প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুনমুন শারমিন শামস: পুরুষ ভাবে মেয়েরা তাদের জন্য সাজে, তাদের ভাবনার ভেতরে একটা দম্ভভরা তৃপ্তি আছে!

মুনমুন শারমিন শামস্: গত তিন মাস ধরে আমি জানি না, নিজের যত্ন নেওয়া বলে যে একটা জিনিস আছে। গত তিন মাস ধরে আমার নখ ভেঙে ভেঙে পড়ে, যখন আর সহ্য করা সম্ভব না, তখন নেইল কাটার খুঁজে এনে ভোতা মোতা করে কাটি। খুব বেশি আঠালো হয়ে উঠলে চুলে শ্যাম্পু করি, নয়তো একটা হেয়ার অয়েল দিয়েই স্নান সারি। নেপাল থেকে আসার সময় বেশ কিছু ভালো ফেস মাস্ক আর ক্রিম ট্রিম কিনেছিলাম। সেগুলো সবই প্রায় আস্ত আছে। শুধু ফেসওয়াশ শেষ। আয়নার সামনে দাড়ালে টের পাই, চোখের নিচে ক্লান্তি। এমনকি রেগুলার আমি দুটি ওষুধ খাই, ক্যালসিয়াম, ওমেগা থ্রি খাই-সেসবও বাদ পড়ে যাচ্ছে। বাদ মানে বাদ। দিনের পর দিন মনেও থাকে না। গত তিন মাস ধরে আমি খালি গুছাচ্ছি, এখানকার জিনিস ওখানে নিচ্ছি, বাজার যাচ্ছি, আনছি, গুছাচ্ছি, রান্না করছি, ধুচ্ছি আর মুসছি। আর এর বাহিরে কয়েক ঘণ্টা ফেমিনিস্ট ফ্যাক্টরের কাজ করছি। এর সঙ্গে গত দু সপ্তাহ ধরে যোগ হয়েছে মেয়েকে পড়ানো। দিনে অন্তত তিন ঘণ্টা তাতে যায়। আমি ঘুম থেকে উঠি আটটায়। এরপর সারাদিনে আমার বসারও টাইম থাকে না। বসার সুযোগ পেলে ল্যাপটপ নিয়ে বসি। চোখের সামনে কয়েকটা বই। এগুলা পড়ার তৃষ্ণা মনের ভেতরে। সেই তৃষ্ণা আর মেটে না। বই অমনি পড়ে থাকে। যেহেতু এখন বেড়ানোর কোনো সুযোগ নেই, সময়ও নেই,তাই আলু কিনতে গেলেও আমি বেশ সেজেটেজে যাই। ওই দশ মিনিটের সাজটুকুই আমার সপ্তাহান্তের রিফ্রেশমেন্ট। অফিশিয়াল কিছু কাজ চলছে। সেগুলো অনলাইনেই বেশি, এর বাহিরে কারু সঙ্গে মিটিং থাকলে সেটাও আমি খুব উৎসাহ নিয়া সেজেগুজে যাই। সারাদিন বান্দিগিরির পর ওই ১০ মিনিটের সাজ নিজেকে আদর করার মতো। আর কিছু না। পুরুষ ভাবে মেয়েরা তাদের জন্য সাজে। পুরুষের এই ভাবনাটার ভেতরে একটা দম্ভভরা তৃপ্তি আছে । অথচ সত্য হল এই যে, মেয়েরা অধিকাংশ সময় নিজের জন্যই সাজে।

আমি নিজের যত্ন করা মানুষ। নিজের যত্ন মানে শুধু সাজগোজ না। নিজের শরীর আর মনের যত্ন নেওয়া। আমি যেন কারু উপর নির্ভর না করে নিজের শারীরিক ও মানসিক শক্তিতে বহুকাল চলতে পারি, সেই জন্যই নিজের যত্ন নেওয়া দরকার। যখন নিজের শরীর আর মনের যত্ন নিতে পারিনা, তখন আমার হাত দিয়ে সৃষ্টিশীল কোনো কাজও বের হয় না। একটা ভাল লেখা লিখার আগে আমাকে তাই প্রচুর পড়তে হয়, নিজের ভেতরে ডুবে থাকতে হয়, প্রচুর সময় নিয়ে স্নান করতে হয়, খেতে হয়, হাসতে হয়, ভালোবাসতে হয়। এই যে আমি তিন মাস নিজের যত্ন নিই না, এই জিনিস আমি পুষায়ে নেব। নিজেরে আমি কোনোদিন অবহেলা করি না। অপমান, অবজ্ঞা করি না। আমার নিজের কাছে আমি খুব মূল্যবান। তাই আমি নিজের সব ক্ষয়ক্ষতি নিজের হাতে পূরণ করি। নিজেরে নিজেই আদর যত্ন করি,ভালবাসি। নিজেকে ভালবাসতে পারলেই আশে-পাশে সবাইকে ভালোবাসা যায়। নিজেকে অবজ্ঞা অবহেলা অযত্ন করে ফুরায়ে ফেলে যদি কেউ অন্যকেই শুধু ভালোবাসা বিলানোর প্ল্যান করেন, তবে শেষাব্দি সেই ভালোবাসায় ক্লান্তি আসে, হিসাব-নিকাশ আসে, বিরক্তি আর অভক্তিও আসে। অন্যকে বিলানোর আগে তাই নিজের জন্য অনেকখানি ভালোবাসা আলাদা করে রাখতে হয়। নভেম্বর তো গেল আপন মনে। বছরের শেষ মাসটুকু নিজেকে আবার গুছায়ে নেওয়ার। নিজের কাছে ফেরার। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত