প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুপর্ণা ফারজানা: বিজয়ের শুভেচ্ছা কোটি বাঙালিকে

সুপর্ণা ফারজানা: বহু রথীমহারথীরা যা করে দেখাতে পারেনি কিন্তু একজন কৃষক তার ফসলের মাটিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অমায়িক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার চিত্র তুলে ধরতে পেরেছেন, তা সত্যি দৃষ্টান্তস্বরুপ। তাতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে রাজনীতির সুযোগ সাধারণ মানুষ দিবে না। আদর্শ সাথে নিয়ে চলুন তা সময় অতিক্রম করেই প্রস্ফুটিত হবে। আর আদর্শহীন পথচারীরা সময়ের পরিক্রমায়ই হোঁচট খাবে, ইতিহাস অন্তত তারই সাক্ষ্য দেয় ।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদ পরিবারের সন্তানদের শোকে মুহ্যমান হতে দেখিনি, দেখেছি শোককে তাঁরাই শক্তিতে বিশ্বাসে পরিণত করে দিনশেষে দেশমাতৃকার অকুতোভয় সংগ্রামী যোদ্ধা হয়ে সেবা করে যেতে। আপনারাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা, আপনারাই সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। অনেকেই রাজনীতির প্রচলিত ধারার বাইরে এসে নিজেদের বিতর্কের উর্ধে রেখে এগিয়ে চলেছেন প্রতিনিয়ত।

পেশাজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, স্থপতি, প্রকৌশলী, শিক্ষক – অর্থাৎ জাতির পথপ্রদর্শকদের সরিয়ে ফেলার যে নীলনকশা তৈরি করেছিলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও দোসররা তা কেবলই  গণহত্যার দুঃসহ স্মৃতি নয়, তা এদেশীয় সহযোগীদের যুদ্ধাপরাধের প্রামাণ্য দলিল। ৭৫ পরবর্তী সময়ে যখন ইতিহাস ঐতিহ্যকে আড়াল করে ভিন্নার্থক রাজনৈতিক রুপদানে চেষ্টা অব্যাহত ছিলো সে সময়এ দেশীয় দোসররা নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের জন্য, নিজেদের অপরাধকে হালাল করার জন্য বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি নিয়ে, সংসদে প্রতিনিধিত্ব পর্যন্ত করতে চলে যায় যা কেবল সম্ভব হয়েছিলো স্বৈরশাসকদের মসনদকে পাকাপোক্ত রুপদানের প্রচেষ্টার ফলে।

তারা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে রাজনৈতিক পথকে সুগম করার চেষ্টা চালিয়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো যারা এতো বছর ক্ষমতায় ছিলো কেন তারা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারে নি কারণ দুটি।

১.শিক্ষিত সমাজের চোখে ধুলো দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল সম্ভব নয়।

২.দেশের তৃনমূল পর্যায় পর্যন্ত তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধিত হওয়া এবং নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ প্রবাহে জনগণকে যুক্ত করা।

অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ। ৭১ এ হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সবাই এক বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো সে আত্মত্যাগের ইতিহাস আড়াল করা কখনোই সমর্থন করবে না এদেশের শান্তি প্রিয় জনগোষ্ঠী। সুতরাং কেবলমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে খেলা করার ফর্মুলা খাটবে না। বঙ্গবন্ধুর এক আঙুলের ইশারায় যে দেশপ্রেমের শক্তি তা ঘাতককেরা জানে।ঘাতকের রক্ষা নেই যদি জনগণ আবার একত্রিত হয়। এ ভয়েই নব্য রাজাকারের দল ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। গাড়িতে যখন তোমাদের পতাকা দিয়েছিলো তোমাদের পৃষ্ঠপোষকরা, তারাও জানে তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত একদিন না একদিন করতেই হবে। পাপের লাইসেন্স পেলেও প্রায়শ্চিত্ত করতেই হয়েছে এদেশের মাটিতেই। সে গল্প আরেক দিন লিখবো।

অর্ধ সত্য অর্ধ ইতিহাস পড়িয়ে অনুর্বর মস্তিষ্কের প্রজন্ম গড়তে পারে নি তারা বরং ক্ষমতার পালাবদলে নিজেদের চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে। সময়ের ব্যাপার মাত্র! ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার একবার বলেছিলেন “পৃথিবীর কোন দেশেই যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক অধিকার নেই কেবলমাত্র বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে তারা ;ভাবলে সত্যি খারাপ লাগে। ”

সে সুযোগ বাংলার মাটিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রকৃত সৈনিকরা আর দেবে না। রাতপোহালেই  ভোরের সূর্যের আলো জানান দেবে বিজয়ের। কয়েকঘন্টা পর তোপধ্বনির আয়োজনে হানাদার বাহিনীর মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের মহিমান্বিত দিনটির তাৎপর্য জানান দিবে। বিজয়ের ৪৯ বছর- এগিয়ে চলেছি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগড়ার তাগিদে, তাঁরই দেখানো পথে ছুটে চলেছি নিরন্তর বীর বাঙালি। প্রথাগত কুসংস্কার, ধর্মান্ধতাকে পেছনে ফেলে ছুটে চলেছি তরুণ প্রজন্মের সারথিরা। এ জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।সুযোগ সন্ধানীদের দিন শেষ, বার্ধক্যে পৌঁছে গেছে আজ তারা। আমার স্বপ্নের জন্মভূমি, ভালোবাসি তোমায়, বিজয়ের শুভেচ্ছা কোটিবাঙালীকে। নির্ভয়ে আনন্দে মাতো বিজয়ের লাল সবুজের পতাকাতলে ; বাংলাদেশ। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত