প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]বাংলাদেশ সরকার, সেরাম (ভারত) ও বেক্সিমকোর মধ্যে ভ্যাকসিন সংক্রান্ত চুক্তির উল্লেখযোগ্য ১৩ শর্ত

তাপসী রাবেয়া: [২] বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমতি ও জরুরি ব্যবহার কৃর্তপক্ষের অনুমতি পাওয়ার একমাসের মধ্যে বাংলাদেশে এই টিকা সরবরাহ শুরু করবে সেরাম। আর ছয়মাসে পুরো তিন কোটি ডোজ সরবরাহ শেষ করবে, এভাবে প্রতিমাসে ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন আসবে।

[৩] ৩ কোটি ডোজের পরও যদি বাংলাদেশ আরও অতিরিক্ত ভ্যাকসিন কিনতে চায় সেক্ষেত্রে টিকার দাম ও সরবরাহের প্রক্রিয়া ত্রিপাক্ষিক (বাংলাদেশ সরকার, সেরাম ইন্সটিটিউট, বেক্সিমকোফার্মা) আলোচনায় নির্ধারিত হবে।

[৪] সেরামে এই তিন কোটি টিকার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হবে এক হাজার পাঁচশ উননব্বই কোটি তেতাল্লিশ লাখ টাকা অর্থাৎ ১২০,০০০,০০০ মার্কিন ডলার। তবে শর্ত রয়েছে সেরাম যদি এই টিকা ভারত সরকারকে ৪ ডলারের কমে দেয় তবে একই দামে সমন্বয় করে বাংলাদেশকেও দিতে হবে।

[৫] সেরাম যদি কোনও কারণে বাংলাদেশকে পুরো ৩ কোটি ডোজ টিকা দিতে না পারে তাহলে যে পরিমাণ টিকা দিতে ব্যার্থ হবে সেই পরিমাণ অর্থ লিখিত নোটিশ পাবার ১০ দিনের মধ্যে ফেরত দেবে।

[৬] আমদানির পুরো সময়টুকু এমনকি পরিবহনের সময়ও অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারকে দেয়ার সময় পর্যন্ত সেরাম এবং বেক্সিমকো ফার্মাকে যৌথভাবে এই টিকার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শীতলীকরণ শর্ত মানতে হবে। উল্লেখ থাকে সেরামের প্লান্ট থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাক্সিক্ষত স্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত এই দায়িত্ব নিশ্চিত করবে সেরাম এবং বেক্সিমকো।

[৭] সরকারের হাতে পৌঁছানোর আগে বেক্সিমকোকে নিশ্চিত করতে হবে প্রাথমিক সংরক্ষণের সময়ও শীতলীকরণ শর্ত মানতে হবে তবে এই সময় কোনোমতেই দুই সপ্তাহের বেশি নয়। এরপর এই টিকা সংরক্ষণের দায়ভার বাংলাদেশ সরকাররের।

[৮] এই টিকা বহন বা সংরক্ষণ করা হবে এতে সংযুক্ত থাকবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ ‘ভিভিএম’ ভ্যাকসিন ভায়াল মনিটর। এই মনিটর সুক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ করবে, এটি বহন বা সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটেছে কিনা।

[৯] প্রাথমিকভাবে সেরাম থেকে এই ভ্যাকসিন গ্রহনের সময় বেক্সিমকো প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করবে এই ভ্যাকসিনে কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে কিনা, সঠিক সংখ্যার ভ্যাকসিন এসেছে কিনা। কোনও ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে কিনা। তাদের পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশ সরকার এবং সেরামকে প্রাথমিক ভাবে লিখিতভাবে জানাতে হবে। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন হবে বাংলাদেশ সরকারের সংগ্রাহাগারে।

[১০]বাংলাদেশ সরকার বেক্সিমকো ফার্মাকে এই ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও তদারকি কারা করবে এমন ব্যাক্তিদের তালিকা দেবে। তালিকায় উল্লেখিত ব্যক্তিরাই এই ভ্যাকসিনের সার্বিক পরিস্থিতি তত্ত্বাবধায়ন করবে।

[১১] ভ্যাকসিন গ্রহনের ৩০ দিনের মধ্যেই সেরামকে ভ্যাকসিনের ত্রুটি বিচ্যুতি যদি থেকে থাকে তবে তা জানাতে হবে। উল্লেখিত ত্রুটিগুলো নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষ দ্বারা পরীক্ষার পর যদি দেখা যায় ত্রুটি সেরাম কর্তৃপক্ষের সে ক্ষেত্রে ঐ লটে আসা সকল টিকাই ফেরত নিয়ে লিখিত যোগাযোগের ৬০ দিনের মাথায় নিজ খরচে নতুন করে নিয়ে আসবে সেরাম। যদি অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হয় তবে নতুন শিপমেন্টের জন্য মূল্য পরিশোধ করবে বেক্সিমকো।

[১২] অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারের ভ্যাকসিন সংগ্রহশালালয় আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ভ্যাকসিন সংরক্ষণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তাপমাত্রা ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে হবে।

[১৩] বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে বেক্সিমকো ফার্মা সেরামের সহযোগিতায় সরকারকে টিকা সংরক্ষণ, টিকা প্রয়োগের পদ্ধতি, টিকা ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণের সকল তথ্য দেবে। এমনকি সরকারের বাছাইকরা ব্যাক্তিদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে কিভাবে এই ভ্যাকসিন পরিবহন করতে হবে, কিভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত