প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চীন ষড়যন্ত্র করছে, ভারতীয় পত্রিকার দাবি

মাছুম বিল্লাহ: [২] বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে ইসলামপন্থীদের হুমকি এবং মৌলবাদীদের উত্থান বাংলাদেশের জন্য আশনি সংকেত উল্লেখ করে ভারতীয় দৈনিক যুগশঙ্খ এক নিবন্ধে লিখেছে, মৌলবাদীদের পেছনে কিছু বিদেশি শক্তি রয়েছে। সবার ওপরে রয়েছে চীন। ভারতবন্ধু আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি দমন করা যাচ্ছে না, তাই সরকারকে বিব্রত করতে এইসব ষড়যন্ত্র করছে।

[৩] শুক্রবার পত্রিকাটিতে প্রবীণ সাংবাদিক অতীন দাস এক নিবন্ধে লিখেছেন, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকায় প্রকাশিত আমার একটি নিবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘সাপের মুখে চুমু খাচ্ছেন শেখ মুজিব’। বর্তমানে মৌলবাদীদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন তার কন্যা শেখ হাসিনা।

[৪] যুগশঙ্খে লেখা হয়েছে, স্বাধীনতার পর অনেকবারই বাংলাদেশ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। কিন্তু এবার মোক্ষম হাতিয়ার নিয়ে নেমেছে বিদেশি শক্তি। ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে অবধারিত গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে দেশকে। অঙ্কুরেই কড়া হাতে ওদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে।

[৫] নিবন্ধে লেখা হয়েছে, ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে শেখ হাসিনা তিন দফায় ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু পূর্বসুরিদের মতো সংবিধানের সাম্প্রদায়িকীকরণের ব্যাপারে নিশ্চুপ। এ ব্যাপারে কোনও পরিবর্তন আনা যে সম্ভব নয়, আকারে-ইঙ্গিতে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা একটা বড় শক্তি হয়ে ওঠায় তাদের সঙ্গে আপস করতে হচ্ছে শেখ হাসিনাকে। মৌলবাদী ধর্মান্ধদেরও অনেকেই এখন আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায়। আওয়ামী ওলামা লীগ প্রকাশ্যেই ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধী, পূজায় সরকারি অনুদান বন্ধ করাসহ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। জামায়াতকে মোকাবেলার নামে ‘হেফাজতে ইসলাম’ সংগঠনটি আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায়ই গড়ে উঠেছে বলে অনেকে মনে করেন।

[৬] সেখানে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায়শই চীনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন, দেশের উন্নয়ন প্রয়াসে নাকি চীন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শক্তি। তিনি হয়তো জানেন না বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সহযোগী চীন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের হয়ে ওকালতি করেছে, চীন কমিউনিষ্ট পার্টি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তাদের দলিলে উল্লেখ করেছিল একটি ছোট জাতিগোষ্ঠীর নাশকতামূলক কাজ হিসেবে। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকা পর্যন্ত চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু সম্পর্কে চীনের মন্তব্য ছিল, ‘বাংলাদেশের জাতীয় স্বতন্ত্র রক্ষায় এই হত্যাকাণ্ড এক ইতিবাচক পদক্ষেপ।’ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পনেরো দিনের মধ্যেই চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। চীনের মুসলমানদের ওপর অকথ্য অত্যাচার, মসজিদ ধ্বংস, কোরআন বিকৃতি, অখাদ্য খাওয়ানোর অভিযোগেও বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা টু শব্দ করে না। ভারত সীমান্তে চোরাকারবারি মারা পড়লেই মিছিল বেরোয়। মৌলবাদীরা অন্ধ, সুযোগসন্ধানী এবং শক্তের ভক্ত। বাংলাদেশে যারা ক্ষমতাসীন, তাদের ইতিহাস থেকে অনেক কিছুই শিক্ষণীয় আছে, যারা ইতিহাস থেকে শেখে না তারা ধবংস হয়।

সর্বাধিক পঠিত