প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. শোয়েব সাঈদ : কোভিড-১৯ ইউকে ভ্যারিয়েন্ট

ফাইজারের পর মডার্নার ভ্যাকসিনের অনুমোদন এবং প্রয়োগ। আপাতত প্রথম বিশ্ব বা ধনী পশ্চিমাদের সেবারত ফাইজার আর মডার্নার সফলতার পর জোট নিরপেক্ষ ভ্যাকসিনের ইমেজ পাওয়া এসট্রাজেনেকার ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষমাণতার সুখবরের পাশাপাশি ব্রিটেনে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বময়। অনেক বন্ধুরা আমার কাছে জানতে চেয়েছেন এ নিয়ে। ইউকে তে প্রাপ্ত এই variant B.1.1.7 এ মোট সতেরটি মিউটেশন হয়েছে (কোন কোন সূত্রে ২৩টি মিউটেশন বলা হয়েছে) যার ৮ টি স্পাইক প্রোটিনে, যা বিজ্ঞানীদের ভাবিত করেছে। ভাবিত হবার কারণ এই স্পাইক প্রোটিন ভাইরাসের সাথে মানুষের কোষের সংযুক্তি ঘটায়। স্পাইক প্রোটিনে মিউটেশন বা পরিবর্তন কোভিড ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করতে পারে।

তবে ভাইরাসের মিউটেশন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। করোনা ভাইরাস সার্স-সিওভি-২ এর ক্ষেত্রে প্রতিমাসেই ২-১টি মিউটেশন হচ্ছে। এই মিউটেশনগুলোর বিভিন্ন নাম থাকে।

মিউটেশন এন৫০১ওয়াই স্পাইক প্রোটিনকে মানব কোষে শক্তভাবে আটকাতে সাহায্য করে। এই ভ্যারিয়েন্ট দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখা গিয়েছে। মিউটেশন ডি৬১৪জি কে দায়ী করা হয় অধিক সংক্রমণ সক্ষমতার জন্যে।

বাংলাদেশে সায়েন্স ল্যাবরেটরি গত নভেম্বরে ৫টি নমুনার জেনোম সিকুয়েন্সিং করেছে। যুক্তরাজ্যে স্পাইক প্রোটিনের একটি মিউটেশন পি৬৮১এইচের সাথে মিল আছে বাংলাদেশে প্রাপ্ত মিউটেশন পি৬৮১আর এর সাথে। পেরু, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে নানারকম মিউটেশনের দেখা মিলছে।

বাচ্চাদের মধ্যে রিসেপ্টরের পরিমান কম থাকায় সংক্রমণের সম্ভাবনা কম থাকে। কিন্তু স্পাইক প্রোটিনে মিউটেশনের মাধ্যমে সংক্রমণ সক্ষমতা অর্থাৎ রিসেপ্টরের সাথে আটকে থাকার সক্ষমতা বেড়ে গেলে কম ভাইরাস কিংবা কম রিসেপ্টর জনিত অবস্থাও সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, ফলে বাচ্চাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

বায়োএনটেকের সিইও অধ্যাপক উগুর শাহিনের মতে ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন ব্রিটেনে প্রাপ্ত ভ্যারিয়েন্টের উপরও একইভাবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ বিজ্ঞানীই অধ্যাপক শাহিনের সাথে একমত। এন্টিবডি মূলত কাজ করে ভাইরাসের উপর সামগ্রিক ভাবে, ভাইরাসের ভেতর সংঘটিত মিউটেশনে বা কিছু পরিবর্তনের ভ্যাকসিনের মোড অব একশনের বা কার্যকারিতার রকমফের হবার কথা নয়।

কানাডার সাথে ব্রিটেনের যোগাযোগ নিবিড়, দৈনিক অসংখ্য ফ্লাইটের চলাচল। কানাডায় এখন পর্যন্ত ইউকে ভ্যারিয়েন্টের দেখা মেলেনি। ডঃ ফাউচির মতে এই ভ্যারিয়েন্টেটি যুক্তরাষ্ট্রে বা কানাডায় থাকলেও থাকতে পারে লো প্রোফাইলে বা অচিহ্নিত অবস্থায়।

এই ইউকে ভ্যারিয়েন্টেটির সংক্রমণ সক্ষমতা অধিক হলেও অসুস্থতার বিপদ নিয়ে বাড়তি ঝুঁকির সম্ভাবনা কম, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়েও উদ্বিগ্ন হবার আপাত কোন কারণ নেই।

মাস্কের সঠিক ব্যবহার, ঘন ঘন হাত স্যানিটাইজ করা, শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা আর জন সমাগম এড়িয়ে চলতে পারলে অধিক সংক্রমণ সক্ষমতার ভ্যারিয়েন্টটিতে বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ নেই। ফেসবুক থেকে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত