প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উপহার নিয়ে আসছেন সান্তাক্লজ, বড়দিনের জন্য শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা

নিউজ ডেস্ক: সময়টা বৈরী। হাসি আনন্দের উপলক্ষ কমে গেছে। তবে আর মাত্র কদিন পর হ্যাপি ক্রিসমাস। দারুণ এ উৎসবকে, হোক না অসুখের কাল, পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না। দুনিয়াজুড়েই এখন সাজসাজ রব। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এখানে নীরবেই চলছে বড়দিনের প্রস্তুতি। সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজধানী ঢাকা।

ক্রিসমাস খ্রীস্ট ধর্মের অনুসারীদের প্রধান উৎসব। তাই বলে অন্যেরা হাত গুটিয়ে বসে থাকেন, না, এমন নয়। ‘ধর্ম যার যার/উৎসব সবার’ নীতি এ ক্ষেত্রেও অনুসৃত হয়। তাছাড়া বাঙালী সব সময়ই উৎসব প্রিয়। তাই এ উৎসবটিও সবার হয়ে ওঠে। এবারও ব্যতিক্রম হবে না। আগামী ২৫ ডিসেম্বর সবাই মিলেই উদ্যাপন করবে ক্রিসমাস বা বড়দিন।

হিসাব অনুযায়ী, বলগা হরিণ নিয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছেন সান্তাক্লজ। সান্তা ক্রিসমাস ইভ বা ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এবং মধ্য রাতে ভাল শিশুদের জন্য উপহার নিয়ে আসবেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের উপহার পৌঁছে দেবেন তিনি। শুনবেন শিশুদের চাওয়াগুলোও। এ মুহূর্তে শহরের বিভিন্ন বাসা বাড়িতে দৃশ্যমান হচ্ছে ক্রিসমাস ট্রি। অল্পস্বল্প আলোকসজ্জাও চোখে পড়ছে। নিজেদের মতো করে অনেকেই বাসা বাড়ি সাজাতে শুরু করেছেন। চলছে কেনাকাটা। ঢাকার অভিজাত মার্কেট শপিংমল বড়দিনের আগাম বার্তা দিচ্ছে।

রবিবার বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে গিয়ে দেখা যায়, আসন্ন ক্রিসমাসকে আলাদা গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছেন দোকানিরা। ব্র্যান্ড শপগুলোতে বিশেষ লাল জামা পরা সান্তাক্লজ। দেখে বোঝা হয়ে যায়, উৎসব আসন্ন। আর ‘ইনফিনিটি’র বিশাল শোরুমের সামনে দাঁড়িয়ে তো চোখ ছানাভরা! অনেকটা জায়গাজুড়ে ক্রিসমাসের বিশেষ ডিসপ্লে। গ্লাস শোকেসে হরিণগুলোসহ সান্তাক্লজ। তুষার ভেদ করে এগিয়ে আসছেন তিনি। ক্রেতারা সেদিকে তাকিয়ে অন্যরকম এক দোলা অনুভব করছেন। উৎসব যেন এসে ছুঁয়ে দিচ্ছে তাদের।

ক্রিসমাসের কেনাকাটা করতে সস্ত্রীক বসুন্ধরায় এসেছিলেন প্যাট্রিক ডি রোজারিও। প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্রিসমাসের জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকি। এবার কী হবে, বুঝতে পারছিলাম না। নতুন জামা কাপড় কেনার পরিকল্পনাও আটকে ছিল অনেকদিন। এ পর্যায়ে এসে মনে হলো ছেলে-মেয়েদের জন্য হলেও, নতুন পোশাক কেনা উচিত। তাই আসা। এরও আগে বাসায় ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিক্রেতারাও খুব একটা হতাশ নন। নামকরা একটি বিদেশী ব্র্যান্ডের ম্যানেজার প্রদীপ বলছিলেন, করোনার কারণে ব্যবসা খুব মন্দা। তবে যে কোন উৎসবে বিক্রি কিছু বাড়ে। আমরা বিক্রেতারাও উৎসবগুলোর সঙ্গে একাত্ম হই। এ কারণে ক্রিসমাসের রঙে দোকান সাজিয়েছি। প্রথম দিকে অত সাড়া না পেলেও, এখন বেশ ভাল সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীর অভিজাত কিছু হোটেলে ক্রিসমাস উদ্যাপনের ব্যবস্থা রাখা হবে। প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁও এ ক্ষেত্রে বরাবরই এগিয়ে। এবারও ক্রিসমাস উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে পাঁচতারকা এই হোটেল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তানভীর জানাচ্ছেন, হোটেলের লবি ছোট বড় একাধিক ক্রিসমাস ট্রি দিয়ে সাজানো হবে। আলোকসজ্জা করা হবে বিভিন্ন অংশ। লবির টেরাকোটা কর্নারে থাকবে বড়দিনের আকর্ষণীয় ডিসপ্লে। বলগা হরিণসহ সান্তাক্লজকে উপস্থাপন করা হবে এখানে। খ্রিস্টীয় ধর্মবিশ্বাস মতে, সান্তা বাস করেন সুদূর উত্তরের এক চিরতুষারাবৃত দেশে। সে তুষার পাতের একটা আবহ তৈরি করা হবে। ডিসপ্লের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে পারবেন আগতরা। পেট মোটা লাল জামা আর লেজওয়ালা টুপি পরে ঘুরে বেড়াবেন সান্তাক্লজ। শিশুদের মধ্যে চকোলেট ও অন্যান্য উপহার বিতরণ করবেন।

এসবের বাইরে মূল আয়োজন থাকবে হোটেলের পেছনের অংশে। খোলা প্রাঙ্গণে শিশুদের বিনোদনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। উৎসব মঞ্চ থেকে চলবে নাচ। গান। এমনকি ম্যাজিক। আগ্রহী শিশুরা মঞ্চে সবার সঙ্গে নাচতে ও গাইতে পারবে। থাকবে নাগরদোলা, টয়ট্রেনসহ বেশ কিছু আকর্ষণীয় রাইডে চড়ার সুযোগ। খেলাধুলার সুযোগ থাকবে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় আছে ঘোড়ার গাড়িতে চড়া, টিয়াপাখি দিয়ে ভাগ্য গণনা, বানর খেলার আয়োজনও। তবে করোনা পরিস্থিতির কথাও মাথায় রাখছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। সংক্রমণ বিবেচনায় পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তনও আসতে পারে বলে জানান তিনি।

অবশ্য ক্রিসমাসের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সকালে গির্জাগুলোতে শুরু হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে এসব আনুষ্ঠানিকতা সারার প্রস্তুতি নিয়েছে গির্জা কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে উৎসবটি একেবারে উদ্যাপনহীন যাবে না। বরং দুঃসময়ে এ উদ্যাপন ঘুরে দাঁড়ানোর মাসনিক শক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: জনকন্ঠ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত