প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে গাজীপুরে হয়েছিল বড় ধরণের সম্মুখ যুদ্ধ

গাজীপুর প্রতিনিধি: মহান মুক্তিযুদ্ধে গাজীপুরবাসীর রয়েছে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী ঢাকায় যাওয়ার পথে (বর্তমান নাম মালেকের বাড়ী) ছয়দানা নামক স্থানে পৌঁছলে গাজীপুরে কাশিমপুর থেকে স¤ি§িলত মিত্র-মুক্তি ও কাদেরিয়া বাহিনী মর্টার ও কামানের সেল নিক্ষেপ এবং প্রচন্ড গুলি বর্ষণ করতে থাকে।

এছাড়া রাস্তার পাশের্^ ট্রেঞ্চ থেকেও বিভিন্ন গ্রুপের মুক্তিবাহিনীও গুলিবর্ষণ করতে থাকেন। এমন সম্মিলিত প্রচন্ড আক্রমণে বিপর্যস্ত পাকিস্তানী বাহিনীর কনভয়টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে সেখানে নিহত হয় ৪/৫ শত পাকিস্তানী অফিসার-সৈন্য। ধ্বংস হয় ট্যাঙ্ক, কামান-মর্টারসহ প্রচুর অস্ত্র-শস্ত্র, গোলাবারুদ ও যানবাহন। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ঢাকার কাছে এটাই ছিল বড় ধরনের একটি সম্মুখ যুদ্ধ। ফলে কার্যত ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীমুক্ত হয়ে পড়ে। সেদিন কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শত্রুমুক্ত গাজীপুরে প্রবেশ করলেও ১৬ ডিসেম্বর সকালে সম্মিলিতভাবে বিজয়ী বীর মুক্তিযোদ্ধারা জয় বাংলা ধ্বনি দিয়ে গাজীপুরে প্রবেশ করেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এর পূর্বে ১৯ মার্চ তৎকালীন জয়দেবপুরেই সংঘটিত হয়েছিল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ। সেদিন জয়দেবপুর রাজবাড়ী সেনানিবাসে অবস্থানরত দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্র করতে আসা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জয়দেবপুরের বীর জনতা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেদিনই প্রথম বাঙালিদের পক্ষ থেকে গর্জে ওঠেছিল বন্দুক। ওইদিন শহীদ হয়েছিলেন হুরমত, নিয়ামত, মনু খলিফা এবং পরে আহত অবস্থায় কানু মিয়া। এ ঘটনায় সে সময় সমগ্র বাংলাদেশে স্লোগান ওঠেছিল- “জয়দেবপুরের পথ ধর , বাংলাদেশ স্বাধীন কর”।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কাল রাত্রিতে শাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে জঘন্য গণহত্যা শুরু করে। এ অবস্থায় ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ২৯ মার্চ দুপুরে পাকিস্তানী বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে সড়ক পথে এসে জয়দেবপুর দখল করে নেয়। তখন এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সাথে ছাত্র-শিক্ষক-কৃষক-জনতা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে ভারতে চলে যান। পরে ভারতের বিভিন্ন ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে জয়দেবপুরের আশে-পাশে চলে আসেন। তারা বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানী সামরিক ক্যাম্প, স্থাপনা ও টহলরত সৈন্যদের ওপর এবং ব্রীজ, কালভার্ট, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে হামলা চালাতে থাকেন।

এসব আক্রমণ ক্রমশ জোরদার হতে থাকে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিতভাবে আক্রমণ শুরু করেন। ৩ ডিসেম্বর সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে, মুক্তিযোদ্ধারা আরও জোরালো আক্রমণ চালাতে থাকেন। ১২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা জয়দেবপুরে সম্মিলিত আক্রমণ চালালে পাকিস্তানী সৈন্যরা ভীত ও কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ১৩ ডিসেম্বর পূবাইলে মুক্তিযোদ্ধার জোরালো আক্রমণ চালায় এবং মাইন দ্বারা পাকিস্তানী সৈন্য বোঝাই ট্রেনের কয়েকটি লগি ফেলে দিলে বেশ কিছু পাকিস্তানী সৈন্য হতাহত হয়। এদিকে মুক্তিবাহিনীর জোরালো আক্রমণে ভীত হয়ে রাজবাড়ী সেনানিবাস, অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি, মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, রাজেন্দ্রপুর অর্ডন্যান্স ডিপোতে অবস্থানরত পাকিস্তানী সৈন্যরা ঢাকা পালিয়ে যেতে মনস্থ করে। তারা খন্ড খন্ড ভাবে চান্দনা-চৌরাস্তায় জড়ো হতে থাকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত