প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাদাত হোসেন: পদ্মা সেতু- বাংলাদেশের স্বপ্ন, সাহস ও সক্ষমতার গল্প

সাদাত হোসেন: সেই এতোটুকু বয়স থেকে শুনতাম, পদ্মা সেতু হইলে। তারপর আব্বা, চাচা বা গ্রামের কতোজন যে তুমুল আফসোসের স্বরে বলে যেতেন পদ্মা সেতু হলে কী কী হতে পারতো। ছোটবেলায় বহুবার বাপ-চাচাদের আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলতে শুনেছি, ‘আরেহ, আমাগো বাড়ি কি ঢাকারতন দূরে নি? পদ্মা বিরিজ হইলে বেইন্না বেলা বাড়িরতন গিয়া ঢাকায় অফিস কইরা আবার দিনে দিনে বাড়ি ফেরন যাইবো’। এই একটা সেতু নিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন, আশা-আকাক্সক্ষা, মিথ, ইমোশন ঠিক কোন পর্যায়ের, তা এ থেকেই স্পষ্ট। এই অনুভব মিলেমিশে একাকার হয়ে ছিলো অসংখ্য মানুষের বুকের ভেতর। এসব শুনতে শুনতেই আমরা বেড়ে উঠি, বড় হই, তারা বুড়ো হন। মিরপুর, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর থেকে তিনঘণ্টার জ্যাম ঠেলে সদরঘাট যাই, সেখান থেকে আরও দশ ঘন্টা লঞ্চে বসে থেকে বাড়ি যাই, ঘন্টার পর ঘন্টা মাওয়া – আরিচা ফেরির জন্য বসে থাকি, রাত ভোর হয়ে যায়, সকাল হয় সন্ধ্যা, গভীর রাত। এইসব চূড়ান্ত দুর্ভোগের কালে সেইসব আফসোসের দংশন আরও বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে বয়স ও দীর্ঘশ্বাসও। আমাদের টগবগে তরুণ বাবা-চাচারা বৃদ্ধ হতে থাকেন। কিন্তু পদ্মা সেতুর ওই আক্ষেপ- আফসোস আর ঘোচে না। কখনো ঘুচবে বলেও মনে হয় না। মনে হয় এ যেন আদি ও অকৃত্রিম, অমোচনীয় ও অপরিবর্তনশীল এক আক্ষেপের নাম । হয়তো এই আক্ষেপ নিয়েই কেটে যাবে আমাদের জীবনও। আমাদের সন্তানদেরও। আজ তাই চোখের সামনে আস্ত এক পদ্মা সেতুর অবয়ব দেখেও স্বপ্ন মনে হয়। এ তো স্বপ্নের সেতুই! দুঃস্বপ্নের দীর্ঘ দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তির সেতু। এই সেতু আমাদের। বাংলাদেশের। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ধন্যবাদ বাংলাদেশের মানুষ। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত