প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তোমারে পিডাইয়া আলেম বানাইছে, আমি ঘরে বইসা শিখছি; ট্রলের শিকার তাপস

ডেস্ক রিপোর্ট : বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইসলাম সম্পর্কে বেশি জানা ও বড় আলেম হওয়ার দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ট্রলের শিকার হচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে নগর ভবনের মেয়র হানিফ অডিটোরিয়ামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ৪৯তম বিজয় দিবসের আলোচনায় শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, শান্তিকামী বাঙালি এক ৭ মার্চের ভাষণে সশস্ত্রবাহিনী হয়ে গেছে, গেরিলা যুদ্ধ করছে। আমরা বাপ গেরিলা যুদ্ধ করছে, রণাঙ্গনে। মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন করছে, ট্রেনিং দিছে, নিজে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করছে। সুতরাং আমাদেরকে দুর্বল ভাইবো না। চুপ কইরা বইসা থাকি, সহ্য করি। শুধু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, সংবিধানের স্বার্থ, গণতন্ত্রের স্বার্থে।

তাপস বলেন, জিগাইলাম, ভাস্কর্য ভাঙছো, কেন ভাঙছো ভাই? বলে ইসলাম। আরে ভাই, ইসলাম কি তোমার একার? মুসলমান কি তুমি একা? খৎনা কি তোমার একার হইছে, আমার হয় নাই? আরে, তোমার বাপ তোমারে পিটাইয়া মাদরাসায় পাঠাইছে আর আমি ঘরে বইসা আলিফ, বা, তা, ছা, জিম, হা শিখছি। তোমারে জোর করছে বইলা তুমি শিখছ। আর আমি স্বইচ্ছায় শিখছি।

‘তো তুমি আমার চাইতে বড় মুসলমান কোথ থেকে হইলা? আমি তিনটা ভাষা শিখছি – বাংলা, ইংরেজি, আরবি- স্বইচ্ছায়। তুমি তো শিখছ পিঠান খাইয়া। তাইলে তুমি বড় মুসলমান হইলা কিভাবে? কথায় কথায় তারা ইসলামের কথা কয়। আরে, একটা আকাম করবে তারপর হাদিস আর কোরআন নিয়া আসবে। হাদিস আর কোরআন কি তুমি একা পড়ছ? তুমি না হয় কয়েকটা আয়াত মুখস্থ করছ। আর কোরআন শরীফ আমিও কয়েক দফা পড়ছি- তেলাওয়াত শেষ করছি, অর্থ শেষ করছি, তরজমা শেষ করছি। হ্যাঁ মুখস্থ করিনি। তুমি মুখস্থ করছ, তোমারে পিটাইয়া মুখস্থ করাইছে।’

‘কইতে থাকবি, কইতেই থাকবি, তোতাপাখির মতো কইতে থাকবি। নাইলে তোরে বেত দিয়া পিটামু, কান ধইরা উঠবস করামু। তুমি সেজন্য মুখস্থ করছ,আর আমি সারা বিশ্বের সব কিছু শেখার জন্য তোমার মত মুখস্থ করি নাই। এই মুখস্থ শিক্ষার জন্য, পড়ার জন্য তুমি আমার চাইতে বড় মুসলমান হয়ে যাবা, আলেম হয়ে যাবা, এটা হলো? আমার পরিবারের দুজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তি এই ভূখণ্ডের পদার্পণ করেছিলেন।’

‘ইসলামের জন্য, ইসলামের প্রচারের জন্য এই ভূখণ্ডে আসছিলেন। আমার পরদাদা দরবেশ শেখ আব্দুল আউয়াল। ইসলামের জন্য জীবন দিয়ে চলে গেছেন। শেখ বোরহান উদ্দিন, তিনি ছিলেন বিজ্ঞ আলেম, ফরিদপুর এলাকায় আধ্যাত্মিক জগতের স্বনামধন্য আলেমদের একজন। আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর যদি ঐশ্বরিক ক্ষমতার না থাকতো তাহলে জাতিকে স্বাধীনতা দিতে পারত না। আর দুই আয়াত মুখস্থ কইরা তুমি হইয়া গেলা বড় আলেম! বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙো?’

তিনি বলেন, কত কিছু হইল? জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করলা, নিশ্চিহ্ন করে দিছে জঙ্গিবাদ, নাই বাংলাদেশের মাটিতে আর জঙ্গিবাদ। ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের টাইনা নিয়া আইসা ফাঁসিতে লটকাইছে, এটার নাম হলো শেখ হাসিনা। তোমার নেত্রীরে এখন পর্যন্ত বের করতে পারো না, একটা উচ্চারণ করো না তোমার নেত্রীর ব্যাপারে। আর তুমি আমারে গৃহযুদ্ধের ভয় দেখাও? আমরা কি চুড়ি পড়ে আছে নাকি? শেখ হাসিনা চাইলে ৭ দিনও তো লাগবো না, তোমরা কেউ যত কথা কও। শেখ হাসিনা তো গণতন্ত্র পালন করে, সংবিধান সমুন্নত রাখতে। তাই সব হজম করছে, সহ্য করছে। কারণ সে জাতির পিতার কন্যা। সংবিধান এবং গণতন্ত্রের বাইরে যায় নাই, নয় মাস জেল খাটছে নিজে- শুধুমাত্র গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য।

ট্রাল করে একজন লিখেছেন, ‘‘তোমার বাপ-মা তোমারে পিটাইয়া পিটাইয়া মেডিকেলে পাঠাইছে। তারপর তুমি এমবিবিএস পাস করছো। আর আমি ফার্মেসিতে বইসা বইসা সব ওষুধের নাম মুখস্ত কইরা, নাপা, এইস+, এন্টাসিড+ বেইচা অনেক কিছু শিখছি। কেডা বড় ডাক্তার? তুমি না আমি? আরে তোমারে তো পিডাইয়া পিডাইয়া ডাক্তার বানাইছে আর আমি নিজের ইচ্ছায় ফার্মেসিতে বইসা বইসা সব শিখি ফালাইছি। এখন তুমি আমার চেয়ে বড় ডাক্তার হইয়া গেছো?’’ এই লেখাটি ফেসবুকের ব্যাপকভাবে প্রচার হতে হয়েছে।
সূত্র- পাবলিক ভয়েস

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত