প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনায় হতাশা, সরাইলে বেড়েছে আত্মহত্যা

আরিফুল ইসলাম: [২] করোনাভাইরাস মহামারি কাটিয়ে ওঠার পরও হতাশার কারণে দেখা দিতে পারে ‘মানসিক মহামারি’। দিনে দিনে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। কারো মধ্যে আত্মহত্যার কোনো লক্ষণ থাকলে তাকে বুঝিয়ে সে পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিলেন মনোবিদরা। পুলিশ বলছে, পারিবারিক হতাশা ও বেকারত্বের কারণেই ঘটছে অধিকাংশ ঘটনা।

[৩] ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১১ মাসের অধিক সময়ে এখানে অন্তত ২০টিরও বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এইসবে নারী আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি।

[৪] সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন মুহাম্মদ নাজমুল আহমেদ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এখানে আত্মহত্যার ঘটনা একটু বেশিই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব ঘটনা রোধে সামাজিক ও পারিবারিক ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

[৫] তিনি বলেন, এখানে এ ধরনের সব ঘটনায় থানায় মামলা রুজু হয়নি; পরিবারের অভিযোগ না থাকায় এবং বৈধ অভিভাবকদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আত্মহত্যার বেশিরভাগ মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন বা সৎকারের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থানায় চলতি বছরে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় ১০টি মামলা রুজু হয়েছে। এদের মধ্যে পুরুষ ২ জন এবং নারী ৮ জন।

[৬] পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় সরাইল থানায় সর্বশেষ অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে গত ৫ ডিসেম্বর। সরাইল সদরের পশ্চিম কুট্টাপাড়া এলাকায় সাবিকুন নাহার (২৭) নামে এক গৃহবধূ পারিবারিক কলহের কারণে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নাছির মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

[৭] এদিকে সরাইল থানা এলাকায় সর্বশেষ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে গত ৯ ডিসেম্বর। উপজেলার পানিশ্বর এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তবে পরিবারের অভিযোগ না থাকায় এবং অভিভাবকদের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই সেই স্কুলছাত্রীর মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করেন পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

[৮] মনোবিদরা বলছেন, আত্মহত্যার এই ঘটনাগুলো নতুন নয়। তবে লকডাউনের মধ্যে মানসিক হতাশা বেড়েছে। কোভিড পরিস্থিতি ভালো হলেও মানসিকভাবে সুস্থ থাকাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

[৯] সরাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা। নিজের জায়গায় থাকতে পারছে না। অর্থনৈতিক চাপ- এসব থেকেই বাড়ছে আত্মহত্যা। পরিবারের কারো মানসিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে সময় দেয়ার পরামর্শ মনোবিদদের। সম্পাদনা: সাদেক আলী

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত