প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্ববিদ্যালয় খোলা ও ক্লাস শুরু নিয়ে সিদ্ধান্ত নেই

নিউজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় নয় মাস বন্ধ রয়েছে। ফলে সেশনজট বেড়েই চলছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের অনলাইন পাঠদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও বন্ধ রয়েছে সরাসরি পাঠদান। দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনলাইন ক্লাসেও আগ্রহ কমেছে ছাত্রছাত্রীদের। এ ছাড়া বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা বন্ধ থাকায় যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট ছিল না সেগুলোতেও এখন প্রায় এক বছরের শেসনজট শুরু হয়েছে। তবে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সম্মান চূড়ান্ত বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে আগামীকাল বৈঠক ডেকেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর গতকাল এ প্রতিবেদককে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে সরকার। তাই এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য নেই ইউজিসির। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় খুললে আবাসিক হল ও শ্রেণিকক্ষে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও একাডেমিক কার্যক্রম চলছে অনলাইনে। পরীক্ষাও বন্ধ থাকবে না।

ইউজিসির এ সদস্য বলেন, রবিবার (আগামীকাল) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু হলেও বর্তমানে এ ক্লাসের গতি কমে এসেছে। এদিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলছে দায়সারাভাবে। কোর্স শেষ করতে নামেমাত্র অনলাইন ক্লাস চালু রেখেছে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ বিভাগে অনলাইনে ক্লাস চলছে। উ™ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সংকট কাটাতে ২৬ ডিসেম্বর থেকে অনার্স ও মাস্টার্সের পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এসব পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের অর্ধেক সময়ে এবং কম বিরতিতে এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ২০ ডিসেম্বর থেকে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার ও স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ডিনস কমিটির এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এসব পরীক্ষা নিতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষায় চতুর্থ বর্ষের কোর্সের ৫০ শতাংশ নম্বর বিগত তিন বছরের ফলাফলের গড় করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি ৫০ শতাংশ নম্বরের মধ্যে ২০ নম্বরের মৌখিক, চতুর্থ বর্ষের অনুশীলনী পরীক্ষার ওপর ২০ নম্বর ও উপস্থিতির ওপর ১০ নম্বর রাখার প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সব বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের পরীক্ষা সম্পন্নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, করোনা প্রকোপ শুরুর দিকে কিছু বিভাগে অনলাইন ক্লাস শুরু হলেও ক্রমে তা কমেছে। বর্তমানে অধিকাংশ বিভাগে এ ক্লাস হচ্ছে না। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যাপারে ভাবলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের পরীক্ষা গ্রহণের দাবি তুলেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে তারা সম্প্রতি উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

আমাদের প্রতিবেদক জানান, শিক্ষার্থীরা বলছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ প্রকাশ করলেও ইবি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর প্রথমদিকে বেশির ভাগ বিভাগে অনলাইন ক্লাস শুরু হলেও তা গতি পায়নি। যেগুলোতে অনলাইন ক্লাস হচ্ছে সেগুলোতেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। কিছু বিভাগ অনলাইনে কোর্স শেষ করলেও পরীক্ষা না হওয়ায় শেসনজট বাড়ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর প্রথমদিকে পুরোদমে অনলাইন ক্লাস চললেও এখন চলছে দায়সারাভাবে। কোনো বিভাগ নিচ্ছে, কোনো বিভাগ নিচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও কমে গেছে ক্লাসগুলোতে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগে দুই থেকে আড়াই বছরের শেসনজট রয়েছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বাংলা, ইংরেজি, ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞানসহ প্রায় সবকটি বিভাগেই সেশনজট বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষ প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী রাব্বী হাসান সবুজ এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ইউজিসির নির্দেশনা থাকলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এ বিভাগে বর্তমানে দুই বছরের সেশনজট চলছে। জানা গেছে, বিভিন্ন বর্ষের স্থগিত পরীক্ষার দাবিতে শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি আন্দোলন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

এ ছাড়া কভিড-১৯ এর কারণে স্থগিত হওয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ও প্রফেশনাল কোর্সের (বিবিএ, সিইসি, বিএড অনার্স, ইসিই) অষ্টম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসব পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত