প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরিফ রহমান: আমরা ৪৯ বছর ধরে নিজেদেরই প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছি গণহত্যার নির্মমতা কতোখানি

আরিফ রহমান: পৃথিবীব্যাপী নিয়ম হচ্ছে যুদ্ধে পরাজিত অফিসারদের সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা এবং বেতন পেনশন ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত করা। জেনারেল নিয়াজি এবং তার অধীনস্থ অধিকাংশ অফিসারদের বেলায় এই নিয়ম খাটানো হলেও ব্যাতিক্রম একজনের নাম রাও ফরমান আলী। মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে পাকিস্তান সরকার সম্মানের সাথেই বহাল রাখে চাকরিতে। ১৯৭২ সালে তাকে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ‘ফৌজি ফাউন্ডেশন’-এর ডিরেক্টর করা হয়। পাক্কা দশ বছর পাকিস্তানের সবচাইতে বড় এই সামরিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলো এই ফরমান আলী। কেউ কি ধারণা করতে পারেন আর সব অফিসারদের বাদ দিয়ে ফরমানের ওপরেই কেন পাক বাহিনীর এই ভালোবাসা? ঠিক ধরেছেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড…।

বুদ্ধিজীবীদের রক্ত পরাজিত পাকিস্তানিদের দগদগে ঘা-এর ওপর কিছুটা শান্তির মলম হিসেবে কাজ করে। তারা বুঝতে পারে এই জাতির ‘ইথিনিক ক্লিনজিং’-এর জন্য যেই গণহত্যা তারা পরিচালনা করেছিলো সেই প্ল্যান অন্তত ফরমানের হাত ধরে আংশিক হলেও সফল হয়ে উঠবে। এজন্যই অন্য অফিসারদের চাকরিচ্যুত করা হলেও জেনারেল ফরমানের জন্য ছিলো অনেক অনেক পুরস্কার। ফরমানই যে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা তার প্রমাণ হিসেবে পাওয়া যায় স্বাধীনতার পর তার অফিস থেকে পাওয়া একটি ডায়েরি, যেখানে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নাম ধরে তালিকা পাওয়া যায়। সেই ডায়েরিতে থাকা অধিকাংশ বুদ্ধিজীবীদের মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হত্যা করা হয়। এই ডায়েরি যে সে নিজেই মেন্টেইন করতো সেটা স্বীকার করে একাধিক সাক্ষাৎকার ফরমান দিয়েছে।

বাঙালি হত্যার ব্যাপারে পাকিস্তানিদের কোনোকালেই কোনো অপরাধবোধ ছিলো না। তারা ঠিকই স্বীকার করে যে তারা হত্যা করতে এসেছিলো। আইয়ুব খান নিজের ডায়েরিতে লিখেছে যে কীভাবে একজন সৈনিক একলা ১৪,০০০ মানুষকে হত্যা করেছিলো। অস্বীকার করি কেবল আমরা। আমাদেরকে অংক করে দেখিয়ে দিতে হয় একাত্তরে কতো মানুষ মারা গিয়েছিলো। আমরা ৪৯ বছর ধরে অবিরত আমাদের নিজেদেরই প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছি গণহত্যার নির্মমতা কতোখানি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত