প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিজয়ের ৪৯ বছরেও সংরক্ষণ হয়নি চান্দিনার গণকবর ও বধ্যভূমি; নেই কোনো স্মৃতি চিহ্ন

টি. আর. দিদার: [২] কুমিল্লার চান্দিনা সাহাপাড়া ও হাড়িখোলা দুটি বধ্যভূমি এবং কাসেমপুরে ও কংগাই-এ দুটি গণকবর রয়েছে। যেখানে রয়েছে অনেক দেশপ্রেমিক মুক্তিকামী জনতার নির্মম স্মৃতি গাঁথা। অথচ বিজয়ের ৪৯ বছরেও সংরক্ষণ করা হয়নি এসব স্থান। সেখানে নেই কোন স্মৃতি চিহ্নও।

[৩]বিজয়ের মাস আসলেই শুধু মাত্র কাশিমপুর গণকবর নিয়ে কড়া নাড়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। আর প্রশাসনও সংবাদকর্মীদের মন জয় করার জন্য একদিন সেখানে উপস্থিত হয়ে কিছু ছবি তুলেই শেষ করে কার্যক্রম। তারপর খাস ভূমিতে থাকা ওই গণকবরটি ব্যবহৃতি হয় স্থানীয়দের গৃহস্থালির কাজে।

[৪] গত বছর সংবাদকর্মীদের মনরক্ষায় তৎকালীন ইউএনও স্নেহাশীষ দাশ বিজয় দিবসের দু’দিন আগে গণকবরটি পরিদর্শন করে বিজয় দিবসের আগেই স্থানটি সংরক্ষণ করে শহীদদের নামের তালিকা সম্বলিত একটি ফলক স্থাপনের নির্দেশ দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে। নির্দেশ প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন বক্সী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আব্দুল মালেক, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি বিষয়ক গবেষক তাহমিদুর রহমান দিদার, স্থানীয় সংবাদকর্মী রনবীর ঘোষ কিংকর প্রমুখ।

[৫] নির্দেশের এক বছর পর সরেজমিনে কাশিমপুর গণকবরে গেলে দেখা যায় গণকবরের উপর আবর্জনার স্তুপ। নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। গত বছর সাঁটানো ফেস্টুনটিও কেটেছিড়ে চৌচির।
[৬] এলাকাবাসী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গণকবরটি আজও অরক্ষিত, নেই কোন স্মৃতি চিহ্ন। প্রতি বছর ১৬ডিসেম্বর এলে পরিস্কার করলেও পরদিন থেকেই ধ্বংসস্তুপ”। তাদের দাবী স্থানটিকে সংরক্ষণ করে এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ করা হোক।

[৭] এ প্রসঙ্গে মাধাইয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অহিদ উল্লাহ জানান, ‘বাজেট তো দেয় নাই, এটা তো অনেক টাকার কাজ, বাজেট পেলে করে দিব’।
এ প্রসঙ্গে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিভীষণ কান্তি দাশ জানান, ‘আমি চান্দিনা এসে এখনো পাই নাই, সবগুলি তালিকা পাঠাব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মস্ত্রণালয় থেকে এগুলি সংরক্ষণের জন্য বাজেট দেয়া হবে’।

[৮] মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রাজাকার আব্দুর রহমান মৃধার সহযোগিতায় প্রায় দেড়শতাধিক পাকবাহিনী গ্রামে ডুকে ৮জনকে হত্যা করে। তাঁদেরকে কাশিমপুর পেইরারপাড় এলাকায় গণকবর দেয়া হয়। তারা হলেন- জগবন্ধু মাষ্টার (৬০) ও তার ছেলে সুধীর সরকার (৪০), চিত্ত রঞ্জন সরকার (৪৫), অমূল্য চন্দ্র দাস (৫০), চেতন চন্দ্র সরকার (৩৫), যুগেন্দ্র চন্দ্র সরকার (৪০), শিশু চন্দ্র সরকার (৩৮) ও শান্তি রঞ্জন শীল (৩৫)।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত