প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘জোছনা’, যার হাত ধরে স্বাবলম্বী তিন শতাধিক নারী

তৌহিদুর রহমান : ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ তারুয়া গ্রামের জীবন সংগ্রামি মেয়ে জোছনা। কোন বাঁধাই যাকে দামাতে পারেনি । গ্রামের অবহেলিত, অধিকার বঞ্চিত নারীদের ভরসাস্থল সে। তার হাত ধরেই স্বাবলম্বী হয়েছেন তিন শতাধিক নারী।

উপজেলার তারুয়া গ্রামের প্রয়াত দরিদ্র কৃষক আবু তাহের চৌধুরী ও হালিমা দম্পত্তির চার মেয়ে ও এক ছেলের মাঝে জোছনা চৌধুরী দ্বিতীয়। একমাত্র ভাই শারীরিক প্রতিবন্ধী। বাবা এক সময় মোটামুটি স্চ্ছল কৃষক হলেও ৯০ এর দশকে নানা কারণে পড়ে যান দৈন্যদশায়। অভাবের কারণেই ১৯৯৭ সালে ৯ম শ্রেণিতেই সমাপ্তি হয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার। দরিদ্র বাবার সংসারে অভাব ঘোচানো, ভাইবোন ও নিজের ভবিষৎ গড়ার আশায় প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটি ছাগল বর্গা নেন তিনি।

এক বছর পর নিজের ভাগে পান একটি ছাগল ছানা। এটা বিক্রি করে হাতে পান মাত্র ৭০০ টাকা। এ টাকায় নেন সেলাই প্রশিক্ষণ ও কিনেন কিছু কাপড়, ফিতা ও কাচি। কিছু দিন পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৩ হাজার টাকায় কিনেন সেলাই মেশিন ও ১ হাজার টাকার কাপড়। নিজের কাজের ফাঁকে ফাঁকে গ্রামের নারীদের দিতে শুরু করেন সেলাই প্রশিক্ষণ।

২০০৪ সালে বিউটি র্পালারের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের বাড়ি এবং সদর উপজেলার ছোট হরন বাজারে গড়ে তোলেন দুটি বিউটি পার্লার। যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে ছোটবোন আছমাসহ পাঁচজন বেকার নারীর। সততা মেধা ও দক্ষতার সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অল্প সময়ের ব্যবধানে আসে মোটামুটি আর্থিক সচ্ছলতা। তবে কেবল নিজের ও পরিবারের স্চ্ছলতার মাঝেই তিনি থেমে যাননি। তিনি নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পর গ্রামের অসহায়, দরিদ্র ও অধিকার বঞ্চিত নারীদের দিয়ে যাচ্ছেন সেলাই ও বিউটি পার্লারের প্রশিক্ষণ।

জোছনা চৌধুরী বলেন, তার ঘরে এখন ছয়টি মেশিনে পালাক্রমে ২০ জন নারী কাজ করেন। তাছাড়া বিভিন্ন গ্রামের আরো অন্তত ৩০ জন নারী তার নির্দেশনায় ও চাহিদা মোতাবেক সেলাই কাজ করে। তাদের সেলাই করা কাপড় বেশ কয়েকজন হকার ও দোকানের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার ও সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিক্রি করা হয়। এতে সবার বেতন ও খরচ মিটিয়ে মাসিক ২০-৩০ হাজার টাকায় আয় হয়। ২০১২ সালে গড়ে তুলেন ‘আশার আলো’ সংগঠন।

মহিলা অধিদফতরের তালিকাভুক্ত এ সংগঠনের মাধ্যমে অন্তত সেলাই ও বিউটি পার্লারের প্রশিক্ষণ ছাড়াও গ্রামীণ নারীদের গবাদি পশু ও হাঁস মুরগি পালন ও শাকসবজি উৎপাদনের তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। সহায়তা নিয়েছেন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের। স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭ সালে পেয়েছেন ‘জয়িতা’ সম্মাননা ও পদক।

জৌছনা চৌধুরীর সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে আমেনা বেগম বলেন, স্বামী বিয়ে করে অন্য জায়গায় সংসার করছে। তিনি শাশুড়ির সঙ্গে তিন সন্তান নিয়ে আছেন। ছেলে-মেয়ে ও নিজের কথা ভেবে এখানে সেলাই কাজ শিখছেন। তিনি জোছনাকে হতাশার মাঝে আলো হিসেবে দেখছেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত