প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরিফ মাহবুব: কুসংস্কার মুক্ত সমাজের প্রয়োজনীয়তা

আরিফ মাহবুব: সময় যুগের সাথে সমাজ ও সামাজিকতার নিয়মের পরিবর্তন সাধিত হয়ে থাকে কিন্তু ধর্মের ব্যাপারে কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা থাকে। যেমন আমাদের উপমহাদেশে সতীদাহ প্রথার প্রচলন থাকা কালীন সময়ে সেটা ধর্মের কারণেই সমাজের রীতি ও নিয়ম ছিল যা কিনা হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিধবা নারীদের স্বামীর চিতায় সহমরণে বা আত্মাহুতি দেবার ঐতিহাসিক প্রথা, যা রাজা রামমোহন রায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বন্ধ হয়। ১৮২৯ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সীতে সতীদাহ প্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়। ঠিক তদ্রূপ সমাজ সংস্কারের বিদ্রোহী নায়ক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৫৫ সালের ১৭ নভেম্বর বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভায় বিধবা বিবাহ আইনের খসড়া পেশ করলে ভারতে এ পক্ষে বিপক্ষে তুমুল আন্দোলন শুরু হয় তাই বলে সমাজ ও সামাজিক উন্নয়ন থেমে নেই।

যে কেউ তার ধর্মের বিশ্বাস মেনে চলবে যতোক্ষণ না সেটা সমাজ ও রাষ্ট্রের নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক না হবে, সমাজের মাঝে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না করবে ঠিক ততোক্ষণ। ধর্মের নামে যেকোনো অনিয়ম ও উশৃঙ্খলতা মেনে নেয়া মানেই আধুনিক সমাজ ব্যবস্থাকে অস্বীকার করা। এরপর যে কেউ ধর্ম কর্ম পালন করুণ তাতে কোনো আপত্তি থাকার কথা না। ভণ্ডদের দেশে ভণ্ডামি আপনার কাছে স্বাভাবিক হলেই আদর্শবান মানুষের কাছে তা স্বাভাবিক হতে পারে না, অন্যায়কে মেনে নিলে বিপ্লবী হওয়া যায় না। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় স্কেন্দেনেভিয়াতে আঠারো বছরের নিচে শিশুদের রোজা বা ধর্ম পালনে জোর বা প্ররোচিত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে আর এর এটাই মানবতা। পৃথিবীটাকে অন্যের দৃষ্টি দিয়ে দেখার চেষ্টা করুন।

স্কেন্ডেনেভিয়াতে ধর্ম কর্ম পালন করবেন বেশ ভালো কথা তবে প্রশাসন যদি টের পায় যে আপনি আপনার সন্তানকে দৈনিক ২৩ ঘণ্টা রোজা রাখতে বাধ্য করছেন তবেই সেরেছে, আপনাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ধর্ম পালন করা মানেই পশু বলী বা হালাল মাংসের জন্যে কোরবানি দেয়ার বিধান নেই। প্রতিটি পশুকে পশু চিকিৎসকের ছাড়পত্র নিয়ে পশুকে অজ্ঞান করে তবেই পশু বধ করতে পারবেন, তাও আবার সরকার অনুমোদিত পশু বধ কেন্দ্রে কাজেই আত্মীয় সজনদের গর্ব করে বলার কিছু নেই যে সুইডেনে হালাল কোরবানি দিয়েছি, আসল কথা হচ্ছে আপনার চিন্তা ভাবনা ও দৃষ্টি ভঙ্গিকে আরো আধুনিক করবেন, ধর্মীয় মতে হালাল মাংস সুইডেনে পাওয়া যায় না। বিষয়টি হচ্ছে ধর্ম ও কর্ম করতে পারবেন আর তা সমাজের নিয়ম মেনেই। বাংলাদেশটা আসলে এতোই ছোট যে, অজ-পাড়া গ্রামের এক কোনায় বসে মানবতাকে উপলব্ধি করা যায় না। পৃথিবী অনেক অনেক অনেক এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশে কোরবানির নামে পশু সাদৃশ্য এন্টিবায়োটিকের গোডাউন কোরবানি গরুর মাংস দিয়ে দেশের মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে কিন্তু আমরা তা দেখি কয়জনে।

নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী লোকজনও মাঝেমধ্যে দৃশ্যমান আস্তিকতার সাথে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে যোগদান করে। আমি এর নাম দিয়েছি ঝড়পরধষ উবসধহফ. যেহেতু আমি সমাজ বিচ্ছিন্ন কোন সত্তা নই তাই সমাজের অনেক অনুশাসন, রীতি নীতি মেনে চলতে হয়। কথার কথা আমি যদি নগ্নতাবাদী হই, তবুও এখানে আমি নগ্ন হতে পারব না, সম্ভব না। অন্য ভাবে চিন্তা করুন, ধরেন আমি রোজায় বিশ্বাস করি না, কিন্তু আমি আমার মায়ের আমার স্ত্রীর আমার ছেলেমেয়েদের হাসিমুখে বিশ্বাস করি, ওদের হাসিমুখ আমাকে প্রশান্তি দেয় এনার্জি দেয় তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসে আমি বাধা দেবার কে? আর কেউ যদি বলে নাস্তিক্যবাদের নামে এটা ভণ্ডামি, আমি সোজা বলে দিই, ভণ্ডদের দেশে ধর্ম গুরুদের ভণ্ডামি হল স্বাভাবিকতা। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত