প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপরে যে আঘাত, তা গভীর ষড়যন্ত্রের একটি নমুনা’

রাজু চৌধুরী: [২] জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানে বাংলাদেশ এবং একই সূতোয় গাঁথা। জাতির পিতার ওপর আঘাত অর্থ বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত এবং সংবিধানের প্রতি অবজ্ঞা, অবমাননা।
[৩] শনিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য  ভাংচুরের প্রতিবাদে আয়োজিত চট্টগ্রাম জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের প্রতিবাদ সমাবেশে বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ বলেন, দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে ৭১ এর পরাজিত শক্তি এবং তাদের দোসররা পাঁয়তারা করছে। তাদের এই দুঃসাহস শুভ হবেনা বলে মনোভাব ব্যক্ত করেন।
[৪] তিনি বলেন, ভাস্কর্যের ওপরে যে আঘাত, তা গভীর ষড়যন্ত্রের একটি নমুনা। পাকিস্তান পন্থী পরাজিত শক্তিরাই সময়ে সময়ে সেই বিরূপ আচরণ করছে। সেই আচরণের বহিঃপ্রকাশ হলো জাতির পিতার ভাস্কর্যের প্রতি আঘাত। এর প্রতিবাদ না করলে এই শক্তি আরও বড় ধরনের অপকর্ম করার সুযোগ পাবে।
[৫] এসময় বিভাগীয় কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাস্তায় নামাবেন না। রাস্তায় নামালে আপনাদের অস্তিত্ব থাকবে না। আমরা চাই না, এই ধরণের ইস্যু নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো প্রতিবাদে হাজির হই। আমাদের কাজ সেবা দেওয়া। সেই কাজটি আমরা করতে চাই। যদি আপনারা সেই কাজটি করতে বাধা দেন, অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করেন তাহলে সরকারি কর্মচারীরা বসে থাকবে না।
[৬] তিনি আরো বলেন, যদি এই দেশে থাকতে হলে এই দেশের নীতি আদর্শকে সম্মান করতে হবে। দেশের অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোনো আচরণ নিরবে সহ্য করবে না এদেশের মানুষ।
[৭] সমাবেশে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, যারা প্রতিকৃতি ভেঙে ফেলার পাঁয়তারা করছে তাদের সকলের অতীত খুঁজে দেখেন-তাদের কী ভূমিকা ছিল। এই ঘৃণ্য শত্রুদেরকে বাঙালি জাতি বার বার পরাজিত করেছে, আগামীতেও করবে। স্বাধীনতার ৪৯ বছরে যখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করছি সেই সময়ে পরাজিত শক্তি আবারও সাহস করছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আঘাত করার। যারা বাংলাদেশ চায়নি, যারা ১৯৭১ সালে পাক হানাদারদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল, আজকেও সেই তারাই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
[৮] ডিআইজি আরও বলেন, অতীতে তারা যে ধরনের ভূমিকা পালন করেছে এখনও সেই একই ধরনের কাজ করছে। তাদের ভূমিকা ও মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
[৯] জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে চট্টগ্রামে বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বক্তব্য প্রদান করেন।
[১০] সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াস হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর উপর আঘাত মানে সার্বভৗমত্বের উপর আঘাত, আমাদের স্বাধীনতার উপর আঘাত। আমরা এদেশের নাগরিক হিসাবে এটা মেনে নিতে পারিনা। বঙ্গবন্ধুর অমর্যাদা করলে আমরা সরকারি কর্মকর্তা হলেও বসে থাকতে পারি না। সরকারি কর্মচারী হিসাবে আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত