প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] স্বামী কর্তৃক তালাকের চেয়ে স্ত্রী কর্তৃক তালাক সবচেয়ে বেশি, ঢাকায় দিনে ৩৯ তালাক !

শিমুল মাহমুদ: [২] ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন থেকে অক্টোবর মাসে তালাক হয়েছে ৫ হাজার ৯৭০টি। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে ২ হাজার ৭০৬টি আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩ হাজার ২৬৪টি তালাক হয়েছে। এই সময়ে প্রতি মাসে গড়ে ১ হাজার ১৯৪টি তালাকের ঘটনা ঘটেছে। আর ২০১৯ সালে প্রতি মাসে গড়ে তালাক হয়েছিল ৯২০টি। চলতি বছরের ৫ মাসে তালাক বেড়েছে ২৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তথ্য সূত্র: প্রথম আলো

[৩] নিকা ও তালাক রেজিষ্টার আলহাজ্ব কাজী মাওলানা মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, স্বামী কর্তৃক তালাকের চেয়ে স্ত্রী কর্তৃক তালাক সবচেয়ে বেশি। তালাকের ক্ষেত্রে অভিযোগ করা হয়, বনিবনা হচ্ছে না, মতের অমিল, সবচেয়ে বেশি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ মাধ্যমে পরকীয়ার। বিচ্ছেদের সময়কাল সম্পর্কে তিনি বলেন, কেউ কেউ এ বছর, দুই বছর, ছয় মাসের মধ্যে তালাকের ঘটনার সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বেশি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক সমস্যা জনীত কারণে মেয়ে পক্ষ থেকে এক সপ্তাহ পরও বিচ্ছেদের ঘটনা রয়েছে।

[৪] সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় তোহিদুল হক বলেন, সংসার জীবন হচ্ছে সম্পর্ক, উপলদ্ধি ও অনুভূতির জায়গা। মূলত একত্রে বসবাসের উদ্দেশে মানুষ বিয়ে করে। আমাদের চিন্তা করতে হবে এ বন্ধনে এমন কি উপকরণ, এমন কি আচরণ প্রবেশ করলো যে কারণে দুইজনকে আলাদা থাকার কথা ভাবতে হচ্ছে। বাংলাদেশে এর সাধারণ কিছু কারণ দেখানো হয়। কিন্তু কারণ গুলো কারণ হয়ে উঠার যে গল্প সেটি একেকটি দাম্পত্ব জীবনের জন্য একক রকম। এর সমাধান ভিন্ন। এ বিষয়গুলোকে যতোদিন পর্যন্ত আত্ম উপলদ্ধির জায়গায় নিয়ে আসতে না পারবো ততোক্ষণ পর্যন্ত এ সংকট সমস্যার কোনো পথ নেই।

[৫] মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার বলেন, আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এর অন্যতম কারণ। নারী যে মানুষ এবং তাদের প্রতি আলাদা সম্মান, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সকলের দায়িত্ব। সে বোধের জায়গাটায় আমরা পিছিয়ে আছি। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। নারীর অধিকার রক্ষা ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধের একমাত্র উপায় হচ্ছে অর্থনীতিকভাবে সাবলম্বী ও দক্ষ মানব শক্তিতে রুপান্তর।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত