প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোকা-কোলা পেপসি নেসলের প্লাস্টিক দূষণে মহাসংকটে পৃথিবী

দেশ রিপোর্ট: দীর্ঘ সময় পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করে যাচ্ছেন প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, এরই মধ্যে পৃথিবীর জন্য মহা এক সংকটে রূপ নিয়েছে প্লাস্টিক সমস্যা। কিন্তু এসব আন্দোলন এবং সতর্কবার্তা শোনার মতো কোথাও যেন কেউ নেই। বারবার বলার পরও প্লাস্টিক পণ্য বাজারে আনা বন্ধ হচ্ছে না। বিশ্বের শীর্ষ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদনকারীর তালিকার দিকে তাকালেই চিত্রটা আরো বেশি স্পষ্ট হবে। টানা তৃতীয় বছর প্লাস্টিক দূষণকারীর তালিকায় সবার ওপরে অবস্থান করছে কোকা-কোলা, পেপসিকো ও নেসলে। এমনকি প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাসের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতি ‘শূন্য’ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

‘ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক’-এর করা বার্ষিক অডিট প্রতিবেদনের তালিকায় অনুমেয়ভাবে সবার ওপরে স্থান পেয়েছে কোকা-কোলা। জরিপ করা ৫৫ দেশের ৫১টিতেই জনপ্রিয় এই কোমল পানীয়র বোতলগুলো সমুদ্রসৈকত, নদীর তীর এবং অন্যান্য স্থানে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। আগের বছর একই ধরনের জরিপ করা হয়েছিল ৫১টি দেশে। যেখানে ৩৭টি দেশের মাঝে এমন চিত্র উঠে এসেছিল। পরিসংখ্যানই বলছে, আগেরবারের শীর্ষস্থান বদলানোর কোনো তাগিদই ছিল না কোকা-কোলার। পরিবেশবাদী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেও প্লাস্টিক পণ্য বর্জনে উদ্যোগী হয়নি কোম্পানিটি। বরং জনপ্রিয়তার দোহাই দিয়ে এ বছরের শুরুতে তারা প্লাস্টিক পণ্য বর্জন করবে না বলে ঘোষণা দেয়। এই অবহেলা ও উদাসীনতায় পরিস্থিতি আরো শোচনীয় হয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্যও তৈরি করছে উদ্বেগ।

কোমল পানীয় হিসেবে জনপ্রিয়তার লড়াইয়ে কোকা-কোলার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই পেপসিকোর। বর্জ্যের লড়াইয়েও কাছাকাছি অবস্থানে আছে কোকা-কোলা ও পেপসির মানিকজোড়ের। যদিও পরিসংখ্যানে পেপসিকো বেশ খানিকটা পিছিয়ে রয়েছে। যেখানে কোকা-কোলা ব্র্যান্ডের ১৩ হাজার ৮৩৪ পিস প্লাস্টিকের দেখা মিলেছে, সেখানে পেপসিকোর ব্র্যান্ডিং করা পণ্য ছিল ৫ হাজার ১৫৫টি এবং নেসলের ছিল ৮ হাজার ৬৩৩। অর্থাৎ পেপসি ও নেসলে মিলেও কোকা-কোলার সমপরিমাণ বর্জ্য উৎপাদন করতে পারেনি।

বার্ষিক এই অডিটে বিশ্বব্যাপী ১৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী একযোগে কাজ করেছেন, যারা বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর বিশাল পরিমাণ প্লাস্টিক পণ্য চিহ্নিত করেছেন। এ বছর তারা সংগ্রহ করেছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৪ পিস প্লাস্টিক বর্জ্য।

এদিকে গত মার্চে টিয়ারফান্ড নামে এক এনজিও সংস্থার জরিপে দেখা গেছে ছয়টি উন্নয়নশীল দেশে কোকা-কোলা, পেপসিকো, নেসলে ও ইউনিলিভার অর্ধমিলিয়ন টন প্লাস্টিকদূষণের জন্য দায়ী।

ব্রেক ফ্রি ফ্রিম প্লাস্টিক আন্দোলনের বৈশিক সমন্বয়ক এমা প্রিস্টল্যান্ড বলেন, বিশ্বের শীর্ষ দূষণকারী সংস্থাগুলো দাবি করেছে যে তারা প্লাস্টিকদূষণের সমস্যা সমাধান করার জন্য কঠিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে। কিন্তু তারা ক্ষতিকারক একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জনের পরিবর্তে সেগুলোর প্যাকেজিং অব্যাহত রেখেছে।

প্রিস্টল্যান্ড বলেন, বৈশ্বিকভাবে প্লাস্টিক পণ্যের এই সর্বগ্রাসী থাবা থামানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে উৎপাদন বন্ধ করা এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য পদ্ধতিকে সামনে নিয়ে আসা। কোকা-কোলা, পেপসিকো ও নেসলের উচিত গ্রাহকের কাছে তাদের পণ্য পৌঁছানোর ব্যাপারে সত্যিকারের সমাধান খুঁজে বের করা।

২০১৭ সালের একটি সমীক্ষা বলছে, উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্যের ৯১ শতাংশ কখনই পুনরায় ব্যবহার করা হয়নি এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এগুলোর সমাপ্তি ঘটেছে ভাগাড়ে পুড়িয়ে ফেলা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে মিশে যাওয়ার মাধ্যমে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্জ্য সংগ্রাহক সংস্থার সমন্বয়ক সিমন এমবাটা বলেন, যেসব প্লাস্টিক আমরা সংগ্রহ করি, তার বেশির ভাগই পুনর্ব্যবহার অযোগ্য। এগুলো আমরা সব জায়গাতেই দেখতে পাই। যখন এগুলোকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয় তখন তা মাটিকে দূষিত করে। যা কিছু পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয়, তা উৎপাদন করাও উচিত না।

সূত্র : বণিক বার্তা

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত