প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আনোয়ার শাহাদাত: আমাদের শৈশব কলঙ্কিত হয়েছিল একটা রাষ্ট্রীয় ‘খুনখারাবির’ মধ্যদিয়ে

আনোয়ার শাহাদাত: আমাদের শৈশব কলঙ্কিত হয়েছিল একটা রাষ্ট্রীয় ‘খুনখারাবির’ মধ্যদিয়ে। তখনকার সময়ে আমাদের বরিশালের নাজিরের পোলের খালে চুবাতে আনা হতো মধ্যবয়স্ক, ‘নাজিরপোল-স্বরোডের’ পাগলা গারদ হতে এক পাগলকে; ঠিক যখন তাকে খালে জোয়ারের স্রোতে চুবানোর প্রস্তুতি; তার আগে অর্থাৎ চুবানোর ঠিক আগ মুহূর্তে ‘পাগল’ বলে থাকতো যে ‘আমাকে প্রার্থনা করতে দাও চুবানোর আগে’। তিনি [পাগল] তখন এক হাত আকাশের দিকে (অন্য হাত কোমরে রাখতেন) বলতেন হয়তো সেই তার প্রার্থনা- ‘হায়! এ কেমন যুগ এলো যখন এই ভূমির শিশুরা এমনতর খুন-খারাবির ভেতর দিয়ে যাবে, হায়। ঈশ্বর চুবানি হচ্ছে দুনিয়ার সুখের ঘটনা এর চাইতে’। এই বলে লোকটি নিজেই চুবানি খেতে ডুব দিতেন। আমি হলাম রাষ্ট্রের সেই সময়য়ের শৈশবোত্তীর্ণ কিশোর, যখন বরিশালের পাগলেরা রাষ্ট্রের অশুভ সবকিছুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে জোয়ারের জলে স্বেচ্ছায় চুবানি খেতে চলে যায় সে পাগল বলে হয়তো। এরপর ওই যুগে আমরা যখন ৮০ সালের শুরুতে কোনো একসময় ঢাকায় আসি তখন আমাদের স্বপন হয় আওরঙ্গদের মতন সাকুরায় গুলি চালিয়ে সামরিক শাসনের একধরনের প্রতিবাদ করা, না হয় সাফারি পরে কালো চশমা লাগিয়ে জিয়াউর রহমানের মতন ভাব ধরে কিছু একটা করা।

সে হয়তো কিছু খুন-খারাবি, কিছু পাকিস্তানি রাজনীতি (কতো কিছুই তো); না হয় নিছক ছিচকে চোর হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। আমি তখন আওরঙ্গদের মতন অবৈধ গোপন অস্ত্র দিয়ে গুলি চালনাও ধরে নিতে হবে শিখেছি; আবার শাকুরা বারের পাশে টেইলরে সবচেয়ে কুৎসিত রঙের কয়েক ডজন পকেট সমেত সাফারিও বানাতে দিয়েছি। সে এমনকি নিজেকে ‘ছিচকে-চোর’ হিসেবেও গড়ে তুলতে চেয়েছি। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তখন দ্বিতীয় সারির জেনারেলদের মেয়েরা যখন জীবনানন্দের কবিতাদের ‘বাংলাররূপ’ বলে দাবি করেছেন; আমি সেই সব সেমিনারে টিএসসিতে সুযোগে পেয়ে আমার পাজামার দরিতে শক্ত করে গিট দিয়ে হাওয়াই জামার হাতা গুটিয়ে সুযোগ পেয়ে বলেছি, আমার তখন বাম হাত মাউথ পিচে দিয়ে, ডান হাত আমার অবাধ্য চুলে কচলিয়ে বলেছি- ‘না আসলে জীবনানন্দ কোনোদিন বাংলার রূপের কথা বলেননি, তিনি আসলে বরিশালের রূপের কথা বলেছেন’। শ্রোতাদর্শকদের ধাঁদায় ফেলে দিয়ে খুব কৈশোরত্তীর্ণ যৌবনের তৃপ্তি বোধ করে থেকেছি। তখন যখন আমার বন্ধুরা বলেছে আমি কেন এমন সংকীর্ণতায় জীবনকে নিয়ে গেছি? আমি তখন বলে থেকেছি ‘মেয়েটি ছিলো প্রত্যাশিত নয় রকমের সুন্দরী। তাই এমন করে তার বিরোধিতা করেছি মাত্র’। আমার অমন দাবি কেউ বিশ্বাস করেছে; কেউ করেনি।

এইভাবে আমরা সামরিক তন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চেয়েছি অথবা সাফারি স্যুটও বানাতে চেয়েছি এক অজানা ভবিষ্যৎ কী হতে পারে জেনে কী না জেনে। এবং এমন এক অভিশপ্ত জীবনযাপন করেছি, সে সেই বরিশালের নাজিরের খালে জোয়ারের স্রোতে পাগলের চুবানি খাওয়া কালের প্রার্থনা কালে উচ্চারিত জীবন ছিলো যে আমাদের। যদিও এরও অনেক বছর পরে এক বন্ধু জানিয়ে ছিলো পাজামা পড়া মফস্বলীয় (বরিশাল) তরুণের একদিন ওই জীবনানন্দ প্রেমী তরুণী খুঁজেছিল। আমার বন্ধু সেই সুন্দরীকে বলে দিয়েছে ‘মফস্বলের লোকেরা মফস্বলে ফিরে গেছে…! হা হা হা। আমরা তখন মফস্বলে গিয়ে নাজিরের পোলের ওই পাগলে চুবানির জায়গা হতে উজানে কাঠের গোলায় বসে গায়ের হাওয়াই জামা খুলে, পরনের পাজামার দড়ি ঢিলা করে হিন্দকুশ পাহাড়ের পশ্চিমের উপত্যকার লোকেদের মতোন ঢোল বাজিয়ে নেচে থেকেছি; সেই আমাদের নিজস্ব পল্লী থেকে আসা বীজরা পানায়ে… হা হা হা। জীবন হলও জীবনান্দএর বাঙ্গালার রূপকে বরিশালের রূপে পরিণত করবার আপ্রাণ চেষ্টা করা…) এবং সময় সুযোগ পেলে এমনতর রবিবার সাঁঝত্তোর কালে কেন্টাকী বারবন হুইস্কি ৯০ প্রুফের খেয়ে যাওয়া… [অনভিযোগী জীবন এবং মরে না যাওয়ার আনন্দ]। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত