প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অজয়দাশ গুপ্ত: এই রক্তমাখা মাটিতে আজ নাকি শাড়ী, দীপ, খোলা চুল নাকি নিষিদ্ধ হবার পথে!

অজয়দাশ গুপ্ত: জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা কিছু একটা পড়ছিলেন। মনে মনে জানা হয়ে গেছিলো আর কদিন পর দেশ মুক্ত হতে চলেছে। পাকবাহিনী ও তার দালালদের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত। অধ্যাপক মানুষ মন খুলে না পারছেন কথা বলতে না লিখতে। ডিসেম্বরের শীতের রাত। ঢাকার রাস্তায় মানুষজন নেই বললেই চলে। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে চমকে গেলেও ঠাণ্ডা মাথায় দরজা খুললেন। তার ধারণা না তিনি কারও মন্দ চান, না কারও কোনো ক্ষতি করেছেন তিনি। দরজা খুলতেই ছেলেটিকে চেনা মনে হলো তার। কাছে গিয়ে দেখলেন তাইতো এতো তার ছাত্র। ছেলেটি বেশ জোর গলায় বলছে, স্যার একটু বাইরে যেতে হবে, কথা আছে। হতবিহ্বল অধ্যাপক জামাটা গায়ে চাপিয়ে বললেন, কোথায় যেতে হবে বাবা? তুমি কিছু খেয়েছো? দুটি ভাত খেয়ে নাও বরং। সে যাত্রাই কাল হয়েছিলো তার। যাকে তিনি ভাত খেতে বলেছিলেন সে ছাত্র মঈনুদ্দিনই স্যারের বুকে গুলি চালানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিলো। আলতাফ মাহমুদ সুরের রাজপুত্র। তার সুরে গাওয়া আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশের গান পছন্দ ছিলো না তাদের। তাকে তুলে নিলে কোকিলের কণ্ঠও স্তব্দ হয়ে যাবে, এই ভেবে সঙ্গীতহীন করতে চেয়েছিলো আমাদের। আমি তাকে দেখিনি। তার একমাত্র সন্তান শাওন মাহমুদকে দেখেছি। দূর দেশে একসঙ্গে কিছু কাজের চেষ্টা ও করেছি আমরা। কিন্তু কোথায় তার পিতা? কেউ‘ই জানলো না কোনোদিন? জিসিদেব আলভোলা মানুষ। তিনি ভাবলেন এই যুদ্ধের সময় কোথায় যাবেন? কি করবেন বসে বসে? মহামতি বুদ্ধকে নিয়ে একটি বই লেখা তখন ও শেষ হয়নি। সেটাই শেষ করছিলেন তিনি। নিশি ভূতের ডাকে দরজা পেরিয়ে যাওয়া জিসিদেব না পেরেছিলেন ফিরতে না বুদ্ধকে নিয়ে লেখাটা শেষ করতে। কেউ কি জানেন রক্তভেজা সেই পান্ডুলিপি কোথায় পড়ে আছে? শীতের সকালে শিশুপুত্র সুমনকে তেল মাখিয়ে দিচ্ছিলেন মা। রান্নাও চড়েছিল চুলায়। এমন মায়াময় সকালে মা কে তুলে নিয়ে গেছিলো তারা। মা সুমনকে বলে গিয়েছিলেন, তিনি যাবেন আর আসবেন। তিনি আর আসেন নি, পাওয়া গিয়েছিলো বা স্তন কেটে নেওয়া থেতলানো মুখের মা সেলিনা পারভীনের নিথর শরীর। কারণ একটাই তিনি সাংবাদিক। তিনি জয় বাংলার পক্ষে ছিলেন। এই দেশে, এই রক্তমাখা মাটিতে আজ শাড়ী, দীপ, খোলা চুল সব নাকি নিষিদ্ধ হবার পথে। প্রায় পঞ্চাশে দাঁড়িয়ে এ তুমি কি দেখছো হে স্বদেশ? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত