প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জুম্মার দিনে মুসলিমদের জোরপূর্বক শুকর খাওয়ালো চীন

অনলাইন ডেস্ক : চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে লাখ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দিশিবিরে আটকে দেশটির সরকার কর্তৃক নির্যাতনের খবর নতুন নয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা সময়ে এই সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে।

সম্প্রতি ফের আল জাজিরার প্রতিবেদনে এলো চাঞ্চল্যকর খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিমদের পবিত্র জুমার দিন শুক্রবার সেখানকার উইঘুর মুসলানদের জোরপূর্বক শূকরের মাংস খাওয়াচ্ছে চীন।

শিনজিয়াংয়ের বন্দিশিবির থেকে প্রায় দুই বছর আগে মুক্তি পান সায়রাগুল সাউতবে। তবে বন্দীকালে সহ্য করা অপমান ও সহিংসতা তাকে এখনো তাড়া করছে। পেশায় চিকিৎসক এবং শিক্ষক সায়রাগুল সাউতবে বর্তমানে সুইডেনে বসবাস করছেন।

তিনি সম্প্রতি একটি বই প্রকাশ করেছেন। বইয়ে বন্দীকালে নিজ চোখে দেখা প্রহার, নিপীড়ন, যৌন নির্যাতন ও সহিংসতার বর্ণনা দিয়েছেন সায়রাগুল।

এছাড়া সম্প্রতি সায়রাগুল সাউতব আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাতকারে উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম সংখ্যালঘুদের সঙ্গে ঘটা নির্মম এবং অমানবিক আচরণ নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি সাক্ষাৎকারে মুসলিমদের যে জোরপূর্বক শুকর খাওয়ানো হচ্ছে সেটিও বর্ণনা করেছেন।

সাউতবে বলেন, প্রতি শুক্রবার আমাদের জোর করে শুকরের মাংস খাওয়ানো হত। তারা ইচ্ছাকৃত এমন একটি দিন নির্বাচন করেছে যেটি মুসলিমদের জন্য পবিত্র দিন। কেউ যদি শুকর খেতে অস্বীকৃতি জানাতো তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ।

তিনি আরও জানান, মূলত এমন নিয়ম মুসলিম বন্দীদের মধ্যে অপমান ও লজ্জা তৈরির জন্য করা হয়েছিল। তাই খাবার গ্রহণ কালের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

সাউতবে আরো বলেন, আমার মনে হত আমি অন্য কেউ। আমার চারপাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সত্যিই তা মেনে নেওয়া আমার জন্য খুবই কষ্টকর ছিল।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের (এএসপিআই) রিপোর্টে দাবি করা হয়, শিনজিয়াং প্রদেশের হাজার হাজার মসজিদ একেবারে গুঁড়িয়ে বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ করে দিয়েছে চীন। সেইসঙ্গে প্রায় ১০ লক্ষ মুসলিমকে জোরপূর্বক তাদের ধর্মীয় আচার পালন ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এছাড়া জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বহু আগে অভিযোগ করা হয়, ১০ লাখের বেশি উইঘুর মুসলিমকে বন্দিশিবিরে আটকে রেখেছে চীন। আল জাজিরা, বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত