকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি দল আঁচ করতে পারছে।

সূত্রমতে, এ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে প্রাথমিক কিছু তৎপরতা শুরু হলেও তা পর্যাপ্ত মনে করা হচ্ছে না। হুট করে কঠোর কোনো সিদ্ধান্তও নিতে চায় না বিএনপির হাইকমান্ড। প্রথমে এ প্রক্রিয়া কেন কীভাবে এবং কাদের ইন্ধনে চলছে তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দলের কারা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, ২০-দল ও ঐক্যফ্রন্টের কোন নেতারা বিএনপি নেতাদের এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে চাচ্ছেন এবং বুদ্ধিজীবী কারা ৬

পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন সব বিষয়ে দলের হাইকমান্ড খবর নিচ্ছেন। দলের বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়টি মাথায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।

জানা যায়, নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের অংশ হিসেবে জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াত, এলডিপি ও কল্যাণ পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিএনপির টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন জোটের বৈঠকও হচ্ছে না। নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে এ দলগুলোকেও সন্দেহের তালিকায় রেখেছে বিএনপি। সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক। সেখানে বিএনপির দুই নেতার শোকজ ইসু্যসহ চলমান রাজনীতি নিয়ে কথা হয়েছে।

সূত্রমতে, প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে দলের জড়িতদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থার উদ্যোগও নিয়েছে বিএনপি। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট জোটের নেতাদের সঙ্গেও বিএনপির শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন। জোট নেতারা দলীয় স্বার্থে ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে কারও বিরুদ্ধে কঠোর না হওয়ার পারামর্শ দিয়েছেন। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় আপাতত সন্দেহে থাকা নেতাদের বিষয়ে বিএনপি সর্বোচ্চ কঠোর না হলেও নজরদারি করে যাচ্ছে।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, স্থায়ী কমিটির শূন্যপদ পূরণ, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং নির্বাচন মনোনয়নের ক্ষেত্রে যোগ্য সিনিয়র অনেক নেতার কথা মূল্যায়ন না হওয়ায় এক ধরনের বঞ্চনা থেকে দলের একটি অংশে ক্ষোভ আছে। আর যৌথ নেতৃত্বে দল পরিচালিত হওয়ায় চেইন অব কমান্ডও ঠিক রাখা যাচ্ছে না। সঙ্গত কারণে সর্বস্তরের ঐক্য ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। এ ছাড়া জোটের ঐক্য ধরে রাখতে না পারার অন্যতম কারণ হচ্ছে, বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য সৃষ্টিতে বিএনপি এক পা এগিয়ে দুই পা পিছু নেয়। এ ছাড়া জোটের ছোট রাজনৈতিক দলে ভাঙন দেখা দিলে তা নিরসনে কার্যকরী উদ্যোগ না নিয়ে উভয় অংশকেই স্বীকৃতি দিয়ে ভাঙনকে চিরস্থায়ী করে। ফলে দুই অংশেই এক ধরনের ক্ষোভ থাকে। এ ছাড়া জামায়াত ইসু্যতে সব সময় ঝুলন্ত অবস্থানের কারণেও দলের জোটে বিভক্তি আছে। এর বাইরে ছোট ছোট আরও কিছু কারণে বিএনপিতে অস্বস্তি থাকার পাশাপাশি বৃহত্তর ঐক্য গঠন শুধু কঠিনই হচ্ছে না, বরং বিভক্তি আরও বাড়ছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ মোকাবিলায় দলের চেইন অব কমান্ড ফেরানোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। কারণ বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও চরম সমন্বয়হীনতা কাজ করছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটি বা সিনিয়র নেতৃত্ব কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারছে না। মেয়াদোত্তীর্ণ ৫০২ সদস্যের ঢাউস নির্বাহী কমিটিও প্রায় অকার্যকর। গুটিকয় নেতাই দলের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমন অবস্থায় চেইন অব কামন্ড না ফিরিয়ে বাহ্যিক মেরুকরণ ঠেকানো সম্ভব হবে না বলে দলের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন। সঙ্গত কারণে নতুন মেরুকরণে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অভিযোগ যেসব নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেবে না বিএনপি।

নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে বিএনপিতে তোলপাড় শুরু হলেও কোনো নেতাই প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি নন। আর রোষানলে পড়ার ভয়ে দলের বিশৃঙ্খলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না কেউই। নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত বিএনপি প্রকাশ্য বক্তব্য একটাই। তা হচ্ছে, দলের কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা আছে শুধুই সরকারে। দলের সাংগঠনিক অবস্থার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটি যৌথভাবে দল পরিচালনা করছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এখন অনেক বেশি সুসংহত ও শক্তিশালী বিএনপি। দলের অভ্যন্তরে কোনো সমস্যা এবং নেতৃত্বেও সংকট নেই। সূত্র: যায় যায় দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত