প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোগীর ভালবাসা : আমার দুইটা পালা হাঁস রান্না করে এনেছি

ডেস্ক রিপোর্ট : সপ্তাহ দুই আগে কবিরহাট থেকে এক রোগী এসেছিলেন আমার কাছে। পঁচিশ সপ্তাহের গর্ভবতী। মুখের মধ্যে তালুতে একটা বড় টিউমার নিয়ে ঘুরছেন গত তিন মাস যাবৎ। সারা মুখে সারাক্ষণ ব্যথা, কিছুই খেতে পারেননা। টিউমার থেকে প্রায়ই রক্ত বের হয় ইদানিং। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করে নানান ধরনের এন্টিবায়োটিক সহ অনেক ঔষধ খেয়েছেন। হোমিও, কবিরাজি ও শেষ করেছেন। কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা। অনেকে ভয় দেখিয়েছেন ক্যান্সার হয়েছে। জীবন শেষ।

অবশেষে কবিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রেফার্ড হয়ে আমাদের কাছে আসে। আমরা ডায়াগনোসিস করি “প্রেগন্যান্সি ইপিউলিস” হিসেবে। আকারে ছোট থাকলে এবং অন্য কোনো অসুবিধা না হলে পেশেন্টের ডেলিভারির পর অনেক ক্ষেত্রে এগুলো আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যায়। শুধু ওরাল হাইজিন ভালো রাখা ছাড়া তেমন কোনো চিকিৎসা লাগেনা। তবে বড় আকারের টিউমার হলে এবং ফাংশনাল প্রবলেম হলে সার্জারি করা লাগে।

টিউমারের সাইজ, লোকেশন, প্রেগন্যান্সি স্ট্যাটাস বিবেচনা করে আমরা অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিই। দশ দিন আগে ডেন্টাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বহিঃবিভাগ, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল নোয়াখালীতে সার্জারি করি।

আজকে রোগী এসেছিলেন ফলোআপে। আলহামদুলিল্লাহ, রোগী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। মুখের ব্যথা চলে গেছে, খাওয়াদাওয়া ও স্বাভাবিক। চেহারাও খুব খুশি খুশি। উনাকে আরো কিছু পরামর্শ দিয়ে বিদায় দিই। কিন্তু বিদায় দেয়ার পরেও দেখি উনি বসে আছেন। কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে বললেন, “স্যার কিছু মনে করবেন না। আমি আপনার জন্য আমার নিজ হাতে রুটি বানিয়েছি। আমার দুইটা পালা হাঁস রান্না করে এনেছি। আপনি যদি খান, আমি অনেক খুশি হবো।”

আমি সাধারণত এগুলো এভয়েড করি। তাই খুব শক্তভাবে ঝাড়ি দিতে গেলাম, কিন্তু উনার মুখের দিকে তাকিয়ে থেমে গেলাম। উনার খুশি খুশি মুখে আবদার মেশানো লাজুক হাসি। আমি ঝাড়ি দিলে হয়তো উনার এই হাসিটা মিলিয়ে যাবে, কষ্ট পাবেন। তাই বললাম, “ঠিক আছে। তবে এত কষ্ট করে আপনার এই শারীরিক অবস্থায় এগুলো না করলেই ভালো হতো। দোয়া করবেন। ভালো থাকবেন।”

আউটডোরে রোগী শেষ করে, আমাদের টেকনোলজিস্ট আব্দুল হান্নান ভাই, ম্যাটসের ইন্টার্নি আতিক, আইমান, দপ্তরি জুয়েল সহ সবাই মিলে তৃপ্তি নিয়ে চালের রুটি আর ঝাল ঝাল হাঁসের মাংস খেয়ে রোগী আর তাঁর অনাগত সন্তানের জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করলাম।

ডাক্তারি জীবনের অনেক অপ্রাপ্তি, অনুযোগ, বঞ্চনার মাঝে এ ছোটো ছোটো ঘটনাগুলোই আমাদের প্রাপ্তি, লাইফলাইন, অক্সিজেন। কাগুজে কিছু নোট নয়, রোগীদের এই অকৃত্রিম ভালবাসাটুকুই আমাদের সত্যিকারের প্রণোদনা।
-ডা.আরেফিন রুশো

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত