প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অজয় দাশগুপ্ত: ঘুরে দাঁড়ানোর বিজয় দিবস

অজয় দাশগুপ্ত: বিজয় দিবস কি আসলে সেভাবে উদ্যাপন করা হয় যেভাবে হ ওয়া দরকার ছিলো? এই প্রশ্ন আজ প্রত্যেকের নিজেকে অন্তত একবার হলেও করা উচিত। আজকের ডিসেম্বর আর একাত্তরের ডিসেম্বর যে এক নয়, তা বলার কোনো কারণ দেখি না। সে কথা তো পরে, এমনকি দেশ স্বাধীনের পর এতোগুলো সরকার এলো-গেলো তখনো আমাদের বিজয় এমন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়ায়নি। আপনি সুখনিদ্রা যাচ্ছেন যান , বুদ্ধিবৃত্তি কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় সময় কাটাচ্ছে , কাটাক কিন্তু যখন নয়ন মেলবে তখন কি দেখবে তা বলা কী খুব মুশকিল? আর যাই দেখুক না কেন, যে দেশ স্বাধীন করার জন্য তিরিশ লাখ মানুষ জান দিয়েছিলেন, লাখ লাখ মা-বোনেরা সম্মান হারিয়েছিলেন, সে দেশ আর দেখবেন না। আমি মনে করি আজকের বিজয় দিবস এক কঠিন দানব ও দানবীয় সত্যের মুখোমুখি করেছে জাতিকে। দীর্ঘ সময় ধরে পাশ কাটিয়ে এড়িয়ে বা চোখ বুঁজে আত্মতৃপ্তি অনুভব করার দিন আর নাই। আজকের বিজয় দিবস ধর্মের নামে উগ্রবাদ আর আর বাঙালি জাতীয়তাবাদকে মুখোমুখি করে তারা কি চায়? সংঘাতপূর্ণ সমাজে কি চাচ্ছে তারা?

এর জবাব সরকার জানলেও দিতে পারবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাদ দিলে সরকারে আওয়ামী লীগে দ্বিতীয় কেউ আছেন যাঁর কথা মানুষ কোনো সন্দেহ বা দ্বিধা ছাড়া মেনে নেবে? কতো দিন, কতো মাস, কতো বছর হয়েছে আওয়ামী লীগের মতো দল কোনো বিরোধীর মোকাবেলা করেনি? মোকাবেলা কি সবসময় যুদ্ধ না মারামারি? বিজয় দিবসে যে গণতন্ত্র আর আধুনিক দেশ পাবার কথা তার কি কিছু আছে আসলে? এই যে একতরফা একমুখী সবকিছু তাতেই ধ্বংস হয়ে গেছে প্রতিরোধ। সব দেশে সব সমাজেই বাধা থাকে। কাজ করে প্রতিক্রিয়াশীলতা। এই প্রতিক্রিয়াশীলতাকে রুখতে চাই বিজয়ী জাতির অঙ্গীকার। যার নাম রাজনীতি। তা ছিলো বলেই তাজউদ্দীন, সৈয়দ নজরুলদের মতো নেতা পেয়েছিলাম আমরা। আমাদের ইতিহাসকে রাঙিয়ে দিয়ে গেছে বাঙালি অসাম্প্রদায়িকতা। আজকের বিজয় দিবস সেগুলো হারিয়ে কেবল এক আনুষ্ঠানিকতা।

মূল কারণগুলো আমরা জানলেও মানতে চাই না। বিভ্রান্ত এই প্রজন্ম তো বটেই আমাদের সমবয়সী বা অনুজদের অনেকেই পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণকে মনে করেন ভারতীয় হিন্দুদের কাছে পরাজয়। যে কথা শুরুতে বলছিলাম স্বাধীনতা দিবস আর বিজয় দিবস দুটোই ততোটা আন্তরিক ভাবে পালন করা হয় না। যতোটা প্রথাগত। গোড়ার কিছু বছর বাদ দিলে সবসময় হয় কূটতর্ক বা ভুল ইতিহাসে আজ এই অবসহা। সময় প্রায় শেষ। অর্ধশত বছরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো বিজয় দিবস যা চায় যা তার প্রাপ্য তা দিতে হলে আধুনিক সমাজ অসাম্প্রদায়িক স্বদেশ আর সরকারের কঠিন অবস্থানের বিকল্প নাই। মনে রাখা প্রয়োজন এমন অনেক স্বাধীন দেশ আছে যাদের স্বাধীনতা পুরনো না হতেই বাঁক পরিবর্তন এমন কি নাম ও বদলে গেছে। আমরা বিজয় অর্জন করেছি রক্তসাগর পাড়ি দিয়ে। যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের ইতিহাস বাঙালির প্রথম গৌরবের নাম । এই ইতিহাস একবার হাতছাড়া হলে বাংলাদেশের মাটি আমাদের মাফ করবে না। মাফ করবেনা আকাশ, নদী, ফুল, পাখি কিংবা ভোরের বাতাস। শুভ হোক বিজয় দিবস। ঘরে ঘরে প্রগতিশীলতার দুর্গ গড়ে তোল হে বাঙালি।

সর্বাধিক পঠিত